February 1, 2023, 5:47 pm

অবৈধ পথে বাংলাদেশে এসে জেল খেটে নিজ দেশে ফেরত গেল এক ভারতীয় পরিবার

অবৈধ পথে বাংলাদেশে এসে ধরা পড়ে ১৮ মাস জেল খেটে অবশেষে নিজ দেশে ফেরত গেল এক ভারতীয় পরিবার।

সোমবার ( ১০ অক্টোবর) বেলা ১২ টায় চুয়াডাঙ্গার দর্শনা বন্দর চেকপোস্টে অনুষ্ঠিত এক পতাকা বৈকের মাধ্যমে তাদের হস্তান্তর করা হয়।

জানা যায়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার হাবড়া থানার হায়দার বিলিয়া গ্রামের সুমন দে। বাংলাদেশে যশোর জেলার রূপদিয়ায় মামা বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন স্ব-পরিবারে। সাথে ছিল স্ত্রী সুজাতা দে ও সন্তান শুভজিৎ দে। সময়টা ২০২১ এর ফেব্রয়ারি মাস। ভারতের ঘোজাডাঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার ভোমরা বন্দর এলাকা দিয়ে রাজু নামের এক দালালের মাধ্যমে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বাংলাদেশে আসে সুমনে দে।

সুমন দে জানান, পাসপোর্ট ছিলনা। সেদিন ১৯ হাজার টাকার বিনিময়ে সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দেয় দালাল রাজু। এরপর মামাবাড়ি যশোর জেলার রূপদিয়া পৌছে যায়। এক মাস ছিলাম মামার বাড়িতে। তারপর ২০২১ সালের ২২ মার্চ নিজের দেশে বাড়িতে ফিরে যাবার উদ্দেশ্যে দালাল ধরে চলে আসি ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর সীমান্তে। সেখানে শ্রীনাথপুর সীমান্ত এলাকায় বিজিবির হাতে ধরা পড়ি। এরপর ঠাঁই হয় কারাগারে।

সুমন দে আরও জানান, আদালত অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে ৩ মাস কারাদন্ড দেয়। কিন্তু অভিবাসন জটিলতায় কারাভোগের মেয়াদ শেষ হলেও ১৮ মাস ১৮ দিন জেলে থাকতে হয়েছে। সোমবার দেশে ফিরতে পারছি। খুব ভাল লঅগছে। বাড়িতে আমার আরো দুটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। তাদের মুখটা দেখেনি অনেকদিন।

কাকাবাবু সুখেন্দ্র দে’র সাথে দর্শনা সীমান্তে বাবা-মা-ভাইকে গ্রহন করতে এসেছিল সুমন দে’র মেয়ে চিত্রা দে। দীর্ঘদিন পর মা-বাবা-একমাত্র ভাইকে কাছে পেয়ে আবেগ-আপ্লুত হয়ে পড়ে। কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে মা-মেয়ে।

সুমন দের স্ত্রী সুজাতা দে বলেন, “একটি ভুলের জীবন থেকে প্রায় দুটি বছর ঝরে গেল। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে আমার ছেলেটির। সে চার ক্লাসে পড়তো। তার এই ১৮ মাস জেলে কাটল। সুজাতা বলেন, বৈধ পথে পাসপোর্ট ভিসা করে বাংলাদেশে আসলে ক্ষতি হতো না। তাদের মতো ভূল যেন কেউ না করে।”

হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন দু’দেশের বিজিবি-বিএসএফ, ইমিগ্রেশন পুলিশ, থানা পুলিশ, কারা কর্মকর্তা, ডিআইবি, কাস্টমর্স কর্মকর্তারা। সোমবার দুপুরে দর্শনা চেকপোষ্টের ৭৬ নং মেইন পিলারের কাছে শূন্য রেখায় হস্তান্তর কার্যক্রম প্রক্রিয়া স¤পুর্ন হয়।

ফেরত যাওয়া ভারতীয় নাগরিকরা হলেন- ভারতের উত্তর চব্বিশপরগনা জেলার হাবড়া থানার হায়দারবেলিয়া গ্রামের মৃত রতন দের ছেলে সুমন দে, তার স্ত্রী সুজাতা দে ও শিশুপুত্র শুভজিত দে।

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা চেকপোষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অবৈধ ভাবে ভারত থেকে সুমন দে, তার স্ত্রী ও শিশুপুত্র সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্ত এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে মামা গোতম দত্তের বাড়িতে আসেন যশোর জেলার রূপদিয়া মুন্সিপুর গ্রামে। ঝিনাইদ জেলা কারাগার থেকে সোমবার সকালে তাদের চুয়াডাঙ্গার দর্শনা চেকপোষ্ট এলাকায় নেওয়া হয়। এ সময় কাগজপত্রে জটিলতার থাকায় আব্বাস নামের আরো এক ভারতীয় নাগরীককে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি। তাকে চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

একই বছরের মার্চ মাসে ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতে যাওয়ার সময় তাদের বিজিবি আটক করে। অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে বিজিবি পাসপোর্ট আইনে মামলা করলে আদালত তাদের ৩ মাসের কারাদন্ড দেয়। দীর্ঘ দিন কারাভোগ শেষে দুই দেশের আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্ণ করার পর সোমবার দুপুরে দর্শনা চেকপোষ্টের শূন্য রেখায় এ হস্তান্তর কার্যক্রম স¤পর্ণ হয়।

এ সময় ভারতের নদীয়া জেলার কৃষ্ণগঞ্জ থানার ইনচার্জ (ওসি) বাবিন মুখার্জি বলেন , “একই পরিবারের ৩ সদস্য কারাভোগ ও প্রক্রিয়া শেষে আজ বাংলাদেশ থেকে ভারতে ফিরে আসলো। তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”

বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন, বিজিবির দর্শনা চেকপোষ্ট ক্যাম্প কমান্ডার নায়েব সুবেদার আব্দুল জলিল, ইমিগ্রেশন ইনচার্জ আবু নাঈম, দর্শনা থানার এসআই শামিম রেজা ও সুজন। ঝিনাইদহ জেলার কারাগারের ডেপুটি জেলার সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।

ভারতের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন গেঁদে বিএসএফ কোম্পানী কমান্ডার এসি নাগেন্দ্র পাল, ইমিগ্রেশনের ইনচার্জ সন্দিপ কুমার তেয়ারি, গেঁদে কাস্টমস সুপানিটেনডেন্ট অজয় নায়ারন , কৃষ্ণগঞ্জ থানার ইনচার্জ বাবিন মুখার্জি প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

     আরও সংবাদ :