বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা প্রতিমন্ত্রী অমিতের

অনলাইন ডেস্ক।।
দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেছেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। ঈদের ছুটির পর প্রথম কর্ম দিবসে তিনি তার মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেন। ঈদের ছুটিকালীন সময়ে ঝড় বৃষ্টিসহ কারিগরি ত্রুটির কারণে দেশের কোথাও কোথাও নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হবার ঘটনাগুলো পর্যালোচনা এবং যেকোন পরিস্থিতিতে জনদুর্ভোগ লাঘবে দ্রুততার সাথে কাজ করার কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী।
ঈদের ছুটিকালীন সময়ে দেশের যেসকল এলাকায় ঝড়-বৃষ্টির কারণে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়েছে এবং ত্রুটি বিচ্যূতি নিরসনে কি ধরণের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল এবং প্রত্যাশিত সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে কোথায় কি ত্রুটি রয়েছে; তা চিহ্নিত করা এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুততার সাথে করণীয় নির্ধারণের নির্দেশ দেন। বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত মাঠ পর্যায়ের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে বলেন, এটি একটি নির্বাচিত সরকার। জনগণের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। সরকারি চাকুরিজীবী হিসাবে আপনাদেরও সেই দায়বদ্ধতার জায়গাটি অনুভব করতে হবে এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সচল রাখতে সমন্বিত প্রচেষ্টা চালাতে হবে।
বৈঠকে তিনি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ‘বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটি’ দ্রুত পুনর্গঠনের নির্দেশ দেন। এ সময় তিনি বলেন, বিগত দিনে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটির কোনো তৎপরতা ছিল না। এর ফলে সাধারণ মানুষের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং ভোগান্তি রোধে স্থানীয়ভাবে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর ওপর কোন ধরনের চাপ প্রয়োগ করা বা তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা সম্ভব হতো না। তাই জনদুর্ভোগ লাঘবে এখন থেকে সবাইকে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে কাজ করতে হবে।
এর আগে নিজ কার্যালয়ে সম্প্রতি জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বৈশ্বিক বাজারের বর্তমান বাস্তবতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের কারণে বাধ্য হয়েই সরকারকে জ্বালানি তেলের দাম কখনো কখনো সমন্বয় করতে হয়।
তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি ব্যবহারের প্রায় ৬৬ শতাংশই ডিজেল। এই জ্বালানির পেছনে সরকারকে সবচেয়ে বেশি ভর্তুকি দিতে হয়। সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব কমানোর জন্য ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, অফশোর জ্বালানি অনুসন্ধান, ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণসহ বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে এলএনজি আমদানি অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

















