চুয়াডাঙ্গা ০৫:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাংনীতে বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে শিশুসহ আহত ২০, জনমনে আতঙ্ক

Padma Sangbad

​গাংনী প্রতিনিধি।।

মেহেরপুরের গাংনীতে বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার দুপুরে গাংনী উপজেলার বামন্দী ইউনিয়নের রামনগর পশ্চিমপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। কুকুরের এই আকস্মিক তাণ্ডবে পুরো গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী একটি কুকুর মেরে ফেলেছে।

​আহতদের মধ্যে রয়েছেন মো: জিনারুল ইসলাম, ফাতেমা খাতুন, আবেদা খাতুন, রশিদুল ইসলাম, রেকছনা খাতুন, আসলাম হক, আকলিমা খাতুন, নবির হোসেন, জিহাদ আলী, আরিফুল ইসলাম, সাকিবুল হোসেন, জাকির হোসেন, রাফসান আলী, ফাতেমা বেগম ও হামিদা খাতুনসহ আরও অনেকে।

​স্থানীয়রা জানান, গত জুন মাসে পৌর শহরে ১৭ জন কুকুরের কামড়ে আহত হওয়ার পর বর্তমানে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। রামনগরের ভুক্তভোগীরা জানান, ৪-৫টি কুকুর দলবদ্ধভাবে বিভিন্ন পাড়ায় দৌড়াদৌড়ি শুরু করে এবং পথচারীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এমনকি কুকুরগুলো গৃহপালিত ছাগলকেও কামড়িয়ে আহত করেছে।

​আহত মো: জিনারুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে ভোগান্তির আশঙ্কায় অনেকেই প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন। সেখানে ভ্যাকসিন নিতে আমার প্রায় তিন হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এলাকায় কুকুরের ভয়ে সবাই চরম আতঙ্কে রয়েছে।

​বামন্দী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শাহ আলম বলেন, “বিভিন্ন এলাকায় কুকুরের উপদ্রব চরম আকার ধারণ করেছে। ছোট শিশুদের নিয়ে অভিভাবকরা আতঙ্কে আছেন। আমি আহতদের দ্রুত সরকারি হাসপাতালে গিয়ে ভ্যাকসিন নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।

​এ বিষয়ে গাংনী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম জানান, ২০২২ সালের পর কুকুরের ভ্যাকসিনেশনের বিষয়ে সরকারিভাবে কোনো নতুন বরাদ্দ বা নির্দেশনা আসেনি।

​তবে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো: একরামুল হক জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন মজুদ রয়েছে। তিনি বলেন, “আহতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভ্যাকসিন নেওয়া জরুরি। তারা হাসপাতালে এলেই সরকারিভাবে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে।

​গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসেন জানান, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণের সরকারি বিধি অনুযায়ী দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

​সচেতন মহলের দাবি, পৌরসভা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকরী উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

আপডেট : ০৪:০৩:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

গাংনীতে বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে শিশুসহ আহত ২০, জনমনে আতঙ্ক

আপডেট : ০৪:০৩:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

​গাংনী প্রতিনিধি।।

মেহেরপুরের গাংনীতে বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার দুপুরে গাংনী উপজেলার বামন্দী ইউনিয়নের রামনগর পশ্চিমপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। কুকুরের এই আকস্মিক তাণ্ডবে পুরো গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী একটি কুকুর মেরে ফেলেছে।

​আহতদের মধ্যে রয়েছেন মো: জিনারুল ইসলাম, ফাতেমা খাতুন, আবেদা খাতুন, রশিদুল ইসলাম, রেকছনা খাতুন, আসলাম হক, আকলিমা খাতুন, নবির হোসেন, জিহাদ আলী, আরিফুল ইসলাম, সাকিবুল হোসেন, জাকির হোসেন, রাফসান আলী, ফাতেমা বেগম ও হামিদা খাতুনসহ আরও অনেকে।

​স্থানীয়রা জানান, গত জুন মাসে পৌর শহরে ১৭ জন কুকুরের কামড়ে আহত হওয়ার পর বর্তমানে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। রামনগরের ভুক্তভোগীরা জানান, ৪-৫টি কুকুর দলবদ্ধভাবে বিভিন্ন পাড়ায় দৌড়াদৌড়ি শুরু করে এবং পথচারীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এমনকি কুকুরগুলো গৃহপালিত ছাগলকেও কামড়িয়ে আহত করেছে।

​আহত মো: জিনারুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে ভোগান্তির আশঙ্কায় অনেকেই প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন। সেখানে ভ্যাকসিন নিতে আমার প্রায় তিন হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এলাকায় কুকুরের ভয়ে সবাই চরম আতঙ্কে রয়েছে।

​বামন্দী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শাহ আলম বলেন, “বিভিন্ন এলাকায় কুকুরের উপদ্রব চরম আকার ধারণ করেছে। ছোট শিশুদের নিয়ে অভিভাবকরা আতঙ্কে আছেন। আমি আহতদের দ্রুত সরকারি হাসপাতালে গিয়ে ভ্যাকসিন নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।

​এ বিষয়ে গাংনী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম জানান, ২০২২ সালের পর কুকুরের ভ্যাকসিনেশনের বিষয়ে সরকারিভাবে কোনো নতুন বরাদ্দ বা নির্দেশনা আসেনি।

​তবে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো: একরামুল হক জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন মজুদ রয়েছে। তিনি বলেন, “আহতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভ্যাকসিন নেওয়া জরুরি। তারা হাসপাতালে এলেই সরকারিভাবে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে।

​গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসেন জানান, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণের সরকারি বিধি অনুযায়ী দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

​সচেতন মহলের দাবি, পৌরসভা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকরী উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।