চুয়াডাঙ্গা ০৩:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

করোনা টিকা নিয়ে ফাইজারের বিরুদ্ধে মডার্নার মামলা

Padma Sangbad
৩৪

করোনা টিকা নিয়ে ফাইজারের বিরুদ্ধে মডার্নার মামলা
করোনার টিকা নিয়ে ফাইজার-বায়োএনটেক কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে মার্কিন কোম্পানি মডার্না। কোভিড টিকা উদ্ভাবনে ফাইজার প্যাটেন্ট লঙ্ঘন করেছে বলে মডার্নার অভিযোগ। কোম্পানিটির দাবি, মহামারির কয়েক বছর আগে মডার্না যে প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছিল সেই প্রযুক্তি ‘কপি’ করেছে ফাইজার-বায়োএনটেক। খবর রয়টার্স।

শুক্রবার (২৬ আগস্ট) এক বিবৃতিতে মডার্না জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের একটি ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট এবং জার্মানির ডুসেলডর্ফের একটি আঞ্চলিক আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে।

বিবৃতিতে মডার্নার প্রধান নির্বাহী স্টেফানে ব্যানসেল বলেন, আমরা এই মামলা দায়ের করছি যে উদ্ভাবনী এমআরএনএ প্রযুক্তিতে আমরা পথিকৃত, যা তৈরিতে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে এবং কোভিড-১৯ মহামারি শুরু হওয়ার দশক আগে প্যাটেন্ট করা হয়েছে–সেই প্রযুক্তি রক্ষার জন্য।

করোনাভাইরাসের টিকা উদ্ভাবনকারী প্রথম কয়েকটি কোম্পানির মধ্যে ছিল মডার্না ও ফাইজার-বায়োএনটেক।

এক দশক আগে ম্যাসাচুসেটসের ক্যামব্রিজভিত্তিক মডার্না মেসেঞ্জার আরএনএ (এমআরএনএ) টিকা প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে। যা করোনাভাইরাসের টিকা উদ্ভাবনের অভূতপূর্ব গতি এনে দেয়।

টিকা অনুমোদনে আগে যেখানে কয়েক বছর লাগত তা কয়েক মাসে সম্পন্ন হয়। এতে বড় ভূমিকা ছিল মূলত এমআরএনএ টিকা।

জার্মানিভিত্তিক বায়োএনটেকও এই খাতে কাজ করছিল যখন তারা মার্কিন ফার্মা জায়ান্ট ফাইজারের সঙ্গে অংশীদার হয়।

২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ফাইজার-বায়োএনটেকের কোভিড টিকাকে প্রথম অনুমতি দেয়। এর এক সপ্তা পর অনুমোদন পায় মডার্নার টিকা।

এই বছর কোভিড টিকা থেকে মডার্না আয় করেছে ১০.৪ বিলিয়ন ডলার। আর ফাইজারের টিকা থেকে আয় এসেছে ২২ বিলিয়ন ডলার।

মডার্নার দাবি, অনুমতি ছাড়াই ফাইজার-বায়োএনটেক তাদের এমআরএনএ প্রযুক্তি কপি করেছে। যা ২০২০ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে প্যাটেন্ট করেছে মডার্না।

ফাইজার-বায়োএনটেকের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি কোম্পানি একাধিক মামলা করেছে। যাদের দাবি, অংশীদারিত্বে উদ্ভাবিত টিকাটি তাদের প্যাটেন্ট লঙ্ঘন করেছে। ফাইজার-বায়োএনটেক জানিয়েছে, তারা তাদের প্যাটেন্ট দৃঢ়ভাবে রক্ষা করবে।

জুলাই মাসে জার্মানির কিউরভ্যাক জার্মানিতে বায়োএনটেকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। ওই সময় এক বিবৃতিতে বায়োএনটেক দাবি করেছে, তাদের কাজ মৌলিক।

যুক্তরাষ্ট্রে মডার্নার বিরুদ্ধেও প্যাটেন্ট লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা হয়েছে এবং এমআরএনএ প্রযুক্তি নিয়ে মার্কিন ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব হেলথ-এর সঙ্গে বিবাদ চলমান রয়েছে।

শুক্রবারের বিবৃতিতে মডার্না বলেছে, ফাইজার-বায়োএনটেক তাদের দুই ধরনের মেধা সম্পদ ব্যবহার করেছে। প্রথমটি হলো এমআরএনএ কাঠামো, যা তাদের বিজ্ঞানীরা ২০১০ সালে উদ্ভাবন শুরু করেন এবং ২০১৫ সালে প্রথম মানবদেহে ট্রায়াল হয়। দ্বিতীয়টি হলো একটি পূর্ণদৈর্ঘ্যের স্পাইক প্রোটিন। মডার্না বলছে, যা তাদের বিজ্ঞানীরা মিডল ইস্ট রেসিপাইরেটরি সিনড্রোম (মার্স) রোগের টিকার জন্য উদ্ভাবন করেছিলেন।

ফাইজার জানিয়েছে, তারা এখনও মামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানে না এবং এই মুহূর্তে কোনও মন্তব্য করতে পারছে না।।

আপডেট : ০৮:৪৪:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ অগাস্ট ২০২২

করোনা টিকা নিয়ে ফাইজারের বিরুদ্ধে মডার্নার মামলা

আপডেট : ০৮:৪৪:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ অগাস্ট ২০২২
৩৪

করোনা টিকা নিয়ে ফাইজারের বিরুদ্ধে মডার্নার মামলা
করোনার টিকা নিয়ে ফাইজার-বায়োএনটেক কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে মার্কিন কোম্পানি মডার্না। কোভিড টিকা উদ্ভাবনে ফাইজার প্যাটেন্ট লঙ্ঘন করেছে বলে মডার্নার অভিযোগ। কোম্পানিটির দাবি, মহামারির কয়েক বছর আগে মডার্না যে প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছিল সেই প্রযুক্তি ‘কপি’ করেছে ফাইজার-বায়োএনটেক। খবর রয়টার্স।

শুক্রবার (২৬ আগস্ট) এক বিবৃতিতে মডার্না জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের একটি ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট এবং জার্মানির ডুসেলডর্ফের একটি আঞ্চলিক আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে।

বিবৃতিতে মডার্নার প্রধান নির্বাহী স্টেফানে ব্যানসেল বলেন, আমরা এই মামলা দায়ের করছি যে উদ্ভাবনী এমআরএনএ প্রযুক্তিতে আমরা পথিকৃত, যা তৈরিতে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে এবং কোভিড-১৯ মহামারি শুরু হওয়ার দশক আগে প্যাটেন্ট করা হয়েছে–সেই প্রযুক্তি রক্ষার জন্য।

করোনাভাইরাসের টিকা উদ্ভাবনকারী প্রথম কয়েকটি কোম্পানির মধ্যে ছিল মডার্না ও ফাইজার-বায়োএনটেক।

এক দশক আগে ম্যাসাচুসেটসের ক্যামব্রিজভিত্তিক মডার্না মেসেঞ্জার আরএনএ (এমআরএনএ) টিকা প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে। যা করোনাভাইরাসের টিকা উদ্ভাবনের অভূতপূর্ব গতি এনে দেয়।

টিকা অনুমোদনে আগে যেখানে কয়েক বছর লাগত তা কয়েক মাসে সম্পন্ন হয়। এতে বড় ভূমিকা ছিল মূলত এমআরএনএ টিকা।

জার্মানিভিত্তিক বায়োএনটেকও এই খাতে কাজ করছিল যখন তারা মার্কিন ফার্মা জায়ান্ট ফাইজারের সঙ্গে অংশীদার হয়।

২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ফাইজার-বায়োএনটেকের কোভিড টিকাকে প্রথম অনুমতি দেয়। এর এক সপ্তা পর অনুমোদন পায় মডার্নার টিকা।

এই বছর কোভিড টিকা থেকে মডার্না আয় করেছে ১০.৪ বিলিয়ন ডলার। আর ফাইজারের টিকা থেকে আয় এসেছে ২২ বিলিয়ন ডলার।

মডার্নার দাবি, অনুমতি ছাড়াই ফাইজার-বায়োএনটেক তাদের এমআরএনএ প্রযুক্তি কপি করেছে। যা ২০২০ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে প্যাটেন্ট করেছে মডার্না।

ফাইজার-বায়োএনটেকের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি কোম্পানি একাধিক মামলা করেছে। যাদের দাবি, অংশীদারিত্বে উদ্ভাবিত টিকাটি তাদের প্যাটেন্ট লঙ্ঘন করেছে। ফাইজার-বায়োএনটেক জানিয়েছে, তারা তাদের প্যাটেন্ট দৃঢ়ভাবে রক্ষা করবে।

জুলাই মাসে জার্মানির কিউরভ্যাক জার্মানিতে বায়োএনটেকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। ওই সময় এক বিবৃতিতে বায়োএনটেক দাবি করেছে, তাদের কাজ মৌলিক।

যুক্তরাষ্ট্রে মডার্নার বিরুদ্ধেও প্যাটেন্ট লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা হয়েছে এবং এমআরএনএ প্রযুক্তি নিয়ে মার্কিন ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব হেলথ-এর সঙ্গে বিবাদ চলমান রয়েছে।

শুক্রবারের বিবৃতিতে মডার্না বলেছে, ফাইজার-বায়োএনটেক তাদের দুই ধরনের মেধা সম্পদ ব্যবহার করেছে। প্রথমটি হলো এমআরএনএ কাঠামো, যা তাদের বিজ্ঞানীরা ২০১০ সালে উদ্ভাবন শুরু করেন এবং ২০১৫ সালে প্রথম মানবদেহে ট্রায়াল হয়। দ্বিতীয়টি হলো একটি পূর্ণদৈর্ঘ্যের স্পাইক প্রোটিন। মডার্না বলছে, যা তাদের বিজ্ঞানীরা মিডল ইস্ট রেসিপাইরেটরি সিনড্রোম (মার্স) রোগের টিকার জন্য উদ্ভাবন করেছিলেন।

ফাইজার জানিয়েছে, তারা এখনও মামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানে না এবং এই মুহূর্তে কোনও মন্তব্য করতে পারছে না।।