চুয়াডাঙ্গা ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আটোয়ারীতে ভুট্টার বীজে প্রতারিত কৃষক ! ক্ষতিপুরণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

Padma Sangbad
২৩৬

মোঃ ইউসুফ আলী, আটোয়ারী (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি।। প্রতারণামূলক আশ্বাস দিয়ে ,অধিক ফলনের লোভ দেখিয়ে পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে কৃষকদের মাঝে নিম্নমানের ভুট্টা বীজ সরবরাহের অভিযোগে হিমালয় সীড্স কোম্পানির বিরুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
শনিবার (৯ আগস্ট) সন্ধায় পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার কিসমত রেলঘুন্টি এলাকায় মেসার্স মা ট্রেডার্স মিল চাতালে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে উপজেলার রাধানগর মালিগাঁও এলাকার প্রায় ৭০ জন কৃষক অংশ নেন।
কৃষকদের অভিযোগ, তারা অধিক ফলনের আশায় হিমালয় সীড্স কোম্পানির এইচএম-৩৭৫৫ জাতের ভুট্টার বীজ ক্রয় করেন। কোম্পানির পক্ষ থেকে ফলন সম্পর্কে বড় বড় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও, জমিতে চাষের পর সেই প্রতিশ্রুতির অর্ধেকেরও কম ফলন পেয়েছেন কৃষকরা। এতে কৃষকরা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুক্ষিন হয়েছেন। কৃষকরা জানান, প্রতারণামূলক আশ্বাস দিয়ে তাদের কাছে এই বীজ বিক্রি করা হয়েছে। অনেক কৃষক অন্যের জমি লিজ নিয়ে ভুট্টা চাষ করেছেন। মৌসুম শেষে দেখা যায়, গাছ খাটো, মোচা ছোট,বেশীর ভাগ মোচায় দানা নেই, কোনো কোনো গাছ মোচা আসার আগেই মরে গেছে । কৃষকরা বলছেন, উৎপাদন খরচের ৪০% টাকাও তারা ঘরে তুলতে পারবেন না। হিমালয় সীড্স কোম্পানির এইচএম-৩৭৫৫ জাতের ভুট্টার বীজ উচ্চ ফলনের নিশ্চয়তা দেওয়ার কারণে প্রলোভনে ঝুঁকি নিয়ে এ ভুট্টার চাষ করি। কিন্তু বাস্তবে ফলন বিপর্যয় ঘটায় এখন চরম আর্থিক সংকটে পড়েছি। যা অপ্রত্যাশিত ও হতাশাজনক।
ভুক্তভোগী কৃষক মোঃ খিমার উদ্দীন ক্ষোভের সাথে বলেন, ব্যাংক থেকে দুই লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তিন বিঘা জমিতে এইচএম-৩৭৫৫ জাতের ভুট্টা চাষ করেছি। কোম্পানি বলেছিল সোনার ফসল হবে। এখন জমিতে আগাছা ছাড়া কিছুই নাই। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা অবিলম্বে হিমালয় সীড্স কোম্পানির কাছে তাদের ক্ষতিপুরণ দাবি করেন। একই সাথে কৃষকদের সাথে প্রতারণা বন্ধ করে কৃষি উপকরণের গুণগতমান নিশ্চিত করারও দাবি জানান।
এব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাক আহমেদ বলেন, ভুক্তভোগী কৃষকরা ভুট্টা বীজ সংগ্রহ করার সময় উপজেলা কৃষি অফিস বা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে কোন প্রকার যোগাযোগ করে নাই। কৃষি বিভাগ কৃষকদের পরামর্শ ও সহযোগিতা করার জন্য সর্বদাই প্রস্তুত রয়েছে। তবে বীজ ব্যাপারে কৃষকদের অপ্রত্যাশিত বিষয়টি নিয়ে পঞ্চগড়ে বীজ প্রত্যয়ন অফিসে পরামর্শ বা অভিযোগ করতে পারেন।
এদিকে স্থানীয় কৃষকদের একটাই দাবি- দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আর্থিক ক্ষতি পূরণ দিতে হবে। অন্যথায় এই বিপর্যয় শুধু একটি মৌসুম নয়, বরং তাদের ভবিষ্যৎ জীবিকাকে হুমকির মুখে ফেলবে।

আপডেট : ১০:৪০:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

আটোয়ারীতে ভুট্টার বীজে প্রতারিত কৃষক ! ক্ষতিপুরণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

আপডেট : ১০:৪০:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
২৩৬

মোঃ ইউসুফ আলী, আটোয়ারী (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি।। প্রতারণামূলক আশ্বাস দিয়ে ,অধিক ফলনের লোভ দেখিয়ে পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে কৃষকদের মাঝে নিম্নমানের ভুট্টা বীজ সরবরাহের অভিযোগে হিমালয় সীড্স কোম্পানির বিরুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
শনিবার (৯ আগস্ট) সন্ধায় পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার কিসমত রেলঘুন্টি এলাকায় মেসার্স মা ট্রেডার্স মিল চাতালে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে উপজেলার রাধানগর মালিগাঁও এলাকার প্রায় ৭০ জন কৃষক অংশ নেন।
কৃষকদের অভিযোগ, তারা অধিক ফলনের আশায় হিমালয় সীড্স কোম্পানির এইচএম-৩৭৫৫ জাতের ভুট্টার বীজ ক্রয় করেন। কোম্পানির পক্ষ থেকে ফলন সম্পর্কে বড় বড় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও, জমিতে চাষের পর সেই প্রতিশ্রুতির অর্ধেকেরও কম ফলন পেয়েছেন কৃষকরা। এতে কৃষকরা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুক্ষিন হয়েছেন। কৃষকরা জানান, প্রতারণামূলক আশ্বাস দিয়ে তাদের কাছে এই বীজ বিক্রি করা হয়েছে। অনেক কৃষক অন্যের জমি লিজ নিয়ে ভুট্টা চাষ করেছেন। মৌসুম শেষে দেখা যায়, গাছ খাটো, মোচা ছোট,বেশীর ভাগ মোচায় দানা নেই, কোনো কোনো গাছ মোচা আসার আগেই মরে গেছে । কৃষকরা বলছেন, উৎপাদন খরচের ৪০% টাকাও তারা ঘরে তুলতে পারবেন না। হিমালয় সীড্স কোম্পানির এইচএম-৩৭৫৫ জাতের ভুট্টার বীজ উচ্চ ফলনের নিশ্চয়তা দেওয়ার কারণে প্রলোভনে ঝুঁকি নিয়ে এ ভুট্টার চাষ করি। কিন্তু বাস্তবে ফলন বিপর্যয় ঘটায় এখন চরম আর্থিক সংকটে পড়েছি। যা অপ্রত্যাশিত ও হতাশাজনক।
ভুক্তভোগী কৃষক মোঃ খিমার উদ্দীন ক্ষোভের সাথে বলেন, ব্যাংক থেকে দুই লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তিন বিঘা জমিতে এইচএম-৩৭৫৫ জাতের ভুট্টা চাষ করেছি। কোম্পানি বলেছিল সোনার ফসল হবে। এখন জমিতে আগাছা ছাড়া কিছুই নাই। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা অবিলম্বে হিমালয় সীড্স কোম্পানির কাছে তাদের ক্ষতিপুরণ দাবি করেন। একই সাথে কৃষকদের সাথে প্রতারণা বন্ধ করে কৃষি উপকরণের গুণগতমান নিশ্চিত করারও দাবি জানান।
এব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাক আহমেদ বলেন, ভুক্তভোগী কৃষকরা ভুট্টা বীজ সংগ্রহ করার সময় উপজেলা কৃষি অফিস বা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে কোন প্রকার যোগাযোগ করে নাই। কৃষি বিভাগ কৃষকদের পরামর্শ ও সহযোগিতা করার জন্য সর্বদাই প্রস্তুত রয়েছে। তবে বীজ ব্যাপারে কৃষকদের অপ্রত্যাশিত বিষয়টি নিয়ে পঞ্চগড়ে বীজ প্রত্যয়ন অফিসে পরামর্শ বা অভিযোগ করতে পারেন।
এদিকে স্থানীয় কৃষকদের একটাই দাবি- দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আর্থিক ক্ষতি পূরণ দিতে হবে। অন্যথায় এই বিপর্যয় শুধু একটি মৌসুম নয়, বরং তাদের ভবিষ্যৎ জীবিকাকে হুমকির মুখে ফেলবে।