চুয়াডাঙ্গা ০৫:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে দুই বাসের মুখোমুখি দুর্ঘটনায় নিহত ৪, আহত ২০

Padma Sangbad
১৮

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা৷।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতী ইউনিয়নের ফোর সিজন এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার (৯ মে) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে দুই যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন, যাদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

নিহতরা হলেন,মুহাম্মদ নাঈম (২৩), নাইমুর ইসলাম জিহাদ (২৪), রেহানা বেগম ও মনির আহমদ (২৫)। নিহত জিহাদ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সদস্য বলে জানা গেছে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন মুহাম্মদ মাসুম (৩০), আরাফাত (২২), দ্বীপ দত্ত (৩০) ও রিয়াজ (২৮) সহ আরও অনেকে। গুরুতর আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের অনেকের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত রয়েছে। কয়েকজনের হাত-পা ভেঙে গেছে এবং গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে।

লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অর্থোপেডিক্স বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. তাসফিক আহমেদ জানান, দুর্ঘটনায় আহত সাতজনকে ট্রমা সেন্টারে আনা হয়। তাদের মধ্যে একজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দ্রুতগতিতে আসা দুটি বাস ফোর সিজন এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের বিকট শব্দে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিস, হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়।

দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। কিছু সময় যান চলাচল বন্ধ থাকলেও পরে পুলিশ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

এদিকে দুর্ঘটনায় আহত আরাফাত জানান, তারা মারসা পরিবহনের একটি বাসে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে একটি বিষয় নিয়ে বাসচালক মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন। এরপরও একই চালক বাস চালাতে থাকেন। একপর্যায়ে কুয়াকাটা সড়ক এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একই কোম্পানির আরেকটি বাসের সাথে সংঘর্ষ হয়। এতে তার দুই বন্ধু নিহত হন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা মহাসড়কে বেপরোয়া যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

আপডেট : ০১:৫৩:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

চট্টগ্রামে দুই বাসের মুখোমুখি দুর্ঘটনায় নিহত ৪, আহত ২০

আপডেট : ০১:৫৩:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬
১৮

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা৷।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতী ইউনিয়নের ফোর সিজন এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার (৯ মে) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে দুই যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন, যাদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

নিহতরা হলেন,মুহাম্মদ নাঈম (২৩), নাইমুর ইসলাম জিহাদ (২৪), রেহানা বেগম ও মনির আহমদ (২৫)। নিহত জিহাদ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সদস্য বলে জানা গেছে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন মুহাম্মদ মাসুম (৩০), আরাফাত (২২), দ্বীপ দত্ত (৩০) ও রিয়াজ (২৮) সহ আরও অনেকে। গুরুতর আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের অনেকের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত রয়েছে। কয়েকজনের হাত-পা ভেঙে গেছে এবং গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে।

লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অর্থোপেডিক্স বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. তাসফিক আহমেদ জানান, দুর্ঘটনায় আহত সাতজনকে ট্রমা সেন্টারে আনা হয়। তাদের মধ্যে একজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দ্রুতগতিতে আসা দুটি বাস ফোর সিজন এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের বিকট শব্দে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিস, হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়।

দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। কিছু সময় যান চলাচল বন্ধ থাকলেও পরে পুলিশ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

এদিকে দুর্ঘটনায় আহত আরাফাত জানান, তারা মারসা পরিবহনের একটি বাসে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে একটি বিষয় নিয়ে বাসচালক মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন। এরপরও একই চালক বাস চালাতে থাকেন। একপর্যায়ে কুয়াকাটা সড়ক এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একই কোম্পানির আরেকটি বাসের সাথে সংঘর্ষ হয়। এতে তার দুই বন্ধু নিহত হন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা মহাসড়কে বেপরোয়া যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।