চুয়াডাঙ্গা ০৮:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাইকেল কাণ্ডের অভিযোগে পদ হারালেন কোটচাঁদপুর উপজেলা জামায়াতের আমির

Padma Sangbad
১৩

কোটচাঁদপুর প্রতিনিধি।।

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির তাজুল ইসলামকে সাময়িকভাবে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অনিয়ম ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সাংগঠনিক কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি কোটচাঁদপুর উপজেলায় এডিবির ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বিশেষ বরাদ্দের আওতায় বিতরণ করা সরকারি বাইসাইকেলের মধ্যে একটি মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর নামে বরাদ্দকৃত সাইকেল জালিয়াতির মাধ্যমে নিজেই গ্রহণ করেন উপজেলা জামায়াতের আমির তাজুল ইসলাম। পরে সেটি তিনি তাঁর নাতিকে উপহার দেন বলে অভিযোগ ওঠে।

বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশে সাইকেলটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ফেরত দেওয়া হয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কোটচাঁদপুর কামিল মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্র সাইমুন ইসলামের নামে একটি বাইসাইকেল বরাদ্দ ছিল। কিন্তু ওই শিক্ষার্থীকে সাইকেলটি না দিয়ে মাওলানা তাজুল ইসলাম নিজেই মাস্টাররোলে স্বাক্ষর করে সেটি গ্রহণ করেন এবং পরে নিজের মেয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাওলানা তাজুল ইসলাম প্রথমে দাবি করেন, সাইকেলটি তাঁর প্রতিবেশী এক ছেলেকে দেওয়া হয়েছিল। পরে তিনি বক্তব্য পরিবর্তন করে বলেন, তাঁর ছেলে বেকার ও আর্থিক সংকটে থাকায় সাইকেলটি তাঁর নাতনি মারিয়াকে দেওয়া হয়েছিল।

কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপা রানী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সাইকেল বিতরণে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ওঠার পর স্থানীয় সংসদ সদস্যের পরামর্শে সাইকেলটি ফেরত নেওয়া হয়েছে। এটি প্রকৃত উপকারভোগীর কাছে পুনরায় বিতরণ করা হবে।

তিনি আরও জানান, বাইসাইকেল ছাড়াও অন্যান্য উপকরণ বিতরণে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলমান রয়েছে।

এ ঘটনায় অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় উপজেলা আমিরকে সাময়িকভাবে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সাংগঠনিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

জেলা জামায়াতে ইসলামীর দায়িত্বশীল নেতারা জানান, সংগঠনের শৃঙ্খলা ও নীতিমালা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

তবে সাময়িকভাবে পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়া মাওলানা তাজুল ইসলাম বলেন, “শুনেছি আমাকে সাময়িকভাবে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এমন কর্মকাণ্ড করা উচিত হয়নি। মানুষ মাত্রই ভুল করে, আমারও ভুল হয়েছে।” তবে পদ হারালেও তিনি দলীয় কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকবেন বলে জানান।

আপডেট : ০৩:৪১:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

সাইকেল কাণ্ডের অভিযোগে পদ হারালেন কোটচাঁদপুর উপজেলা জামায়াতের আমির

আপডেট : ০৩:৪১:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
১৩

কোটচাঁদপুর প্রতিনিধি।।

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির তাজুল ইসলামকে সাময়িকভাবে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অনিয়ম ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সাংগঠনিক কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি কোটচাঁদপুর উপজেলায় এডিবির ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বিশেষ বরাদ্দের আওতায় বিতরণ করা সরকারি বাইসাইকেলের মধ্যে একটি মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর নামে বরাদ্দকৃত সাইকেল জালিয়াতির মাধ্যমে নিজেই গ্রহণ করেন উপজেলা জামায়াতের আমির তাজুল ইসলাম। পরে সেটি তিনি তাঁর নাতিকে উপহার দেন বলে অভিযোগ ওঠে।

বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশে সাইকেলটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ফেরত দেওয়া হয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কোটচাঁদপুর কামিল মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্র সাইমুন ইসলামের নামে একটি বাইসাইকেল বরাদ্দ ছিল। কিন্তু ওই শিক্ষার্থীকে সাইকেলটি না দিয়ে মাওলানা তাজুল ইসলাম নিজেই মাস্টাররোলে স্বাক্ষর করে সেটি গ্রহণ করেন এবং পরে নিজের মেয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাওলানা তাজুল ইসলাম প্রথমে দাবি করেন, সাইকেলটি তাঁর প্রতিবেশী এক ছেলেকে দেওয়া হয়েছিল। পরে তিনি বক্তব্য পরিবর্তন করে বলেন, তাঁর ছেলে বেকার ও আর্থিক সংকটে থাকায় সাইকেলটি তাঁর নাতনি মারিয়াকে দেওয়া হয়েছিল।

কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপা রানী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সাইকেল বিতরণে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ওঠার পর স্থানীয় সংসদ সদস্যের পরামর্শে সাইকেলটি ফেরত নেওয়া হয়েছে। এটি প্রকৃত উপকারভোগীর কাছে পুনরায় বিতরণ করা হবে।

তিনি আরও জানান, বাইসাইকেল ছাড়াও অন্যান্য উপকরণ বিতরণে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলমান রয়েছে।

এ ঘটনায় অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় উপজেলা আমিরকে সাময়িকভাবে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সাংগঠনিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

জেলা জামায়াতে ইসলামীর দায়িত্বশীল নেতারা জানান, সংগঠনের শৃঙ্খলা ও নীতিমালা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

তবে সাময়িকভাবে পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়া মাওলানা তাজুল ইসলাম বলেন, “শুনেছি আমাকে সাময়িকভাবে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এমন কর্মকাণ্ড করা উচিত হয়নি। মানুষ মাত্রই ভুল করে, আমারও ভুল হয়েছে।” তবে পদ হারালেও তিনি দলীয় কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকবেন বলে জানান।