দর্শনা ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে ভারতীয় দুই যাত্রীর পণ্য আটকের অভিযোগ, বিজিবির ভাষ্য ও কাস্টমসের বক্তব্য

দৈনিক পদ্মা সংবাদ নিজস্ব ডেস্ক:
দর্শনা আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় দুই ভারতীয় যাত্রীর কসমেটিকস, শাড়ি ও অন্যান্য পণ্য আটকের অভিযোগ উঠেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর বিরুদ্ধে। আটকের পর কোনো ধরনের রসিদ বা লিখিত কাগজ না দেওয়া এবং পণ্য ফেরত না দিয়ে উল্টো পাসপোর্ট লক বা ব্ল্যাকলিস্ট করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ওই দুই যাত্রী। তবে বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিজনেস ভিসার অপব্যবহার করে অতিরিক্ত বাণিজ্যিক পণ্য বহন করায় নিয়ম অনুযায়ী তা আটক করা হয়েছে।
অভিযোগকারী দুই ভারতীয় যাত্রীর মধ্যে রাহেন মণ্ডলের বাড়ি ভারতের নদিয়া জেলার বানপুর বাগানপাড়া এলাকায় এবং অভিজিৎ বিশ্বাসের বাড়ি একই জেলার গাজনা পশ্চিমপাড়া এলাকায়। তাদের ভাষ্যমতে, রাহেন মণ্ডল বিজনেস ভিসায় এবং অভিজিৎ বিশ্বাস টুরিস্ট ভিসায় বাংলাদেশে প্রবেশ করেন।
তারা অভিযোগ করেন, ভারতের গেদে সীমান্তে সমস্ত ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দর্শনা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় বিজিবি চেকপোস্টে তাদের ব্যাগ তল্লাশি করা হয় এবং কিছু পণ্য জোরপূর্বক রেখে দেওয়া হয়। রাহেন মণ্ডল দাবি করেন, তারা নিয়মিতভাবে কাস্টমসের মাধ্যমে কর পরিশোধ করেই এই ধরনের পণ্য এনে বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করেন। কিন্তু এবার কোনো লিখিত রসিদ বা জব্দ তালিকা ছাড়াই তাদের পণ্য রেখে দেওয়া হয়েছে। অপর যাত্রী অভিজিৎ বিশ্বাস বলেন, পণ্য অবৈধ হলে কাস্টমসের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা থাকলেও তা না করে তাদের পাসপোর্ট লক বা ব্ল্যাকলিস্ট করার হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি অনুরোধ করা সত্ত্বেও তাদের কোনো মেমো বা রশিদ দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে বিজিবি-৬-এর পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান জানান, সংশ্লিষ্ট যাত্রী বিজনেস ভিসায় বাংলাদেশে এসেছেন এবং বিজনেস ভিসার অপব্যবহার করে অতিরিক্ত পরিমাণে বাণিজ্যিক পণ্য বহন করছিলেন। ব্যাগেজ বিধিমালা অনুযায়ী এভাবে অতিরিক্ত পণ্য আনা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত। তবে সীমিত পরিমাণে নমুনা পণ্য আনার সুযোগ রয়েছে। তিনি আরও জানান, আটককৃত অতিরিক্ত পণ্য নিয়মানুযায়ী কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হবে এবং তারা পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
অন্যদিকে, দর্শনা কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোরশেদুল আলম জানান, স্থলপথে আসা যাত্রীদের ক্ষেত্রে ২০২৫ সালের নির্দিষ্ট ব্যাগেজ বিধিমালা রয়েছে। বিধিমালার বাইরে কোনো পণ্য থাকলে বা নিয়ম লঙ্ঘিত হলে তা কাস্টমসে জমা দেওয়ার নিয়ম। তবে বিজিবি ঠিক কোন প্রক্রিয়ায় ও কোথা থেকে পণ্য আটক করেছে, সে বিষয়ে কাস্টমসের কাছে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য আসেনি। পণ্যগুলো কাস্টমসে জমা পড়ার পর সেগুলোর ধরন, পরিমাণ ও আটকের কারণ যাচাই করে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।




















