August 11, 2022, 8:56 pm

প্রতিবাদে প্রতিরোধে ICHFR

বিবেক রায়,কলকাতা।।
বিশ্বের বহু দেশের মানুষ পশ্চিম বঙ্গ থেকে পরিচালিত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ICHFR এর নাম কাজের নিরিখে চিনেছেন। মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকার রক্ষার পাশাপাশি স্বাস্থ্য শিবির , রক্তদান উৎসব , দুঃস্থদের পোশাক , খাদ্য , বই খাতা , শীত বস্ত্র প্রদান , বিপর্যয় মোকাবিলা সব ক্ষেত্রে হাত লাগিয়ে থাকে – ছড়িয়ে থাকা ICHFR এর কর্মীগণ। সাহিত্য সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। ইংরেজি ও বাংলায় প্রকাশিত সংস্থার মুখপত্র ‘মানববার্তা’।
গুণীব্যক্তিদের সম্মান প্রদান এক বিশেষ ভূমিকা আছে। অনেকগুলি দেশের কবি সাহিত্যিকগণ এই সাহিত্য পত্রিকায় লিখছেন।
ক্রীড়া ক্ষেত্রেও উৎসাহ দেন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে।
সংস্থাটির জন্ম ২০১৬ , নভেম্বর ২৩।
প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে দারিদ্রের সাথে লড়াই করে উঠে আসা মানবাধিকার ব্যক্তিত্ব সংগ্রাম মিত্র।
সংস্থাটি দীর্ঘ ৫ বছরের বেশি সময় ধরে অজশ্র কাজ করেছে।
সংস্থার সভাপতি ছিলেন সনাতন রায়চৌধুরী। তিনি আবার ২০১৮ সালের মার্চে বহিস্কৃত হয়েছেন সংস্থা থেকে। তারপর দু- দুবার সভাপতি নির্বাচিত হয়েছে এই সংস্থায়। বর্তমানে সংস্থার সভাপতি প্রাক্তন অধ্যাপক ড۔ দেবপ্রসন্ন বিশ্বাস। এবং চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড۔ সচ্চিদানন্দ রায়।
বিগত ৩০ জুলাই সনাতন রায়চৌধুরী চিটিংবাজি কেসে ধরা পড়ে। এবং মিডিয়ায় সেই খবর প্রকাশিত হয়। ২০১৯ সংগঠন থেকে আরো কিছু বহিস্কৃত সদস্য যাদের বিরুদ্ধে একাধিক অনৈতিক কাজের অভিযোগ রয়েছে। ঐ অসৎ ব্যক্তিদের মধ্যে সব্যসাচী ব্যানার্জী, সাক্ষী ঘোষ হাজরা, ও সুবীর দে এই ঘটনাটিকে রসালো গল্প বানিয়ে রং লাগিয়ে মিডিয়ার কাছে উপস্থাপন করে যে – সনাতন রায়চৌধুরীর সাগরেদ সংগ্রাম মিত্র। এবং সেকারণে সংগ্রাম মিত্রও জেল হেপাজতে।
যা কখনোই ঘটেনি ,পুলিশের অনুসন্ধানে সেই তথ্য নেই এবং মিডিয়া বা পুলিশের তরফে সংস্থার কারো কাছে এবং সংগ্রাম মিত্রের কাছে আসেননি সাক্ষী ঘোষ হাজরা দুটি টিভি চ্যানেলকে বলেছেন ‘ঐকতান’ পত্রিকার পাতায় পাতায় সনাতন রায়চৌধুরীর ছবি ছাপা হয়। চরম মিথ্যে কথা। মানবার্তার ছবি সহ বিশেষ সংখ্যা যখন প্রকাশিত হয় তখন সনাতন সংগঠনের বাইরে। প্রথম দিন থেকে যে সমস্ত কাজ গুলি সংস্থা করেছে তার কিছু ছবি ছাপা হয়েছিল যা ২০১৮ সালের মার্চের পূর্বের। ছবির তলায় বিবরণী দেওয়াও আছে। তবু কেন মিডিয়া প্রভাবিত হয়ে এই কাজ টি করলেন তা আমাদের কারো অজানা নয়। একাধিক মিথ্যাচার করেছে ঐ ব্যক্তিটি। তাছাড়াও সব্যসাচী তার নাম গোপন রেখে সাগ্নিক নামে বিবৃতি দেয় যা ভুলে ভরা। সুবীর দে’ও কুৎসা রটায়। যা ভিত্তিহীন সব থেকে আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এই তিনজন কুৎসাকারী অশিক্ষিত ব্যক্তি যখন ICHFR এর সদস্যপদ গ্রহণ করে তখন সনাতন এই সংস্থায় ছিলেন না। সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদকের বিরুদ্ধেও কাদা ছিটাতে কুন্ঠাবোধ করেনি । এই মিথ্যাচারের ফলে সংগ্রাম মিত্র কে ভাড়া বাড়ি ছাড়তে হয় ,কাজ হারায়। লক্ষ লক্ষ টাকা ও সম্মান হানি ঘটে। তারই প্রতিবাদে বিভিন্ন জেলায় প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত ২৩ অক্টোবর কলকাতা প্রেস ক্লাবে তারই প্রতিবাদে এগিয়ে এসেছেন কেন্দ্রীয় রাজ্য কমিটির সদস্যগণ , কবি সাহিত্যিক , প্রাক্তন পুলিশ ইন্সপেক্টর অরিন্দম আচার্য্য , প্রবীণ সাংবাদিক , সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব , কবি বরুন চক্রবর্তী , প্রাক্তন শিক্ষক কবি নৃপেন চক্রবর্তী , প্রাক্তন অধ্যাপক ড۔ অনিল কুমার রায় , সংস্থার সভাপতি ড۔দেবপ্রসন্ন বিশ্বাস , অধ্যাপক ড۔ সচ্চিদানন্দ রায় সহ অনেক জ্ঞানী গুণী ব্যক্তিবর্গ। সকলে প্রতিবাদে ফেটে পড়েন। কারণ খুব কাছ থেকে দীর্ঘদিন দেখে এসেছেন সংগ্রাম মিত্রের সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ , মানুষের প্রতি ভালোবাসা , প্রতিটি মুহূর্তে বিপদে ছুটে যাওয়া । নিজের জীবনের কথা না ভেবে লকডাউনে অসুস্থ অসহায় মানুষদের জন্য ছুটে গেছেন কখনো খাবার , কখনো পোশাক ওষুধ ইত্যাদি নিয়ে। নিজে না খেয়ে অন্যদের খাওয়ান । নিজে না পরে অন্যদের নতুন জামাকাপড় কিনে দেন। তিনিই সংগ্রাম মিত্র। তাঁর মতো মহৎ ব্যক্তির সাথে কবি সাহিত্যিক সমাজকর্মী,সাংবাদিক সাধারণ মানুষ থাকবেন এটায় তো স্বাভাবিক ছিল। তাই করে দেখালেন পশ্চিমবঙ্গের মানবতাপ্রেমী মানুষজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

     আরও সংবাদ :