চুয়াডাঙ্গা ০৬:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চলে গেলেন সংগীতশিল্পী ফরিদা পারভীন

Padma Sangbad
৮২

বিনোদন ডেস্ক।।
বাংলাদেশের লোকসংগীতের কিংবদন্তি ফরিদা পারভীন আর নেই। শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টা ১৫ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শিল্পীর মেয়ে জিহান ফারিহা।

দীর্ঘদিন ধরে কিডনি ও ফুসফুসের সমস্যায় ভুগছিলেন ফরিদা পারভীন। সপ্তাহে দুই দিন নিয়মিত ডায়ালাইসিস করতে হতো তাকে। গত ২ সেপ্টেম্বর নিয়মিত ডায়ালাইসিসের জন্য তাকে মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু ডায়ালাইসিসের পর হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেন। এরপর থেকেই তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত বুধবার তার অবস্থা আরও সংকটাপন্ন হলে ভেন্টিলেশনে নেওয়া হয়। সবশেষে শনিবার রাতে তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান।

১৯৫৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর নাটোরের সিংড়া থানায় জন্মগ্রহণ করেন ফরিদা পারভীন। মাত্র ১৪ বছর বয়সে, ১৯৬৮ সালে তার পেশাদার সংগীতজীবন শুরু হয়। শুরুতে নজরুলসংগীত ও আধুনিক গান দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও জীবনের বড় অংশ তিনি কাটিয়েছেন লালন সাঁইয়ের গান গেয়ে।

দীর্ঘদিন কুষ্টিয়া শহরে বসে লালনসংগীতের চর্চা করেছেন তিনি। লালনসংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৮৭ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে একুশে পদক প্রদান করে। এছাড়া ১৯৯৩ সালে ‘অন্ধ প্রেম’ চলচ্চিত্রে ব্যবহৃত ‘নিন্দার কাঁটা’ গানের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। ২০০৮ সালে তিনি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জাপানের মর্যাদাপূর্ণ ফুকুওয়াকা পুরস্কার লাভ করেন।

তার কণ্ঠে ‘তোমরা ভুলে গেছ মল্লিকাদির নাম’, ‘এই পদ্মা এই মেঘনা’সহ অনেক জনপ্রিয় আধুনিক ও দেশাত্মবোধক গান আজও শ্রোতাদের মনে দাগ কেটে আছে।

আপডেট : ১০:২৫:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

চলে গেলেন সংগীতশিল্পী ফরিদা পারভীন

আপডেট : ১০:২৫:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
৮২

বিনোদন ডেস্ক।।
বাংলাদেশের লোকসংগীতের কিংবদন্তি ফরিদা পারভীন আর নেই। শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টা ১৫ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শিল্পীর মেয়ে জিহান ফারিহা।

দীর্ঘদিন ধরে কিডনি ও ফুসফুসের সমস্যায় ভুগছিলেন ফরিদা পারভীন। সপ্তাহে দুই দিন নিয়মিত ডায়ালাইসিস করতে হতো তাকে। গত ২ সেপ্টেম্বর নিয়মিত ডায়ালাইসিসের জন্য তাকে মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু ডায়ালাইসিসের পর হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেন। এরপর থেকেই তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত বুধবার তার অবস্থা আরও সংকটাপন্ন হলে ভেন্টিলেশনে নেওয়া হয়। সবশেষে শনিবার রাতে তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান।

১৯৫৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর নাটোরের সিংড়া থানায় জন্মগ্রহণ করেন ফরিদা পারভীন। মাত্র ১৪ বছর বয়সে, ১৯৬৮ সালে তার পেশাদার সংগীতজীবন শুরু হয়। শুরুতে নজরুলসংগীত ও আধুনিক গান দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও জীবনের বড় অংশ তিনি কাটিয়েছেন লালন সাঁইয়ের গান গেয়ে।

দীর্ঘদিন কুষ্টিয়া শহরে বসে লালনসংগীতের চর্চা করেছেন তিনি। লালনসংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৮৭ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে একুশে পদক প্রদান করে। এছাড়া ১৯৯৩ সালে ‘অন্ধ প্রেম’ চলচ্চিত্রে ব্যবহৃত ‘নিন্দার কাঁটা’ গানের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। ২০০৮ সালে তিনি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জাপানের মর্যাদাপূর্ণ ফুকুওয়াকা পুরস্কার লাভ করেন।

তার কণ্ঠে ‘তোমরা ভুলে গেছ মল্লিকাদির নাম’, ‘এই পদ্মা এই মেঘনা’সহ অনেক জনপ্রিয় আধুনিক ও দেশাত্মবোধক গান আজও শ্রোতাদের মনে দাগ কেটে আছে।