প্রেমের ফাঁদে প্রতারণার অভিযোগ ছাত্রদল নেতা রিয়েল ইসলাম লিওনের বিরুদ্ধে, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি ভুক্তভোগী নারীর

মোঃ রয়েল হোসেন ।।
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়েল ইসলাম লিওনের বিরুদ্ধে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে বৈবাহিক তথ্য গোপন করা, অর্থ ও আর্থিক সুবিধা গ্রহণ, মানসিক নির্যাতন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী নারী।
অভিযোগকারী নারী সামাজিক মর্যাদা, চাকরি ও পারিবারিক নিরাপত্তার স্বার্থে পরিচয় প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়েছেন। প্রতিবেদনে তাকে ‘সাবিহা’ (ছদ্মনাম) হিসেবে উল্লেখ করা হলো। তিনি দর্শনার কেরু এলাকার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে ঢাকায় বসবাস করেন এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে কর্মরত।
সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো একটি দীর্ঘ অডিও বার্তায় সাবিহা দাবি করেন, প্রায় ছয় মাস ধরে অভিযুক্ত লিওনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। সম্পর্কের শুরুতে লিওন নিজেকে অবিবাহিত পরিচয় দিয়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন। পরে সাবিহা জানতে পারেন, অভিযুক্ত প্রায় চার বছর আগেই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।
সাবিহার অভিযোগ, সম্পর্কের সময় ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যার কথা বলে একাধিকবার তার কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়। মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন আর্থিক সুবিধাও নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সত্য জানার পর প্রশ্ন তুললে যোগাযোগ কমিয়ে দেওয়া হয়, প্রতিবাদ করলে অশালীন মন্তব্য ও ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং দীর্ঘ সময় মানসিক চাপে রাখা হয়।
তিনি আরও জানান, তার কাছে কথোপকথনের স্ক্রিনশট, কল হিস্ট্রি, ভয়েস রেকর্ডিং ও ভিডিও কল সংক্রান্ত তথ্য রয়েছে। প্রয়োজনে এসব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা আদালতে উপস্থাপন করবেন বলেও জানান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা চলছে এবং নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে লিওনের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি বিস্তারিত কোনো বক্তব্য না দিয়ে ফোন কেটে দেন এবং একপর্যায়ে ‘রং নাম্বার’ বলে দাবি করেন।
দামুড়হুদা উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মাইনূর আহমেদ দৌলত খান সুলতান বলেন, সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে দল তার দায় নেবে না এবং সাংগঠনিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. শাজাহান খান ও সাধারণ সম্পাদক মমিন মালিতা জানান, অভিযোগের পক্ষে যথাযথ তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে সাংগঠনিক তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।















