চুয়াডাঙ্গা ০২:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঝিনাইদহে ৪ হাজার কৃষকের মাঝে বিনামুল্যে সার ও বীজ বিতরণ

Padma Sangbad
১৩

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি।।
গ্রীষ্মকালীন শাকসবজির উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ঝিনাইদহে ৪ হাজার কৃষকের মাঝে বিনামুল্যে সার ও বীজ বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার সকালে সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে এ সার ও বীজ বিতরণ করা হয়।

সেসময় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক হাসান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা-নূর-এ নবী, অতিরিক্ত কৃষি অফিসার জুনাইদ হাবীব, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মীর রাকিবুল ইসলাম, ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখন, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম লিটনসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

কৃষি বিভাগ জানায়, খরিপ মৌসুমে সরকারের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় গ্রীষ্মকালীন শাকসবজির উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ৪ হাজার কৃষকের প্রত্যেককে ৭ প্রকার সবজি বীজ, ১৫ কেজি ডিএপি ও ১৫ কেজি এমওপি সার দেওয়া হয়েছে।

কৃষকঝিনাইদহবীজবিতরণসার

Share
Tweet
Share
Pin
Share
0Shares

শৈলকুপায় বিএনপি নেতার বাড়িতে মিলল সরকারি সার-বীজ
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি 35 ২৪শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ · রাত ১১:৪৪ image_print
শৈলকুপায় বিএনপি নেতার বাড়িতে মিলল সরকারি সার-বীজ
সরকারি কৃষি প্রণোদনার সার ও ধানবীজ শৈলকুপা উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের বিএনপির ১ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি আব্দুল্লাহ মন্ডলের বাড়িতে মজুদ রাখার অভিযোগ উঠে। পরে কৃষি কর্মকর্তা খবর পেয়ে, ওই সার এবং ধানবীজ প্রকৃত গ্রাহকদের মাঝে বিতরণ করেণ।

এ নিয়ে ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কৃষি বিভাগ থেকে জানা যায়, তারা অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই বাড়ি থেকেই কৃষকদের মধ্যে সরকারি বরাদ্দের সার ও ধানবীজ বিতরণ করেন। তবে সরকারি কৃষি উপকরণ ব্যক্তিগত বাড়িতে কেন রাখা হয়েছিল,তা নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে বিএনপির ১ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি আব্দুল্লাহ মন্ডলের বাড়িতে সরকারি বরাদ্দের ৮ বস্তা সার ও ২২ প্যাকেট ধানবীজ রয়েছে এমন সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী, কৃষক ও সাধারণ মানুষ সেখানে জড়ো হন। পরে কৃষি বিভাগকে খবর দেওয়া হলে ওই ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে তালিকা অনুযায়ী কৃষকদের মধ্যে সার ও ধানবীজ বিতরণ করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ,সরকারি কৃষি উপকরণ নির্ধারিত বিতরণস্থলে না এনে ব্যক্তিগত বাড়িতে রাখা সরকারি বিধি ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তাদের দাবি, বিষয়টি প্রকাশ্যে না এলে হয়তো সরকারি উপকরণ সেখান থেকেই বিতরণ করা হতো না।

ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন ভ্যানচালক জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন,’সোমবার আমাকে শৈলকূপা উপজেলা থেকে সার আনতে ডাকা হয়। সেখানে লিটন নামে এক ব্যক্তি একটি কার্ড দিয়ে ৮ বস্তা সার, ২২ প্যাকেট ধানবীজ ও কিছু গাছের চারা আমার ভ্যানে তুলে দেন। পরে সেগুলো আব্দুল্লাহ মন্ডলের বাড়িতে পৌঁছে দিই।’

উপজেলা কৃষক দলের সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন,’আব্দুল্লাহ মন্ডল এর আগেও সরকারি বিভিন্ন বরাদ্দ বাড়িতে এনে রাখতেন। কিছু বিতরণ করে বাকিগুলো বিক্রি করে দিতেন। এবার খবর পেয়ে আমরা সেখানে গিয়ে সরকারি সার ও ধানবীজ পাই। পরে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা এসে কৃষকদের মধ্যে সেগুলো বিতরণ করেন।’

মির্জাপুর ইউনিয়ন বিএনপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক ফরিদ মালিথা বলেন,’ওয়ার্ড সভাপতির বাড়িতে সরকারি সার ও ধানবীজ কেন রাখা হয়েছে,তা আমার জানা নেই। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত স্থান থেকেই বিতরণ হওয়ার কথা। খবর পেয়ে আমরা সেখানে যাই। পরে কৃষি কর্মকর্তাকে জানালে তিনি এসে কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করেন। ‘

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুল্লাহ মন্ডল বলেন,’কৃষি অফিস থেকে সার ও ধানবীজ এনে বাড়িতে রাখা হয়েছিল। সেদিন বৃষ্টির কারণে বিতরণ করা সম্ভব হয়নি। আজ সকালে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা উপস্থিত হওয়ার পর তাঁর তত্ত্বাবধানে কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।’

মির্জাপুর ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাকিব হোসেন বলেন,’সকালে খবর পাই আব্দুল্লাহ মন্ডলের বাড়িতে সরকারি সার ও ধানবীজ রয়েছে। পরে সেখানে গিয়ে সরকারি তালিকা অনুযায়ী কৃষকদের মধ্যে সার ও ধানবীজ বিতরণ করা হয়েছে। তবে সরকারি কৃষি উপকরণ ব্যক্তিগত বাড়িতে সংরক্ষণের অনুমতি ছিল কি না, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নিকট থেকে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

আপডেট : ১১:৪৬:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

ঝিনাইদহে ৪ হাজার কৃষকের মাঝে বিনামুল্যে সার ও বীজ বিতরণ

আপডেট : ১১:৪৬:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
১৩

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি।।
গ্রীষ্মকালীন শাকসবজির উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ঝিনাইদহে ৪ হাজার কৃষকের মাঝে বিনামুল্যে সার ও বীজ বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার সকালে সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে এ সার ও বীজ বিতরণ করা হয়।

সেসময় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক হাসান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা-নূর-এ নবী, অতিরিক্ত কৃষি অফিসার জুনাইদ হাবীব, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মীর রাকিবুল ইসলাম, ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখন, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম লিটনসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

কৃষি বিভাগ জানায়, খরিপ মৌসুমে সরকারের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় গ্রীষ্মকালীন শাকসবজির উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ৪ হাজার কৃষকের প্রত্যেককে ৭ প্রকার সবজি বীজ, ১৫ কেজি ডিএপি ও ১৫ কেজি এমওপি সার দেওয়া হয়েছে।

কৃষকঝিনাইদহবীজবিতরণসার

Share
Tweet
Share
Pin
Share
0Shares

শৈলকুপায় বিএনপি নেতার বাড়িতে মিলল সরকারি সার-বীজ
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি 35 ২৪শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ · রাত ১১:৪৪ image_print
শৈলকুপায় বিএনপি নেতার বাড়িতে মিলল সরকারি সার-বীজ
সরকারি কৃষি প্রণোদনার সার ও ধানবীজ শৈলকুপা উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের বিএনপির ১ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি আব্দুল্লাহ মন্ডলের বাড়িতে মজুদ রাখার অভিযোগ উঠে। পরে কৃষি কর্মকর্তা খবর পেয়ে, ওই সার এবং ধানবীজ প্রকৃত গ্রাহকদের মাঝে বিতরণ করেণ।

এ নিয়ে ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কৃষি বিভাগ থেকে জানা যায়, তারা অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই বাড়ি থেকেই কৃষকদের মধ্যে সরকারি বরাদ্দের সার ও ধানবীজ বিতরণ করেন। তবে সরকারি কৃষি উপকরণ ব্যক্তিগত বাড়িতে কেন রাখা হয়েছিল,তা নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে বিএনপির ১ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি আব্দুল্লাহ মন্ডলের বাড়িতে সরকারি বরাদ্দের ৮ বস্তা সার ও ২২ প্যাকেট ধানবীজ রয়েছে এমন সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী, কৃষক ও সাধারণ মানুষ সেখানে জড়ো হন। পরে কৃষি বিভাগকে খবর দেওয়া হলে ওই ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে তালিকা অনুযায়ী কৃষকদের মধ্যে সার ও ধানবীজ বিতরণ করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ,সরকারি কৃষি উপকরণ নির্ধারিত বিতরণস্থলে না এনে ব্যক্তিগত বাড়িতে রাখা সরকারি বিধি ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তাদের দাবি, বিষয়টি প্রকাশ্যে না এলে হয়তো সরকারি উপকরণ সেখান থেকেই বিতরণ করা হতো না।

ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন ভ্যানচালক জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন,’সোমবার আমাকে শৈলকূপা উপজেলা থেকে সার আনতে ডাকা হয়। সেখানে লিটন নামে এক ব্যক্তি একটি কার্ড দিয়ে ৮ বস্তা সার, ২২ প্যাকেট ধানবীজ ও কিছু গাছের চারা আমার ভ্যানে তুলে দেন। পরে সেগুলো আব্দুল্লাহ মন্ডলের বাড়িতে পৌঁছে দিই।’

উপজেলা কৃষক দলের সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন,’আব্দুল্লাহ মন্ডল এর আগেও সরকারি বিভিন্ন বরাদ্দ বাড়িতে এনে রাখতেন। কিছু বিতরণ করে বাকিগুলো বিক্রি করে দিতেন। এবার খবর পেয়ে আমরা সেখানে গিয়ে সরকারি সার ও ধানবীজ পাই। পরে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা এসে কৃষকদের মধ্যে সেগুলো বিতরণ করেন।’

মির্জাপুর ইউনিয়ন বিএনপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক ফরিদ মালিথা বলেন,’ওয়ার্ড সভাপতির বাড়িতে সরকারি সার ও ধানবীজ কেন রাখা হয়েছে,তা আমার জানা নেই। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত স্থান থেকেই বিতরণ হওয়ার কথা। খবর পেয়ে আমরা সেখানে যাই। পরে কৃষি কর্মকর্তাকে জানালে তিনি এসে কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করেন। ‘

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুল্লাহ মন্ডল বলেন,’কৃষি অফিস থেকে সার ও ধানবীজ এনে বাড়িতে রাখা হয়েছিল। সেদিন বৃষ্টির কারণে বিতরণ করা সম্ভব হয়নি। আজ সকালে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা উপস্থিত হওয়ার পর তাঁর তত্ত্বাবধানে কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।’

মির্জাপুর ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাকিব হোসেন বলেন,’সকালে খবর পাই আব্দুল্লাহ মন্ডলের বাড়িতে সরকারি সার ও ধানবীজ রয়েছে। পরে সেখানে গিয়ে সরকারি তালিকা অনুযায়ী কৃষকদের মধ্যে সার ও ধানবীজ বিতরণ করা হয়েছে। তবে সরকারি কৃষি উপকরণ ব্যক্তিগত বাড়িতে সংরক্ষণের অনুমতি ছিল কি না, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নিকট থেকে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।