চুয়াডাঙ্গা ০২:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সালাহর নৈপুণ্যে বিশ্বকাপে ঐতিহাসিক জয় পেল মিসর

Padma Sangbad
১৫

স্পোর্টস ডেস্ক।।
মিসরের সবচেয়ে প্রয়োজনের মুহূর্তে অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহ আবারও প্রমাণ করলেন কেন তিনি দলের নেতা। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-১ গোলের জয়ে একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করে তিনি মিসরকে ইতিহাস লিখতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখেন। এখন তারা প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ওঠার মাত্র এক ম্যাচ দূরে।

বিশ্বকাপে এটি মিসরের চতুর্থ অংশগ্রহণ। ১৯৩৪ সালে প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে তারা বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন করেছিল। কিন্তু এত বছর পর এসে এবারই প্রথম তারা বিশ্বকাপে জয় পেল।

যদিও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন সালাহ, তবুও কোচ হোসাম হাসান প্রশংসা পাবেন মোস্তফা জিকোকে আস্থা রাখার জন্য। অনেক সমালোচনার মধ্যেও তিনি জিকোকে অভিজ্ঞ মাহমুদ ট্রেজেগুয়েটের আগে দলে রেখেছিলেন, আর জিকো সেই আস্থার পূর্ণ প্রতিদান দেন একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট দিয়ে।

৫৮তম মিনিটে তিনি নিউজিল্যান্ডের বক্সে ফাঁকায় উঠে জোরালো হেডে গোল করেন। এরপর সালাহকে দারুণভাবে বল বাড়িয়ে দেন, যেখান থেকে সালাহ নিখুঁত শটে বল জালে পাঠান।

৮২তম মিনিটে সালাহর কর্নার থেকে হেডে গোল করে ট্রেজেগুয়েট মিসরের জয় আরও নিশ্চিত করেন।

এই জয়ের ফলে ‘জি’ গ্রুপে মিসর চার পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে। ইরানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে হার এড়াতে পারলেই তারা প্রথমবারের মতো শেষ ষোলোতে পৌঁছে যাবে।

অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের বিশ্বকাপ ইতিহাস আরও হতাশাজনক হয়ে উঠল। আগের দুই আসরে তারা কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি, আর এবারও পরাজয় তাদের সেই রেকর্ডকে আরও খারাপ করেছে।

ম্যাচের শুরুতে অবশ্য নিউজিল্যান্ড আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছিল। এলিজাহ জাস্ট ও ক্রিস উডের সমন্বয়ে সারপ্রীত সিং একটি ভালো সুযোগ পেলেও বল অল্পের জন্য বাইরে যায়। জাস্টও একটি শট নেন, যা মিসরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবির দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন।

১৫তম মিনিটে কর্নার থেকে ফিন সারম্যানের হেডে এগিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। মিসর অভিযোগ করলেও ভিডিও সহকারী রেফারির পর্যালোচনার পর গোলটি বৈধ ঘোষণা করা হয়।

দ্বিতীয়ার্ধে মিসর পুরোপুরি ম্যাচে ফিরে আসে। একের পর এক আক্রমণে তারা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। শোবিরও গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে ম্যাচে রাখেন।

শেষ পর্যন্ত সালাহ ও তার সতীর্থদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে নিশ্চিত হয় মিসরের ঐতিহাসিক জয়। এখন বিশ্বকাপে তাদের স্বপ্ন নকআউট পর্বে পৌঁছানোর দ্বারপ্রান্তে।

আপডেট : ১০:৫০:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

সালাহর নৈপুণ্যে বিশ্বকাপে ঐতিহাসিক জয় পেল মিসর

আপডেট : ১০:৫০:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
১৫

স্পোর্টস ডেস্ক।।
মিসরের সবচেয়ে প্রয়োজনের মুহূর্তে অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহ আবারও প্রমাণ করলেন কেন তিনি দলের নেতা। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-১ গোলের জয়ে একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করে তিনি মিসরকে ইতিহাস লিখতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখেন। এখন তারা প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ওঠার মাত্র এক ম্যাচ দূরে।

বিশ্বকাপে এটি মিসরের চতুর্থ অংশগ্রহণ। ১৯৩৪ সালে প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে তারা বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন করেছিল। কিন্তু এত বছর পর এসে এবারই প্রথম তারা বিশ্বকাপে জয় পেল।

যদিও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন সালাহ, তবুও কোচ হোসাম হাসান প্রশংসা পাবেন মোস্তফা জিকোকে আস্থা রাখার জন্য। অনেক সমালোচনার মধ্যেও তিনি জিকোকে অভিজ্ঞ মাহমুদ ট্রেজেগুয়েটের আগে দলে রেখেছিলেন, আর জিকো সেই আস্থার পূর্ণ প্রতিদান দেন একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট দিয়ে।

৫৮তম মিনিটে তিনি নিউজিল্যান্ডের বক্সে ফাঁকায় উঠে জোরালো হেডে গোল করেন। এরপর সালাহকে দারুণভাবে বল বাড়িয়ে দেন, যেখান থেকে সালাহ নিখুঁত শটে বল জালে পাঠান।

৮২তম মিনিটে সালাহর কর্নার থেকে হেডে গোল করে ট্রেজেগুয়েট মিসরের জয় আরও নিশ্চিত করেন।

এই জয়ের ফলে ‘জি’ গ্রুপে মিসর চার পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে। ইরানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে হার এড়াতে পারলেই তারা প্রথমবারের মতো শেষ ষোলোতে পৌঁছে যাবে।

অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের বিশ্বকাপ ইতিহাস আরও হতাশাজনক হয়ে উঠল। আগের দুই আসরে তারা কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি, আর এবারও পরাজয় তাদের সেই রেকর্ডকে আরও খারাপ করেছে।

ম্যাচের শুরুতে অবশ্য নিউজিল্যান্ড আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছিল। এলিজাহ জাস্ট ও ক্রিস উডের সমন্বয়ে সারপ্রীত সিং একটি ভালো সুযোগ পেলেও বল অল্পের জন্য বাইরে যায়। জাস্টও একটি শট নেন, যা মিসরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবির দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন।

১৫তম মিনিটে কর্নার থেকে ফিন সারম্যানের হেডে এগিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। মিসর অভিযোগ করলেও ভিডিও সহকারী রেফারির পর্যালোচনার পর গোলটি বৈধ ঘোষণা করা হয়।

দ্বিতীয়ার্ধে মিসর পুরোপুরি ম্যাচে ফিরে আসে। একের পর এক আক্রমণে তারা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। শোবিরও গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে ম্যাচে রাখেন।

শেষ পর্যন্ত সালাহ ও তার সতীর্থদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে নিশ্চিত হয় মিসরের ঐতিহাসিক জয়। এখন বিশ্বকাপে তাদের স্বপ্ন নকআউট পর্বে পৌঁছানোর দ্বারপ্রান্তে।