চুয়াডাঙ্গা ০৮:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তাহসিফ হত্যা মামলায় চার দিনের রিমান্ডে দীপ

Padma Sangbad
১০

অনলাইন ডেস্ক।।
বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির হত্যা মামলায় তার ‘বন্ধুর ছোটভাই’ আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াস শুনানি শেষে এই রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, গাজীপুরের টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন এ আসামির ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক ভাবে তদন্তে সন্দিগ্ধ আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ মামলার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। তার বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত। তদন্ত সমাপ্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন। আসামি জামিনে মুক্তি পেলে পলাতক হয়ে মামলার তদন্তে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তার করার জন্য সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা প্রয়োজন।

রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আজিজুল হক দিদার রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন,ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার ভিডিও করেছিলেন তাহসিফ সাউরি। পরবর্তীতে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছাড়া হয়। এ কারণে ভিকটিমকে খুন করা হতে পারে। সে তথ্য উদ্‌ঘাটনের জন্য, এ ঘটনার সঙ্গে আর কারা জড়িত তা জানার জন্য আসামির রিমান্ড প্রয়োজন।

আসামি দীপের পক্ষে আইনজীবী মনিরুল ইসলাম ও মুতাসিম বিল্লাহ রিমান্ড বাতিল চেয়ে শুনানি করেন।

আইনজীবী মনিরুল ইসলাম বলেন, ভিকটিমের সঙ্গে আসামির ৬ বছরের সম্পর্ক, পারিবারিকভাবে এ সম্পর্ক। ভিকটিমের বাবা কিন্তু একটি বারও বলেননি আসামি ঘটনার সঙ্গে জড়িত। আর ভিকটিম বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা। রাত ২টার দিকে তিনি কেন মাদক আস্তানায় যাবেন, তা বোধোদয় নয়। আসামি মিডিয়া ট্রায়ালের শিকার। ভিকটিমের শরীরে কিন্তু কোনো আঘাতের চিহ্ন নাই। ভিকটিমের পরিবার কিন্তু মামলা করতে চায়নি।

দুই পক্ষের শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

রিমান্ডের আদেশ হওয়ার পর দীপকে আদালত থেকে বের করার সময় এক স্বজনের উদ্দেশে দীপ বলেন, ‘আমি ফুললি স্ট্রং। টেনশন করতে হবে না।’

গত বৃহস্পতিবার রাতে মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে হেফাজতে নিয়েছিল পিবিআই। তিন দিনেও মামলা না হওয়ায় তাকে নিয়ে কী সিদ্ধান্ত হবে, সেই আলোচনার মধ্যে শুক্রবার রাতে তাকে তাকে নৌ-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। শুক্রবার রাতে তাহসিফের বাবার করা হত্যা মামলায় দীপকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

২৯ অক্টোবর বিকালে তুরাগের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিঢ সাউরির মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। তিনি গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় আসামি দীপের ডাকে বাসার নিচে নামেন এবং নিজের বাইক নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যান।

দীপ আটকের পর বলেছিলেন, রেস্তোরাঁয় একসঙ্গে রাতের খাবার খেয়ে উত্তরা হাউজ বিল্ডিং এলাকা থেকে তাহসিফের কাছ থেকে আলাদা হয়ে যান। তার দেওয়া তথ্যেই গত ৩০ অক্টোবর সকালে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে তাহসিফের বাইকটি উদ্ধার করা হয়। ‘মাদকস্পট’ হিসেবে পরিচিত ওই এলাকায় মধ্যরাতে তাহসিফের সঙ্গে যাওয়ার কথা স্বীকারও করেন দীপ। একপর্যায়ে তাকে নিয়ে গতকাল টঙ্গীর ওই এলাকা পরিদর্শনেও গিয়েছিলেন পিবিআই কর্মকর্তারা।

আপডেট : ০৬:১৭:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

তাহসিফ হত্যা মামলায় চার দিনের রিমান্ডে দীপ

আপডেট : ০৬:১৭:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
১০

অনলাইন ডেস্ক।।
বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির হত্যা মামলায় তার ‘বন্ধুর ছোটভাই’ আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াস শুনানি শেষে এই রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, গাজীপুরের টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন এ আসামির ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক ভাবে তদন্তে সন্দিগ্ধ আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ মামলার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। তার বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত। তদন্ত সমাপ্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন। আসামি জামিনে মুক্তি পেলে পলাতক হয়ে মামলার তদন্তে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তার করার জন্য সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা প্রয়োজন।

রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আজিজুল হক দিদার রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন,ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার ভিডিও করেছিলেন তাহসিফ সাউরি। পরবর্তীতে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছাড়া হয়। এ কারণে ভিকটিমকে খুন করা হতে পারে। সে তথ্য উদ্‌ঘাটনের জন্য, এ ঘটনার সঙ্গে আর কারা জড়িত তা জানার জন্য আসামির রিমান্ড প্রয়োজন।

আসামি দীপের পক্ষে আইনজীবী মনিরুল ইসলাম ও মুতাসিম বিল্লাহ রিমান্ড বাতিল চেয়ে শুনানি করেন।

আইনজীবী মনিরুল ইসলাম বলেন, ভিকটিমের সঙ্গে আসামির ৬ বছরের সম্পর্ক, পারিবারিকভাবে এ সম্পর্ক। ভিকটিমের বাবা কিন্তু একটি বারও বলেননি আসামি ঘটনার সঙ্গে জড়িত। আর ভিকটিম বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা। রাত ২টার দিকে তিনি কেন মাদক আস্তানায় যাবেন, তা বোধোদয় নয়। আসামি মিডিয়া ট্রায়ালের শিকার। ভিকটিমের শরীরে কিন্তু কোনো আঘাতের চিহ্ন নাই। ভিকটিমের পরিবার কিন্তু মামলা করতে চায়নি।

দুই পক্ষের শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

রিমান্ডের আদেশ হওয়ার পর দীপকে আদালত থেকে বের করার সময় এক স্বজনের উদ্দেশে দীপ বলেন, ‘আমি ফুললি স্ট্রং। টেনশন করতে হবে না।’

গত বৃহস্পতিবার রাতে মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে হেফাজতে নিয়েছিল পিবিআই। তিন দিনেও মামলা না হওয়ায় তাকে নিয়ে কী সিদ্ধান্ত হবে, সেই আলোচনার মধ্যে শুক্রবার রাতে তাকে তাকে নৌ-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। শুক্রবার রাতে তাহসিফের বাবার করা হত্যা মামলায় দীপকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

২৯ অক্টোবর বিকালে তুরাগের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিঢ সাউরির মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। তিনি গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় আসামি দীপের ডাকে বাসার নিচে নামেন এবং নিজের বাইক নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যান।

দীপ আটকের পর বলেছিলেন, রেস্তোরাঁয় একসঙ্গে রাতের খাবার খেয়ে উত্তরা হাউজ বিল্ডিং এলাকা থেকে তাহসিফের কাছ থেকে আলাদা হয়ে যান। তার দেওয়া তথ্যেই গত ৩০ অক্টোবর সকালে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে তাহসিফের বাইকটি উদ্ধার করা হয়। ‘মাদকস্পট’ হিসেবে পরিচিত ওই এলাকায় মধ্যরাতে তাহসিফের সঙ্গে যাওয়ার কথা স্বীকারও করেন দীপ। একপর্যায়ে তাকে নিয়ে গতকাল টঙ্গীর ওই এলাকা পরিদর্শনেও গিয়েছিলেন পিবিআই কর্মকর্তারা।