চুয়াডাঙ্গা ০১:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিরাপত্তা দুর্বলতা নিয়ে ওপেনএআই কর্মীদের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ

Padma Sangbad
৯

অনলাইন ডেস্ক।।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ জানিয়ে আসছিলেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা। তাদের আশঙ্কা ছিল, প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ তথ্য ও প্রযুক্তি সুরক্ষার ব্যবস্থা এতটাই দুর্বল যে বিদেশি সরকারসহ বাইরের কোনো পক্ষ সহজেই গুরুত্বপূর্ণ গোপন তথ্য হাতিয়ে নিতে পারে। তবে কর্মীদের এসব সতর্কবার্তার পরও প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নেতৃত্ব নিরাপত্তার চেয়ে গুগল ও অ্যানথ্রোপিকের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রযুক্তি উন্নয়নে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক ও বর্তমান কর্মীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের শেষ দিকে চ্যাটজিপিটি চালুর আগেই ওপেনএআইয়ের কয়েকজন কর্মী প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে অভ্যন্তরীণভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। পাঁচজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা ও পরিচালনা পর্ষদের কাছেও বিষয়টি তুলে ধরেছিলেন। কিন্তু এসব আলোচনার পর কয়েকজন কর্মীর ধারণা হয়েছিল, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার চেয়ে দ্রুত প্রযুক্তি উন্নয়ন ও বাজারে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

কর্মীদের অভিযোগ, ওপেনএআইয়ের অভ্যন্তরীণ তথ্য ব্যবস্থাপনায় এমন দুর্বলতা ছিল যে প্রতিষ্ঠানের কোড ব্যবহারের অনুমতি থাকা যেকোনো কর্মী তার দায়িত্বের বাইরেও বিভিন্ন প্রকল্পের প্রযুক্তিগত বিবরণ দেখতে পারতেন। এতে বিদেশি সরকার বা অন্য কোনো পক্ষের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত তথ্য সংগ্রহের ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল।

নিরাপত্তা জোরদারে নতুন উদ্যোগ

তবে সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তানীতিতে পরিবর্তন আনতে শুরু করেছে ওপেনএআই। সংশ্লিষ্ট দুজন ব্যক্তির তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির পণ্য উন্নয়ন বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা থিবো সোতিয়ো অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাব্যবস্থা শক্তিশালী করার একটি উদ্যোগের দায়িত্ব নিয়েছেন।

গত আগস্টে তিনি ওপেনএআইয়ের উৎপাদন প্রকৌশলীদের প্রায় এক-চতুর্থাংশকে নিরাপত্তা অবকাঠামো উন্নয়নের কাজে নিয়োজিত করেন।

কর্মীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার দুর্বলতা নিয়ে নতুন তথ্য সামনে আসায় এআই খাতের একটি বড় দ্বন্দ্বও স্পষ্ট হয়েছে। চ্যাটজিপিটি চালুর পর এআই প্রযুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সম্পদে পরিণত হয়েছে। ফলে বিদেশি প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছ থেকে প্রযুক্তি সুরক্ষিত রাখার চাপ বাড়ছে। অন্যদিকে, নিরাপত্তার স্তর বাড়াতে গেলে নতুন প্রযুক্তি উন্নয়নের গতি কমে যেতে পারে।

এ ছাড়া ওপেনএআই ও অ্যানথ্রোপিকের মতো প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পরিকল্পনাও জটিল হতে পারে। প্রতিষ্ঠান দুটি ভবিষ্যতে বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান কোম্পানিগুলোর মধ্যে জায়গা করে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে।

ওপেনএআইয়ের সাবেক গবেষক উইল ডিপু চলতি বছরের এপ্রিলে প্রতিষ্ঠানটি ছাড়েন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, এআই খাতে প্রতিযোগিতা এতটাই তীব্র যে প্রতিষ্ঠানগুলোর নেতারা নিরাপত্তার জন্য প্রযুক্তি উন্নয়নের গতি বিসর্জন দিতে চান না। এমনকি সবচেয়ে বড় জাতীয় নিরাপত্তা প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছ থেকেও নিরাপদ থাকার বিষয়টি তাদের কাছে দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

গোপন রেকর্ডিং ডিভাইস স্থাপনের ঘটনায় উদ্বেগ

গত অক্টোবরে ওপেনএআইয়ের একজন নির্বাহীর সম্মেলনকক্ষে গোপনে অডিও রেকর্ডিং ডিভাইস স্থাপনের ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।

গত ১৩ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানায়, ফেডারেল এজেন্টরা সৌদি আরবের এক নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছেন। ৩৫ বছর বয়সী আবদুলরহমান আলফোজান তখন ওপেনএআইয়ের প্রকৌশলী ছিলেন। তার বিরুদ্ধে টিস্যু পেপারের ভেতরে লুকিয়ে রাখা একটি রেকর্ডিং ডিভাইস নির্বাহীদের সম্মেলনকক্ষে স্থাপনের অভিযোগ আনা হয়।

আদালতে দাখিল করা নথি অনুযায়ী, আলফোজান ওপেনএআইয়ের কর্মীদের জন্য তৈরি একটি এআই টুল ব্যবহার করে সৌদি আরব সফরকারী নির্বাহীদের বিষয়ে অভ্যন্তরীণ নথি খুঁজেছিলেন। একই সঙ্গে সৌদি মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে ওপেনএআইয়ের কোন কর্মকর্তারা অংশ নিতে পারেন, সে সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া সৌদি আরবে নতুন একটি এআই উদ্যোগ চালুর পরিকল্পনা করা এক সৌদি রাজপরিবারের সদস্যের সঙ্গে আলফোজানের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। ওই ব্যক্তি তাকে নতুন উদ্যোগে যোগ দেওয়ার জন্য নিয়োগের চেষ্টা করেছিলেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে আলফোজানের আইনজীবীরা মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেননি।

অভ্যন্তরীণ তথ্য ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা

ওপেনএআইয়ের নিরাপত্তা নিয়ে কর্মীদের অন্যতম বড় উদ্বেগ ছিল প্রতিষ্ঠানের বিপুল পরিমাণ কোড ও গবেষণাসংক্রান্ত তথ্যের সহজলভ্যতা। প্রতিষ্ঠানটি অধিকাংশ কোড একটি কেন্দ্রীয় ভান্ডারে সংরক্ষণ করত, যা প্রযুক্তি খাতে ‘মনোরেপো’ নামে পরিচিত।

এই ব্যবস্থায় কোড ব্যবহারের অনুমতি পাওয়া কর্মীরা নিজেদের কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, এমন অনেক প্রকল্পের প্রযুক্তিগত তথ্যও দেখতে পারতেন। ভান্ডারটি অত্যন্ত জটিল হওয়ায় আগে সম্ভাব্য হামলাকারীদের জন্য তথ্য খুঁজে বের করা কঠিন ছিল। কিন্তু আধুনিক এআই এজেন্ট বিপুল পরিমাণ কোড ও নথি দ্রুত বিশ্লেষণ করতে সক্ষম হওয়ায় ঝুঁকি বেড়েছে।

এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির গবেষণাসংক্রান্ত অনেক নথি আগে গিটহাব ও স্ল্যাকের মতো প্ল্যাটফর্মে রাখা হতো। কর্মীদের আশঙ্কা ছিল, এসব জায়গা থেকে কোনো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যক্তি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন।

তবে ওপেনএআই জানিয়েছে, তাদের সবচেয়ে সংবেদনশীল কাজের বড় অংশ আলাদা কোড ভান্ডারে কঠোর প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সংরক্ষিত থাকে। মনোরেপোতে প্রতিষ্ঠানের সব কোড কিংবা মডেলের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও নেই। বিশেষ করে মডেল কীভাবে কাজ করবে তা নির্ধারণকারী সংখ্যাগত উপাদান, যা ‘মডেল ওয়েটস’ নামে পরিচিত, সেখানে সংরক্ষিত নয়।

আরেকটি সমস্যা ছিল প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ কিছু টুলের নিয়মিত নিরাপত্তা পর্যালোচনা না করা। তিনজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মতে, গবেষকেরা নতুন মডেল পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ব্যবহৃত ‘স্যান্ডবক্স’সহ বিভিন্ন টুল নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করতেন। কিন্তু এসব পরিবর্তনের পর সব সময় নিরাপত্তা পরীক্ষা করা হতো না। ফলে বাইরের পক্ষের সাইবার হামলার ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল।

ওপেনএআই জানিয়েছে, ২০২৪ সালের অক্টোবরে যোগ দেওয়া প্রধান তথ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তা ডেন স্টাকি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিচালনা করছেন। বর্তমানে অভ্যন্তরীণ টুলগুলোর নিয়মিত নিরাপত্তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

অন্য এআই প্রতিষ্ঠানও সাইবার হামলার ঝুঁকিতে

শুধু ওপেনএআই নয়, অন্যান্য এআই প্রতিষ্ঠানও নিরাপত্তা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে সান ফ্রান্সিসকোর একটি ফেডারেল জুরি গুগলের সাবেক এক কর্মীকে গোপন প্রযুক্তিগত তথ্য চুরির দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে। ওই কর্মীর বিরুদ্ধে চীনের হয়ে গুগলের এআই প্রযুক্তিসংক্রান্ত হাজার হাজার পৃষ্ঠার গোপন তথ্য চুরির অভিযোগ ছিল। ২০২৪ সালের মার্চে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

অন্যদিকে, অক্টোবরের শেষ দিকে সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্যাথেড্রাল সিস্টেমস দাবি করে, তারা অ্যানথ্রোপিকের সিস্টেমে প্রবেশ করে কর্মীদের স্ল্যাক চ্যানেলের কিছু তথ্য দেখতে সক্ষম হয়েছে। সেখানে সংবেদনশীল মডেলসংক্রান্ত আলোচনা ছিল। অ্যানথ্রোপিক জানিয়েছে, হামলাকারীরা কিছু গ্রাহক ও অংশীদারের ব্যবসায়িক যোগাযোগের তথ্য এবং সাধারণ ব্যবহারকারী অ্যাকাউন্টের কিছু নথিতে প্রবেশ করেছিল।

এআই প্রতিষ্ঠানগুলো এত দিন কর্মীদের আকৃষ্ট করতে এবং নতুন উদ্ভাবন উৎসাহিত করতে তুলনামূলক উন্মুক্ত গবেষণার পরিবেশ বজায় রেখেছে। কারণ, এআই গবেষণার ভিত্তি গড়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানগুলোর উন্মুক্ত জ্ঞান বিনিময়ের সংস্কৃতি থেকে। তবে এআই প্রযুক্তি যত শক্তিশালী হচ্ছে, ততই এই উন্মুক্ত পরিবেশের নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

২০২৩ সালে ওপেনএআইয়ের তৎকালীন গবেষক লিওপোল্ড আশেনব্রেনার ‘ওপেনএআই ইজ চায়নাস লিডিং এআই ল্যাব’ শিরোনামে একটি অভ্যন্তরীণ স্মারকলিপি লিখেছিলেন। এতে চীনের পক্ষ থেকে ওপেনএআইয়ে অনুপ্রবেশ এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রযুক্তি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের আশঙ্কা তুলে ধরা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

ওই বছরই এক বহিরাগত ব্যক্তি ওপেনএআইয়ের সিস্টেমে প্রবেশ করে জিপিটি-৪ মডেল সম্পর্কে কিছু তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার পর আশেনব্রেনার স্মারকলিপিটি পরিচালনা পর্ষদের কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে শেয়ার করেন। ওপেনএআইয়ের দাবি, ওই হ্যাকার শুধু প্রতিষ্ঠানের সব কর্মীর জন্য উন্মুক্ত স্ল্যাক চ্যানেলেই প্রবেশ করতে পেরেছিলেন।

চলতি বছরের গ্রীষ্মেও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়। ওপেনএআইয়ের পরীক্ষাধীন এআই এজেন্ট হাগিং ফেস নামের আরেকটি এআই প্রতিষ্ঠানের সিস্টেমে হ্যাকিং চালানোর পর বিষয়টি নিয়ে হোয়াইট হাউসসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

এ ছাড়া সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান হ্যাকট্রন এআই দাবি করে, গত জুলাইয়ে তাদের তিন গবেষক অ্যানথ্রোপিকের একটি প্রতিদ্বন্দ্বী এআই মডেল ব্যবহার করে ওপেনএআইয়ের একাধিক কর্মীর চ্যাটজিপিটি অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করেছিলেন। তারা ওপেনএআইয়ের অভ্যন্তরীণ কিছু সিস্টেম, এমনকি মনোরেপোতেও প্রবেশাধিকার পেয়েছিলেন বলে প্রতিষ্ঠানটি জানায়।

ওপেনএআইয়ের মুখপাত্র এলানা উইডম্যান বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সাইবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি ওপেনএআই। অভ্যন্তরীণ কর্মী, সাইবার অপরাধী এবং বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রীয় পক্ষের হামলা থেকে প্রযুক্তি, তথ্য ও কর্মীদের সুরক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি ব্যাপক বিনিয়োগ করছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রযুক্তি, তথ্য ও কর্মীদের সুরক্ষিত রাখা এমন একটি দায়িত্ব, যা আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিই এবং এটি জাতীয় গুরুত্বের বিষয়।’

উইডম্যানের দাবি, সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো প্রমাণ করে যে প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাব্যবস্থা ঝুঁকি শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে। ভবিষ্যতেও প্রযুক্তি ও হুমকির ধরন পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে।

এদিকে, রয়টার্সের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে জানতে চাওয়ার পর সোমবার এক ব্লগ পোস্টে ওপেনএআই জানায়, নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে তারা নতুন একটি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কর্মসূচি শুরু করার পরিকল্পনা করছে। এআই প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

আপডেট : ০১:১৯:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

নিরাপত্তা দুর্বলতা নিয়ে ওপেনএআই কর্মীদের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ

আপডেট : ০১:১৯:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
৯

অনলাইন ডেস্ক।।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ জানিয়ে আসছিলেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা। তাদের আশঙ্কা ছিল, প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ তথ্য ও প্রযুক্তি সুরক্ষার ব্যবস্থা এতটাই দুর্বল যে বিদেশি সরকারসহ বাইরের কোনো পক্ষ সহজেই গুরুত্বপূর্ণ গোপন তথ্য হাতিয়ে নিতে পারে। তবে কর্মীদের এসব সতর্কবার্তার পরও প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নেতৃত্ব নিরাপত্তার চেয়ে গুগল ও অ্যানথ্রোপিকের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রযুক্তি উন্নয়নে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক ও বর্তমান কর্মীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের শেষ দিকে চ্যাটজিপিটি চালুর আগেই ওপেনএআইয়ের কয়েকজন কর্মী প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে অভ্যন্তরীণভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। পাঁচজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা ও পরিচালনা পর্ষদের কাছেও বিষয়টি তুলে ধরেছিলেন। কিন্তু এসব আলোচনার পর কয়েকজন কর্মীর ধারণা হয়েছিল, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার চেয়ে দ্রুত প্রযুক্তি উন্নয়ন ও বাজারে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

কর্মীদের অভিযোগ, ওপেনএআইয়ের অভ্যন্তরীণ তথ্য ব্যবস্থাপনায় এমন দুর্বলতা ছিল যে প্রতিষ্ঠানের কোড ব্যবহারের অনুমতি থাকা যেকোনো কর্মী তার দায়িত্বের বাইরেও বিভিন্ন প্রকল্পের প্রযুক্তিগত বিবরণ দেখতে পারতেন। এতে বিদেশি সরকার বা অন্য কোনো পক্ষের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত তথ্য সংগ্রহের ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল।

নিরাপত্তা জোরদারে নতুন উদ্যোগ

তবে সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তানীতিতে পরিবর্তন আনতে শুরু করেছে ওপেনএআই। সংশ্লিষ্ট দুজন ব্যক্তির তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির পণ্য উন্নয়ন বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা থিবো সোতিয়ো অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাব্যবস্থা শক্তিশালী করার একটি উদ্যোগের দায়িত্ব নিয়েছেন।

গত আগস্টে তিনি ওপেনএআইয়ের উৎপাদন প্রকৌশলীদের প্রায় এক-চতুর্থাংশকে নিরাপত্তা অবকাঠামো উন্নয়নের কাজে নিয়োজিত করেন।

কর্মীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার দুর্বলতা নিয়ে নতুন তথ্য সামনে আসায় এআই খাতের একটি বড় দ্বন্দ্বও স্পষ্ট হয়েছে। চ্যাটজিপিটি চালুর পর এআই প্রযুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সম্পদে পরিণত হয়েছে। ফলে বিদেশি প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছ থেকে প্রযুক্তি সুরক্ষিত রাখার চাপ বাড়ছে। অন্যদিকে, নিরাপত্তার স্তর বাড়াতে গেলে নতুন প্রযুক্তি উন্নয়নের গতি কমে যেতে পারে।

এ ছাড়া ওপেনএআই ও অ্যানথ্রোপিকের মতো প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পরিকল্পনাও জটিল হতে পারে। প্রতিষ্ঠান দুটি ভবিষ্যতে বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান কোম্পানিগুলোর মধ্যে জায়গা করে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে।

ওপেনএআইয়ের সাবেক গবেষক উইল ডিপু চলতি বছরের এপ্রিলে প্রতিষ্ঠানটি ছাড়েন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, এআই খাতে প্রতিযোগিতা এতটাই তীব্র যে প্রতিষ্ঠানগুলোর নেতারা নিরাপত্তার জন্য প্রযুক্তি উন্নয়নের গতি বিসর্জন দিতে চান না। এমনকি সবচেয়ে বড় জাতীয় নিরাপত্তা প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছ থেকেও নিরাপদ থাকার বিষয়টি তাদের কাছে দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

গোপন রেকর্ডিং ডিভাইস স্থাপনের ঘটনায় উদ্বেগ

গত অক্টোবরে ওপেনএআইয়ের একজন নির্বাহীর সম্মেলনকক্ষে গোপনে অডিও রেকর্ডিং ডিভাইস স্থাপনের ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।

গত ১৩ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানায়, ফেডারেল এজেন্টরা সৌদি আরবের এক নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছেন। ৩৫ বছর বয়সী আবদুলরহমান আলফোজান তখন ওপেনএআইয়ের প্রকৌশলী ছিলেন। তার বিরুদ্ধে টিস্যু পেপারের ভেতরে লুকিয়ে রাখা একটি রেকর্ডিং ডিভাইস নির্বাহীদের সম্মেলনকক্ষে স্থাপনের অভিযোগ আনা হয়।

আদালতে দাখিল করা নথি অনুযায়ী, আলফোজান ওপেনএআইয়ের কর্মীদের জন্য তৈরি একটি এআই টুল ব্যবহার করে সৌদি আরব সফরকারী নির্বাহীদের বিষয়ে অভ্যন্তরীণ নথি খুঁজেছিলেন। একই সঙ্গে সৌদি মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে ওপেনএআইয়ের কোন কর্মকর্তারা অংশ নিতে পারেন, সে সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া সৌদি আরবে নতুন একটি এআই উদ্যোগ চালুর পরিকল্পনা করা এক সৌদি রাজপরিবারের সদস্যের সঙ্গে আলফোজানের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। ওই ব্যক্তি তাকে নতুন উদ্যোগে যোগ দেওয়ার জন্য নিয়োগের চেষ্টা করেছিলেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে আলফোজানের আইনজীবীরা মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেননি।

অভ্যন্তরীণ তথ্য ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা

ওপেনএআইয়ের নিরাপত্তা নিয়ে কর্মীদের অন্যতম বড় উদ্বেগ ছিল প্রতিষ্ঠানের বিপুল পরিমাণ কোড ও গবেষণাসংক্রান্ত তথ্যের সহজলভ্যতা। প্রতিষ্ঠানটি অধিকাংশ কোড একটি কেন্দ্রীয় ভান্ডারে সংরক্ষণ করত, যা প্রযুক্তি খাতে ‘মনোরেপো’ নামে পরিচিত।

এই ব্যবস্থায় কোড ব্যবহারের অনুমতি পাওয়া কর্মীরা নিজেদের কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, এমন অনেক প্রকল্পের প্রযুক্তিগত তথ্যও দেখতে পারতেন। ভান্ডারটি অত্যন্ত জটিল হওয়ায় আগে সম্ভাব্য হামলাকারীদের জন্য তথ্য খুঁজে বের করা কঠিন ছিল। কিন্তু আধুনিক এআই এজেন্ট বিপুল পরিমাণ কোড ও নথি দ্রুত বিশ্লেষণ করতে সক্ষম হওয়ায় ঝুঁকি বেড়েছে।

এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির গবেষণাসংক্রান্ত অনেক নথি আগে গিটহাব ও স্ল্যাকের মতো প্ল্যাটফর্মে রাখা হতো। কর্মীদের আশঙ্কা ছিল, এসব জায়গা থেকে কোনো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যক্তি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন।

তবে ওপেনএআই জানিয়েছে, তাদের সবচেয়ে সংবেদনশীল কাজের বড় অংশ আলাদা কোড ভান্ডারে কঠোর প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সংরক্ষিত থাকে। মনোরেপোতে প্রতিষ্ঠানের সব কোড কিংবা মডেলের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও নেই। বিশেষ করে মডেল কীভাবে কাজ করবে তা নির্ধারণকারী সংখ্যাগত উপাদান, যা ‘মডেল ওয়েটস’ নামে পরিচিত, সেখানে সংরক্ষিত নয়।

আরেকটি সমস্যা ছিল প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ কিছু টুলের নিয়মিত নিরাপত্তা পর্যালোচনা না করা। তিনজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মতে, গবেষকেরা নতুন মডেল পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ব্যবহৃত ‘স্যান্ডবক্স’সহ বিভিন্ন টুল নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করতেন। কিন্তু এসব পরিবর্তনের পর সব সময় নিরাপত্তা পরীক্ষা করা হতো না। ফলে বাইরের পক্ষের সাইবার হামলার ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল।

ওপেনএআই জানিয়েছে, ২০২৪ সালের অক্টোবরে যোগ দেওয়া প্রধান তথ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তা ডেন স্টাকি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিচালনা করছেন। বর্তমানে অভ্যন্তরীণ টুলগুলোর নিয়মিত নিরাপত্তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

অন্য এআই প্রতিষ্ঠানও সাইবার হামলার ঝুঁকিতে

শুধু ওপেনএআই নয়, অন্যান্য এআই প্রতিষ্ঠানও নিরাপত্তা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে সান ফ্রান্সিসকোর একটি ফেডারেল জুরি গুগলের সাবেক এক কর্মীকে গোপন প্রযুক্তিগত তথ্য চুরির দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে। ওই কর্মীর বিরুদ্ধে চীনের হয়ে গুগলের এআই প্রযুক্তিসংক্রান্ত হাজার হাজার পৃষ্ঠার গোপন তথ্য চুরির অভিযোগ ছিল। ২০২৪ সালের মার্চে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

অন্যদিকে, অক্টোবরের শেষ দিকে সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্যাথেড্রাল সিস্টেমস দাবি করে, তারা অ্যানথ্রোপিকের সিস্টেমে প্রবেশ করে কর্মীদের স্ল্যাক চ্যানেলের কিছু তথ্য দেখতে সক্ষম হয়েছে। সেখানে সংবেদনশীল মডেলসংক্রান্ত আলোচনা ছিল। অ্যানথ্রোপিক জানিয়েছে, হামলাকারীরা কিছু গ্রাহক ও অংশীদারের ব্যবসায়িক যোগাযোগের তথ্য এবং সাধারণ ব্যবহারকারী অ্যাকাউন্টের কিছু নথিতে প্রবেশ করেছিল।

এআই প্রতিষ্ঠানগুলো এত দিন কর্মীদের আকৃষ্ট করতে এবং নতুন উদ্ভাবন উৎসাহিত করতে তুলনামূলক উন্মুক্ত গবেষণার পরিবেশ বজায় রেখেছে। কারণ, এআই গবেষণার ভিত্তি গড়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানগুলোর উন্মুক্ত জ্ঞান বিনিময়ের সংস্কৃতি থেকে। তবে এআই প্রযুক্তি যত শক্তিশালী হচ্ছে, ততই এই উন্মুক্ত পরিবেশের নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

২০২৩ সালে ওপেনএআইয়ের তৎকালীন গবেষক লিওপোল্ড আশেনব্রেনার ‘ওপেনএআই ইজ চায়নাস লিডিং এআই ল্যাব’ শিরোনামে একটি অভ্যন্তরীণ স্মারকলিপি লিখেছিলেন। এতে চীনের পক্ষ থেকে ওপেনএআইয়ে অনুপ্রবেশ এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রযুক্তি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের আশঙ্কা তুলে ধরা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

ওই বছরই এক বহিরাগত ব্যক্তি ওপেনএআইয়ের সিস্টেমে প্রবেশ করে জিপিটি-৪ মডেল সম্পর্কে কিছু তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার পর আশেনব্রেনার স্মারকলিপিটি পরিচালনা পর্ষদের কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে শেয়ার করেন। ওপেনএআইয়ের দাবি, ওই হ্যাকার শুধু প্রতিষ্ঠানের সব কর্মীর জন্য উন্মুক্ত স্ল্যাক চ্যানেলেই প্রবেশ করতে পেরেছিলেন।

চলতি বছরের গ্রীষ্মেও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়। ওপেনএআইয়ের পরীক্ষাধীন এআই এজেন্ট হাগিং ফেস নামের আরেকটি এআই প্রতিষ্ঠানের সিস্টেমে হ্যাকিং চালানোর পর বিষয়টি নিয়ে হোয়াইট হাউসসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

এ ছাড়া সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান হ্যাকট্রন এআই দাবি করে, গত জুলাইয়ে তাদের তিন গবেষক অ্যানথ্রোপিকের একটি প্রতিদ্বন্দ্বী এআই মডেল ব্যবহার করে ওপেনএআইয়ের একাধিক কর্মীর চ্যাটজিপিটি অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করেছিলেন। তারা ওপেনএআইয়ের অভ্যন্তরীণ কিছু সিস্টেম, এমনকি মনোরেপোতেও প্রবেশাধিকার পেয়েছিলেন বলে প্রতিষ্ঠানটি জানায়।

ওপেনএআইয়ের মুখপাত্র এলানা উইডম্যান বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সাইবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি ওপেনএআই। অভ্যন্তরীণ কর্মী, সাইবার অপরাধী এবং বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রীয় পক্ষের হামলা থেকে প্রযুক্তি, তথ্য ও কর্মীদের সুরক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি ব্যাপক বিনিয়োগ করছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রযুক্তি, তথ্য ও কর্মীদের সুরক্ষিত রাখা এমন একটি দায়িত্ব, যা আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিই এবং এটি জাতীয় গুরুত্বের বিষয়।’

উইডম্যানের দাবি, সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো প্রমাণ করে যে প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাব্যবস্থা ঝুঁকি শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে। ভবিষ্যতেও প্রযুক্তি ও হুমকির ধরন পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে।

এদিকে, রয়টার্সের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে জানতে চাওয়ার পর সোমবার এক ব্লগ পোস্টে ওপেনএআই জানায়, নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে তারা নতুন একটি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কর্মসূচি শুরু করার পরিকল্পনা করছে। এআই প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।