চুয়াডাঙ্গা ০৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এক ম্যাচেই ১১ রেকর্ড মেসির !

Padma Sangbad
১৩

স্পোর্টস ডেস্ক।।

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ম্যাচ মানেই যেন নতুন কোনো ইতিহাসের জন্ম। কেপ ভার্দের বিপক্ষে ৩-২ গোলের নাটকীয় জয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করার পাশাপাশি এক ম্যাচেই একের পর এক রেকর্ড গড়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজের অবস্থান আরও উঁচুতে নিয়ে গেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি।

মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল বিশ্বকাপে মেসির ৩০তম উপস্থিতি। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ফুটবলারের রেকর্ড এখন এককভাবে তার দখলে।

ম্যাচের ২৯তম মিনিটে গোল করে আরও একটি অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেন মেসি। বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে তিনি ২০ গোলের রেকর্ড গড়েন। একই সঙ্গে চলতি আসরে এটি ছিল তার সপ্তম গোল।

এই গোলের সুবাদে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে টানা পাঁচ ম্যাচে গোল করার বিরল কীর্তিও গড়েছেন তিনি। এর আগে এই রেকর্ড ছিল কেবল হাঙ্গেরির গিওর্গি সারোসি এবং ব্রাজিলের কিংবদন্তি ভাভার। পাশাপাশি প্রথম ফুটবলার হিসেবে দুটি ভিন্ন বিশ্বকাপে ২০২২ ও ২০২৬ আসরে সাত বা তার বেশি গোল করার নজিরও স্থাপন করেন মেসি।

শুধু গোল করেই থেমে থাকেননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। অতিরিক্ত সময়ে তার নেওয়া কর্নার থেকেই আসে কেপ ভার্দের আত্মঘাতী গোল, যা শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোল হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তার মোট গোল ও অ্যাসিস্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২টিতে ৬টি গোল ও ৬টি অ্যাসিস্ট। এই কীর্তিতে তিনি ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলে এবং ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পেকে (১১) পেছনে ফেলে তালিকার শীর্ষে উঠে গেছেন।

বিশ্বকাপের সর্বশেষ ছয়টি নকআউট ম্যাচে মেসির সরাসরি গোলে অবদান এখন ১০টি। এই সময়ে তিনি নিজে ছয়টি গোল করেছেন এবং সতীর্থদের দিয়ে আরও চারটি গোল করিয়েছেন।

কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচে বয়সভিত্তিক একটি বিরল রেকর্ডও গড়েছেন মেসি। ৩৫ বছর বয়সের পর বিশ্বকাপে তার মোট গোলসংখ্যা এখন ১৪। এই বয়সের পর বিশ্বকাপ ইতিহাসে অন্য সব ফুটবলার মিলে যেখানে ২৫টি গোল করেছেন, সেখানে মেসি একাই করেছেন ১৪টি।

এছাড়া কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনহার বিপক্ষে গোল করে আরেকটি ব্যতিক্রমী রেকর্ডও গড়েন তিনি। গোলদাতা ও গোলরক্ষকের সম্মিলিত বয়স ছিল ৭৯ বছর ৬১ দিন, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ২২টি ভিন্ন দেশের বিপক্ষে মাঠে নেমেছেন মেসি। এর মধ্যে কেপ ভার্দেসহ ১৪টি দেশের বিপক্ষেই গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন তিনি।

সবশেষে আরেকটি ঐতিহাসিক রেকর্ডের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। চলতি বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা এখন সাত। আর মাত্র একটি গোল করলেই ১৯৩০ সালের বিশ্বকাপে গুইয়ের্মো স্তাবিলের করা এক আসরে কোনো আর্জেন্টাইন ফুটবলারের সর্বোচ্চ আট গোলের রেকর্ড স্পর্শ করবেন মেসি।

৩৯ বছর বয়সেও একের পর এক রেকর্ড গড়ে চলা মেসি আবারও প্রমাণ করলেন, বিশ্বকাপের মঞ্চে তার নামের পাশেই লেখা হচ্ছে ফুটবল ইতিহাসের নতুন নতুন অধ্যায়।

আপডেট : ০৩:৩৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

এক ম্যাচেই ১১ রেকর্ড মেসির !

আপডেট : ০৩:৩৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
১৩

স্পোর্টস ডেস্ক।।

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ম্যাচ মানেই যেন নতুন কোনো ইতিহাসের জন্ম। কেপ ভার্দের বিপক্ষে ৩-২ গোলের নাটকীয় জয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করার পাশাপাশি এক ম্যাচেই একের পর এক রেকর্ড গড়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজের অবস্থান আরও উঁচুতে নিয়ে গেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি।

মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল বিশ্বকাপে মেসির ৩০তম উপস্থিতি। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ফুটবলারের রেকর্ড এখন এককভাবে তার দখলে।

ম্যাচের ২৯তম মিনিটে গোল করে আরও একটি অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেন মেসি। বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে তিনি ২০ গোলের রেকর্ড গড়েন। একই সঙ্গে চলতি আসরে এটি ছিল তার সপ্তম গোল।

এই গোলের সুবাদে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে টানা পাঁচ ম্যাচে গোল করার বিরল কীর্তিও গড়েছেন তিনি। এর আগে এই রেকর্ড ছিল কেবল হাঙ্গেরির গিওর্গি সারোসি এবং ব্রাজিলের কিংবদন্তি ভাভার। পাশাপাশি প্রথম ফুটবলার হিসেবে দুটি ভিন্ন বিশ্বকাপে ২০২২ ও ২০২৬ আসরে সাত বা তার বেশি গোল করার নজিরও স্থাপন করেন মেসি।

শুধু গোল করেই থেমে থাকেননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। অতিরিক্ত সময়ে তার নেওয়া কর্নার থেকেই আসে কেপ ভার্দের আত্মঘাতী গোল, যা শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোল হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তার মোট গোল ও অ্যাসিস্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২টিতে ৬টি গোল ও ৬টি অ্যাসিস্ট। এই কীর্তিতে তিনি ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলে এবং ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পেকে (১১) পেছনে ফেলে তালিকার শীর্ষে উঠে গেছেন।

বিশ্বকাপের সর্বশেষ ছয়টি নকআউট ম্যাচে মেসির সরাসরি গোলে অবদান এখন ১০টি। এই সময়ে তিনি নিজে ছয়টি গোল করেছেন এবং সতীর্থদের দিয়ে আরও চারটি গোল করিয়েছেন।

কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচে বয়সভিত্তিক একটি বিরল রেকর্ডও গড়েছেন মেসি। ৩৫ বছর বয়সের পর বিশ্বকাপে তার মোট গোলসংখ্যা এখন ১৪। এই বয়সের পর বিশ্বকাপ ইতিহাসে অন্য সব ফুটবলার মিলে যেখানে ২৫টি গোল করেছেন, সেখানে মেসি একাই করেছেন ১৪টি।

এছাড়া কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনহার বিপক্ষে গোল করে আরেকটি ব্যতিক্রমী রেকর্ডও গড়েন তিনি। গোলদাতা ও গোলরক্ষকের সম্মিলিত বয়স ছিল ৭৯ বছর ৬১ দিন, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ২২টি ভিন্ন দেশের বিপক্ষে মাঠে নেমেছেন মেসি। এর মধ্যে কেপ ভার্দেসহ ১৪টি দেশের বিপক্ষেই গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন তিনি।

সবশেষে আরেকটি ঐতিহাসিক রেকর্ডের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। চলতি বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা এখন সাত। আর মাত্র একটি গোল করলেই ১৯৩০ সালের বিশ্বকাপে গুইয়ের্মো স্তাবিলের করা এক আসরে কোনো আর্জেন্টাইন ফুটবলারের সর্বোচ্চ আট গোলের রেকর্ড স্পর্শ করবেন মেসি।

৩৯ বছর বয়সেও একের পর এক রেকর্ড গড়ে চলা মেসি আবারও প্রমাণ করলেন, বিশ্বকাপের মঞ্চে তার নামের পাশেই লেখা হচ্ছে ফুটবল ইতিহাসের নতুন নতুন অধ্যায়।