চুয়াডাঙ্গা ০৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এবার বৈঠক থেকে বেরিয়ে যে ঘোষণা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের

Padma Sangbad
৪৬

সচিবালয়ে দাবিদাওয়া নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছেন সুপারিশপ্রাপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকেরা। ফলে অবস্থান কর্মসূচি চালু রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

এদিকে হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত বাতিলে আগামীকাল বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত আলটিমেটাম দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। এর মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়।

সচিবালয়ে যাওয়া ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদলের সদস্য জান্নাতুল নাইম ফিরে এসে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে সব সময় শুধু আশ্বস্ত করা হচ্ছে। আগেরবার আমরা ঘরে ফিরে গিয়েছিলাম, কিন্তু এবার আর ঘরে ফিরব না। যত দিন পর্যন্ত দাবি মানা না হবে রাজপথে থাকব এবং আমাদের কর্মসূচি চলমান থাকবে।

তিনি আরও বলেন, আগে যেমন আশ্বস্ত করা হয়েছিল, এবারও একইভাবে আশ্বস্ত করা হয়েছে। তারা বলেছেন—‘এটা আদালতের রায়, এর এখতিয়ার হচ্ছে বিচারকের। তবে সরকারের ওপর বিশ্বাস ও আস্থা রাখতে। কাউকেই বাদ দেওয়া হবে না।’ আমরা বলেছি, ‘যেন অতি দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে নিয়োগ দেওয়া হয়।’

এর আগে মঙ্গলবার সকাল থেকেই শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান নেন হাইকোর্টের রায়ে নিয়োগ বাতিল হওয়া ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নির্বাচিত প্রার্থীরা। গত বৃহস্পতিবার কোটায় নির্বাচিত হওয়া ৬ হাজার ৫৩১ জনের ফল হাইকোর্ট বাতিল করলে সেদিন রাত থেকেই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। তবে ওই রায় পুনর্বিবেচনার জন্য আপিল করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

নিয়োগ বাতিল হওয়া প্রার্থীরা বলেন, সোমবার রাত থেকে আমরা লাগাতার অবস্থানে আছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না। ন্যায্য দাবি আদায়েই আমরা এখানে এসেছি।

দুপুরে তাদের ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সচিবালয়ে আলোচনার জন্য যান। আলোচনা শেষে বিকেলে শাহবাগে ফিরে এসে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।

এর আগে গতকালও প্রাথমিকের সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে অবরোধ করেছিলেন। পরে পুলিশ জলকামান, লাঠিপেটা ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে তাদের সরিয়ে দেয়। তখন বেশ কয়েকজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

আজ সন্ধ্যায় শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ খালিদ মুনসুর বলেন, পুলিশ হেফাজতে নেওয়া ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তারা সড়ক অবরোধ করবে না বলে কথা দিয়েছে।

এদিকে নিয়োগ নিশ্চিতের দাবিতে আজ রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন প্রথম থেকে ১২তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরাও।

তারা বলছেন, পরীক্ষার সময় শিক্ষক নিবন্ধনের সনদের মেয়াদ আজীবন থাকলেও আপিল বিভাগের রায়ে তা তিন বছর নির্ধারিত হয়েছে। ফলে তাদের সনদ মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে। তারা বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এন্ট্রি লেভেলের শিক্ষক ও প্রভাষক পদে নিয়োগ সুপারিশ পাওয়ার আবেদন করতে পারছেন না। তাই বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) কাছে সনদ অনুযায়ী শিক্ষক-প্রভাষক পদে নিয়োগ সুপারিশ করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

আপডেট : ১১:১৫:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

এবার বৈঠক থেকে বেরিয়ে যে ঘোষণা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের

আপডেট : ১১:১৫:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
৪৬

সচিবালয়ে দাবিদাওয়া নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছেন সুপারিশপ্রাপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকেরা। ফলে অবস্থান কর্মসূচি চালু রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

এদিকে হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত বাতিলে আগামীকাল বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত আলটিমেটাম দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। এর মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়।

সচিবালয়ে যাওয়া ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদলের সদস্য জান্নাতুল নাইম ফিরে এসে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে সব সময় শুধু আশ্বস্ত করা হচ্ছে। আগেরবার আমরা ঘরে ফিরে গিয়েছিলাম, কিন্তু এবার আর ঘরে ফিরব না। যত দিন পর্যন্ত দাবি মানা না হবে রাজপথে থাকব এবং আমাদের কর্মসূচি চলমান থাকবে।

তিনি আরও বলেন, আগে যেমন আশ্বস্ত করা হয়েছিল, এবারও একইভাবে আশ্বস্ত করা হয়েছে। তারা বলেছেন—‘এটা আদালতের রায়, এর এখতিয়ার হচ্ছে বিচারকের। তবে সরকারের ওপর বিশ্বাস ও আস্থা রাখতে। কাউকেই বাদ দেওয়া হবে না।’ আমরা বলেছি, ‘যেন অতি দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে নিয়োগ দেওয়া হয়।’

এর আগে মঙ্গলবার সকাল থেকেই শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান নেন হাইকোর্টের রায়ে নিয়োগ বাতিল হওয়া ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নির্বাচিত প্রার্থীরা। গত বৃহস্পতিবার কোটায় নির্বাচিত হওয়া ৬ হাজার ৫৩১ জনের ফল হাইকোর্ট বাতিল করলে সেদিন রাত থেকেই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। তবে ওই রায় পুনর্বিবেচনার জন্য আপিল করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

নিয়োগ বাতিল হওয়া প্রার্থীরা বলেন, সোমবার রাত থেকে আমরা লাগাতার অবস্থানে আছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না। ন্যায্য দাবি আদায়েই আমরা এখানে এসেছি।

দুপুরে তাদের ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সচিবালয়ে আলোচনার জন্য যান। আলোচনা শেষে বিকেলে শাহবাগে ফিরে এসে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।

এর আগে গতকালও প্রাথমিকের সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে অবরোধ করেছিলেন। পরে পুলিশ জলকামান, লাঠিপেটা ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে তাদের সরিয়ে দেয়। তখন বেশ কয়েকজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

আজ সন্ধ্যায় শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ খালিদ মুনসুর বলেন, পুলিশ হেফাজতে নেওয়া ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তারা সড়ক অবরোধ করবে না বলে কথা দিয়েছে।

এদিকে নিয়োগ নিশ্চিতের দাবিতে আজ রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন প্রথম থেকে ১২তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরাও।

তারা বলছেন, পরীক্ষার সময় শিক্ষক নিবন্ধনের সনদের মেয়াদ আজীবন থাকলেও আপিল বিভাগের রায়ে তা তিন বছর নির্ধারিত হয়েছে। ফলে তাদের সনদ মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে। তারা বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এন্ট্রি লেভেলের শিক্ষক ও প্রভাষক পদে নিয়োগ সুপারিশ পাওয়ার আবেদন করতে পারছেন না। তাই বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) কাছে সনদ অনুযায়ী শিক্ষক-প্রভাষক পদে নিয়োগ সুপারিশ করার দাবি জানিয়েছেন তারা।