দেশে অপরাধ বাড়ার কারণ জানালেন জামায়াত আমির

অনলাইন ডেস্ক।।
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের বিচার ব্যবস্থায় বিচারের নামে অবিচার এবং দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার কারণে অপরাধের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।
আজ সোমবার বিকেলে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন নিহত রামিসার বাবার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে এ কথা বলেন তিনি। পবিত্র হজ পালন সম্পন্ন করে আজ দেশে ফিরেই বিমানবন্দর থেকে সরাসরি হাসপাতালে ওই পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে যান জামায়াত আমির। এ সময় তিনি রামিসার বাবার চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং তার সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করেন।
জানা যায়, রামিসার বাবা সোমবার দুপুরে হঠাৎ অসুস্থতা বোধ করলে পরিবারের সদস্যরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হৃদরোগজনিত সমস্যার সন্দেহে তিনি কার্ডিয়াক কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ)-তে অধ্যাপক ডা. তৌফিক রহমান ফারুকের অধীনে পর্যবেক্ষণে আছেন।
প্রাথমিক পরীক্ষা নিরীক্ষার পর তার শরীরে পটাশিয়ামের ঘাটতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং তিনি হৃদপিণ্ডের পর্দার প্রদাহে (ভাইরাল পেরিকার্ডাইটিস) আক্রান্ত হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘শিশু রামিসা হত্যার বিচারে সরকারের প্রতিশ্রুতি শতভাগ বাস্তবায়ন হবে বলে প্রত্যাশা করে জামায়াত। সরকার আন্তরিক হলে দ্রুতই বিচার সম্ভব।’
এদিকে রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলাকেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে এ মামলায় আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হলো।
জানা গেছে, গত ২৪ মে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়ে অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য করেন। ওইদিন দুপুরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে মামলাটি বিচারের জন্য বদলির আদেশ দেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না তাকে কৌশলে রুমের ভেতরে নেয়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা। একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তিনি। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং মাথা রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে দেখতে পান।
পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় গত ২০ মে আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানান সোহেল।
এদিকে তীব্র মানসিক আঘাতে অসুস্থ হয়ে হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন হত্যার শিকার রামিসার বাবা।

















