চুয়াডাঙ্গা ১০:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৮৮ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ মুনাফা, দর্শনা কেরু এ্যান্ড কোম্পানির রেকর্ড অর্জন

Padma Sangbad
২৮

দৈনিক পদ্মা সংবাদ ডেস্ক।।
দেশের সব চিনিকলে যখন লোকসানের ভার, তখন ব্যতিক্রমী সাফল্য দেখিয়েছে দর্শনার কেরু এ্যান্ড কোম্পানি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি ১৯০ কোটি টাকার রেকর্ড মুনাফা অর্জন করেছে, যা ১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ৮৮ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

বিএসএফআইসির অধীনে ১৫টি চিনিকলের মোট পুঞ্জীভূত লোকসান দাঁড়িয়েছে ৬৫৬ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৭৮ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে জয়পুরহাট চিনিকলে। সেখানে একমাত্র ব্যতিক্রম কেরু।

মূল পণ্য চিনি উৎপাদনে ৬২ কোটি টাকার বেশি লোকসান গুনেও প্রতিষ্ঠানটি সামগ্রিকভাবে অর্জন করেছে ১২৯ কোটি ৪৪ লাখ ৭৮ হাজার টাকার নিট মুনাফা। এ সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছে ডিস্টিলারি বিভাগ, যেখানে শুধু মদ বিক্রি থেকেই এসেছে ১৯০ কোটি আট লাখ ২৯ হাজার টাকার আয়। এ ছাড়া সরকারকে ১৪০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা রাজস্ব ও ভ্যাট প্রদান করা হয়েছে।

এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান। মাত্র ১ বছর ৮ মাস দায়িত্ব পালন করেই তিনি বদলে দিয়েছেন পুরো চিত্র। সিন্ডিকেট ও টেন্ডার বাণিজ্যসহ নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়া, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, সীমানা প্রাচীরে কাঁটাতার বসানো, ডিস্টিলারিতে অটোমেশন চালু এবং আধুনিক বোতলজাত প্রক্রিয়া গ্রহণের ফলে উৎপাদন ও বিক্রি উভয়ই বেড়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কড়াকড়িতে বিদেশি মদের আমদানি কমে যাওয়ায় স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত মদের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ঢাকা ও সিলেটের শ্রীমঙ্গলের গুদামগুলো অর্ডারের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে।

ডিস্টিলারি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক রাজিবুল হাসান জানান, অটোমেশন চালু এবং আধুনিক বোতলজাত প্রক্রিয়া গ্রহণের ফলে উৎপাদন ও পণ্যের মান উভয়ই উন্নত হয়েছে, যা এ রেকর্ড মুনাফার মূল কারণ।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান বলেন, কেরু যাত্রা শুরুর পর থেকে এত মুনাফার মুখ দেখেনি। আখের মূল্য বৃদ্ধি, ভালো মানের বীজ নির্ধারণ ও আধুনিক কৃষি পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে চিনিকলের লোকসানও কমে আসবে এবং আগামীতে তা লাভজনক হিসেবে রূপান্তরিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। শিল্পমন্ত্রী, শিল্প সচিব ও বিএসএফআইসি চেয়ারম্যানের দিকনির্দেশনায় আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে আখচাষি, ডিলার, শ্রমিক-কর্মচারি ও কর্মকর্তাদের নিয়ে সর্বোচ্চ সাফল্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

আপডেট : ১০:৪০:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

৮৮ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ মুনাফা, দর্শনা কেরু এ্যান্ড কোম্পানির রেকর্ড অর্জন

আপডেট : ১০:৪০:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
২৮

দৈনিক পদ্মা সংবাদ ডেস্ক।।
দেশের সব চিনিকলে যখন লোকসানের ভার, তখন ব্যতিক্রমী সাফল্য দেখিয়েছে দর্শনার কেরু এ্যান্ড কোম্পানি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি ১৯০ কোটি টাকার রেকর্ড মুনাফা অর্জন করেছে, যা ১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ৮৮ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

বিএসএফআইসির অধীনে ১৫টি চিনিকলের মোট পুঞ্জীভূত লোকসান দাঁড়িয়েছে ৬৫৬ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৭৮ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে জয়পুরহাট চিনিকলে। সেখানে একমাত্র ব্যতিক্রম কেরু।

মূল পণ্য চিনি উৎপাদনে ৬২ কোটি টাকার বেশি লোকসান গুনেও প্রতিষ্ঠানটি সামগ্রিকভাবে অর্জন করেছে ১২৯ কোটি ৪৪ লাখ ৭৮ হাজার টাকার নিট মুনাফা। এ সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছে ডিস্টিলারি বিভাগ, যেখানে শুধু মদ বিক্রি থেকেই এসেছে ১৯০ কোটি আট লাখ ২৯ হাজার টাকার আয়। এ ছাড়া সরকারকে ১৪০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা রাজস্ব ও ভ্যাট প্রদান করা হয়েছে।

এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান। মাত্র ১ বছর ৮ মাস দায়িত্ব পালন করেই তিনি বদলে দিয়েছেন পুরো চিত্র। সিন্ডিকেট ও টেন্ডার বাণিজ্যসহ নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়া, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, সীমানা প্রাচীরে কাঁটাতার বসানো, ডিস্টিলারিতে অটোমেশন চালু এবং আধুনিক বোতলজাত প্রক্রিয়া গ্রহণের ফলে উৎপাদন ও বিক্রি উভয়ই বেড়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কড়াকড়িতে বিদেশি মদের আমদানি কমে যাওয়ায় স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত মদের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ঢাকা ও সিলেটের শ্রীমঙ্গলের গুদামগুলো অর্ডারের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে।

ডিস্টিলারি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক রাজিবুল হাসান জানান, অটোমেশন চালু এবং আধুনিক বোতলজাত প্রক্রিয়া গ্রহণের ফলে উৎপাদন ও পণ্যের মান উভয়ই উন্নত হয়েছে, যা এ রেকর্ড মুনাফার মূল কারণ।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান বলেন, কেরু যাত্রা শুরুর পর থেকে এত মুনাফার মুখ দেখেনি। আখের মূল্য বৃদ্ধি, ভালো মানের বীজ নির্ধারণ ও আধুনিক কৃষি পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে চিনিকলের লোকসানও কমে আসবে এবং আগামীতে তা লাভজনক হিসেবে রূপান্তরিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। শিল্পমন্ত্রী, শিল্প সচিব ও বিএসএফআইসি চেয়ারম্যানের দিকনির্দেশনায় আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে আখচাষি, ডিলার, শ্রমিক-কর্মচারি ও কর্মকর্তাদের নিয়ে সর্বোচ্চ সাফল্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।