চুয়াডাঙ্গা ০২:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বকাপের ইতিহাসে নাম লিখলেন ইয়ামাল

Padma Sangbad
১৭

স্পোর্টস ডেস্ক।।
বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম উদীয়মান তারকা হিসেবে নিজেকে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করলেন লামিনে ইয়ামাল। সৌদি আরবের বিপক্ষে ৪-০ গোলের বড় জয়ে আবারও স্পেনের সবচেয়ে উজ্জ্বল নায়ক ছিলেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। তার অসাধারণ পারফরম্যান্স বিশ্বকাপের অন্যতম সম্ভাবনাময় খেলোয়াড় হিসেবে তার মর্যাদাকে আরও শক্তিশালী করেছে।

মাত্র ১৮ বছর বয়সী ইয়ামাল ম্যাচের ১০ মিনিটেই গোল করে স্পেনকে এগিয়ে দেন। মিকেল ওইয়ারসাবালের নিখুঁত পাস থেকে আসা সেই গোল ছিল শুধু ম্যাচের সূচনা নয়, ইতিহাসের পাতায় নতুন এক অধ্যায়ের সূচনাও।

শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ম্যাচে আধিপত্য দেখায় স্পেন। বিশেষ করে ওইয়ারসাবাল ছিলেন দুর্দান্ত ছন্দে। তিনি দুটি গোল করার পাশাপাশি একটি গোলেও সহায়তা করেন। অন্যদিকে সৌদি আরবের হাসান আলতামবাকতির আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান আরও বাড়ে।

তবে সব আলো কেড়ে নেন ইয়ামাল। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে জাতীয় দলে অভিষেকের পর এই গোলের মাধ্যমে তিনি নিজের সপ্তম আন্তর্জাতিক গোল করেন। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের ইতিহাসেও গড়েন নতুন কীর্তি।

১৮ বছর ৩২৩ দিন বয়সে গোল করে তিনি বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে গোলদাতার তালিকায় নাম লেখান। গোলমুখে দুর্দান্ত ক্ষিপ্রতায় স্লাইড করে বল জালে পাঠিয়ে তিনি স্পেনকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।

এই রেকর্ডে ইয়ামালের সামনে আছেন শুধু ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলে। ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপে ওয়েলসের বিপক্ষে ১৭ বছর ৮ মাস বয়সে গোল করে তিনি এখনো সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতার রেকর্ড ধরে রেখেছেন।

ইয়ামালের এই অর্জন তাকে বিশ্ব ফুটবলের বিশেষ এক কাতারে স্থান দিয়েছে। একই সঙ্গে স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের দলে তার গুরুত্বও আরও স্পষ্ট করেছে।

বিশ্বকাপ শুরুর আগে স্পেনে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় ছিল ইয়ামালের শারীরিক অবস্থা। এপ্রিলের শেষ দিক থেকে বাম পায়ের পশ্চাৎ উরুর পেশির চোটে ভুগছিলেন তিনি। তবুও তাকে ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দলে রাখা হয়।

যদিও ১৫ জুনের উদ্বোধনী ম্যাচে তার খেলা নিয়ে সংশয় ছিল, শেষ পর্যন্ত কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচের আগের দিন তাকে খেলার জন্য সম্পূর্ণ সুস্থ ঘোষণা করা হয়। সেই ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে আক্রমণে প্রাণ ফিরিয়ে দেন তিনি। আর সৌদি আরবের বিপক্ষে শুরু থেকেই মাঠে নেমে দেখিয়ে দিলেন নিজের সামর্থ্য।

এই জয়ের ফলে ‘এইচ’ গ্রুপে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট অর্জন করেছে স্পেন এবং পরবর্তী পর্বে ওঠার লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে। একই সঙ্গে দলটির আত্মবিশ্বাসও অনেক বেড়েছে।

অন্যদিকে, অল্প সময়ের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারেই একের পর এক ইতিহাস গড়ে চলেছেন লামিনে ইয়ামাল। তার অসাধারণ উত্থান বিশ্ব ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আশার জন্ম দিচ্ছে।

গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে আগামী ২৬ জুন মেক্সিকোর গুয়াদালাহারার স্টেডিয়ামে উরুগুয়ের মুখোমুখি হবে স্পেন। সেই ম্যাচেও নজর থাকবে তরুণ বিস্ময়বালক ইয়ামালের দিকেই।

আপডেট : ১০:৪৬:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপের ইতিহাসে নাম লিখলেন ইয়ামাল

আপডেট : ১০:৪৬:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
১৭

স্পোর্টস ডেস্ক।।
বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম উদীয়মান তারকা হিসেবে নিজেকে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করলেন লামিনে ইয়ামাল। সৌদি আরবের বিপক্ষে ৪-০ গোলের বড় জয়ে আবারও স্পেনের সবচেয়ে উজ্জ্বল নায়ক ছিলেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। তার অসাধারণ পারফরম্যান্স বিশ্বকাপের অন্যতম সম্ভাবনাময় খেলোয়াড় হিসেবে তার মর্যাদাকে আরও শক্তিশালী করেছে।

মাত্র ১৮ বছর বয়সী ইয়ামাল ম্যাচের ১০ মিনিটেই গোল করে স্পেনকে এগিয়ে দেন। মিকেল ওইয়ারসাবালের নিখুঁত পাস থেকে আসা সেই গোল ছিল শুধু ম্যাচের সূচনা নয়, ইতিহাসের পাতায় নতুন এক অধ্যায়ের সূচনাও।

শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ম্যাচে আধিপত্য দেখায় স্পেন। বিশেষ করে ওইয়ারসাবাল ছিলেন দুর্দান্ত ছন্দে। তিনি দুটি গোল করার পাশাপাশি একটি গোলেও সহায়তা করেন। অন্যদিকে সৌদি আরবের হাসান আলতামবাকতির আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান আরও বাড়ে।

তবে সব আলো কেড়ে নেন ইয়ামাল। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে জাতীয় দলে অভিষেকের পর এই গোলের মাধ্যমে তিনি নিজের সপ্তম আন্তর্জাতিক গোল করেন। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের ইতিহাসেও গড়েন নতুন কীর্তি।

১৮ বছর ৩২৩ দিন বয়সে গোল করে তিনি বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে গোলদাতার তালিকায় নাম লেখান। গোলমুখে দুর্দান্ত ক্ষিপ্রতায় স্লাইড করে বল জালে পাঠিয়ে তিনি স্পেনকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।

এই রেকর্ডে ইয়ামালের সামনে আছেন শুধু ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলে। ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপে ওয়েলসের বিপক্ষে ১৭ বছর ৮ মাস বয়সে গোল করে তিনি এখনো সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতার রেকর্ড ধরে রেখেছেন।

ইয়ামালের এই অর্জন তাকে বিশ্ব ফুটবলের বিশেষ এক কাতারে স্থান দিয়েছে। একই সঙ্গে স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের দলে তার গুরুত্বও আরও স্পষ্ট করেছে।

বিশ্বকাপ শুরুর আগে স্পেনে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় ছিল ইয়ামালের শারীরিক অবস্থা। এপ্রিলের শেষ দিক থেকে বাম পায়ের পশ্চাৎ উরুর পেশির চোটে ভুগছিলেন তিনি। তবুও তাকে ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দলে রাখা হয়।

যদিও ১৫ জুনের উদ্বোধনী ম্যাচে তার খেলা নিয়ে সংশয় ছিল, শেষ পর্যন্ত কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচের আগের দিন তাকে খেলার জন্য সম্পূর্ণ সুস্থ ঘোষণা করা হয়। সেই ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে আক্রমণে প্রাণ ফিরিয়ে দেন তিনি। আর সৌদি আরবের বিপক্ষে শুরু থেকেই মাঠে নেমে দেখিয়ে দিলেন নিজের সামর্থ্য।

এই জয়ের ফলে ‘এইচ’ গ্রুপে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট অর্জন করেছে স্পেন এবং পরবর্তী পর্বে ওঠার লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে। একই সঙ্গে দলটির আত্মবিশ্বাসও অনেক বেড়েছে।

অন্যদিকে, অল্প সময়ের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারেই একের পর এক ইতিহাস গড়ে চলেছেন লামিনে ইয়ামাল। তার অসাধারণ উত্থান বিশ্ব ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আশার জন্ম দিচ্ছে।

গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে আগামী ২৬ জুন মেক্সিকোর গুয়াদালাহারার স্টেডিয়ামে উরুগুয়ের মুখোমুখি হবে স্পেন। সেই ম্যাচেও নজর থাকবে তরুণ বিস্ময়বালক ইয়ামালের দিকেই।