চুয়াডাঙ্গা ০২:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বেনাপোলে মিষ্টি আখের চাষে লাভের মুখ দেখছেন শতাধিক কৃষক, বাড়ছে আবাদ

Padma Sangbad
৭

যশোর সংবাদদাতা:

যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানার পুটখালী এলাকায় কম খরচে অধিক লাভ হওয়ায় মিষ্টি আখের চাষ দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এ অঞ্চলের শতাধিক কৃষক আখ চাষে ব্যাপক লাভবান হওয়ায় সীমান্ত লাগোয়া এই এলাকায় আখের আবাদ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। উৎপাদিত আখ কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ জনপদের বিভিন্ন সড়কের ধারে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী হাটবাজার।

যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল, পুটখালী, বাগআঁচড়া, গোগা ও ডিহিসহ সীমান্ত এলাকার মাটি ধান, পাট, গম, ভুট্টা ও বিভিন্ন সবজি চাষের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। তবে ঐতিহ্যবাহী এসব ফসলে আশানুরূপ লাভ না পাওয়ায় কৃষকরা এখন কম খরচে বেশি আয়ের আশায় মিষ্টি আখের চাষের দিকে ঝুঁকছেন। চলতি মৌসুমে শুধু শার্শা উপজেলাতেই প্রায় ৪৭ হেক্টর জমিতে আখের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে সীমান্তবর্তী পুটখালী গ্রামেই সবচেয়ে বেশি আখের চাষ হয়েছে এবং ফলনও বেশ ভালো হয়েছে।

এলাকায় চাষাবাদ হওয়া জনপ্রিয় জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘গান্ডারি’, ‘লিপস্টিক সুন্দরী’ ও ‘চায়না লাল সুন্দরী’। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখানকার অত্যন্ত সুস্বাদু ও মিষ্টি আখ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হচ্ছে। বাজারে ভালো দাম থাকায় চাষিরা দারুণ আর্থিক সচ্ছলতা পাচ্ছেন।

অভিজ্ঞ কৃষকদের হিসাব অনুযায়ী, এক বিঘা জমিতে আখ চাষ করতে সব মিলিয়ে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়। আর আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং ভালো ফলন পেলে সেখান থেকে অনায়াসেই দেড় থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব।

শুধু পুটখালী গ্রামেই শতাধিক কৃষক বর্তমানে বাণিজ্যিকভিত্তিতে আখ চাষের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। আখের মূল চাষের পাশাপাশি জমির অপচয় রোধে সাথী ফসল হিসেবে বিভিন্ন স্বল্পমেয়াদি শাকসবজিও চাষ করছেন তারা। প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এলাকার রাস্তার পাশে ভ্যানে করে আখের হালি বিক্রি করতে দেখা যায়। এছাড়া অনেক ব্যবসায়ী ভ্যানের ওপর ছোট মেশিন বসিয়ে তাজা আখের রস তৈরি করে বিক্রি করছেন। আবার রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন দূরদূরান্ত থেকে পাইকাররা সরাসরি ক্ষেতে বা বাগানে এসে পাইকারি দরে আখ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

পুটখালীর আখের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এগুলো বেশ নরম ও অতিরিক্ত মিষ্টি, যার কারণে বাজারজুড়ে এর আলাদা কদর রয়েছে। স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পর এই আখ চলে যাচ্ছে বাগেরহাট, সিলেট, ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের নানা জেলায়।

স্থানীয় সফল কৃষক আরমান হোসেন বলেন, “আখ চাষে আমাদের এলাকার অনেকেই অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন। আমাদের এই সফলতা দেখে আশপাশের অন্য কৃষকরাও নতুন করে আখ চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। এতে কৃষকের আর্থিক সচ্ছলতা বাড়ার পাশাপাশি পুটখালীতে কৃষিপণ্যের এক নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।”

নাভারন থেকে আসা মৌসুমি আখ ব্যবসায়ী আব্দুস শুকুর জানান, বাজারে মিষ্টি আখের ব্যাপক চাহিদা ও লাভ বেশি থাকায় তিনি নিয়মিত পুটখালী থেকে আখ সংগ্রহ করে বিভিন্ন বাজারে নিয়ে যান। তার মতো প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেক ব্যবসায়ী এখানে আসছেন।

এ বিষয়ে শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা বলেন, “এ অঞ্চলে মূলত গান্ডারি, ঈশ্বরদী-১৬ ও লিপস্টিক জাতের আখের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। তুলনামূলক কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় কৃষকরা এই লাভজনক চাষে অত্যন্ত আগ্রহী হয়ে উঠছেন। চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৪৭ হেক্টর জমিতে আখের আবাদ হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে মাঠপর্যায়ে চাষিদের নিয়মিত উন্নত প্রযুক্তির পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। আমাদের বিশ্বাস, আগামীতে এই অঞ্চলে আখের আবাদ আরও বহুগুণ সম্প্রসারিত হবে।”

আপডেট : ০১:৪৮:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

বেনাপোলে মিষ্টি আখের চাষে লাভের মুখ দেখছেন শতাধিক কৃষক, বাড়ছে আবাদ

আপডেট : ০১:৪৮:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
৭

যশোর সংবাদদাতা:

যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানার পুটখালী এলাকায় কম খরচে অধিক লাভ হওয়ায় মিষ্টি আখের চাষ দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এ অঞ্চলের শতাধিক কৃষক আখ চাষে ব্যাপক লাভবান হওয়ায় সীমান্ত লাগোয়া এই এলাকায় আখের আবাদ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। উৎপাদিত আখ কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ জনপদের বিভিন্ন সড়কের ধারে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী হাটবাজার।

যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল, পুটখালী, বাগআঁচড়া, গোগা ও ডিহিসহ সীমান্ত এলাকার মাটি ধান, পাট, গম, ভুট্টা ও বিভিন্ন সবজি চাষের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। তবে ঐতিহ্যবাহী এসব ফসলে আশানুরূপ লাভ না পাওয়ায় কৃষকরা এখন কম খরচে বেশি আয়ের আশায় মিষ্টি আখের চাষের দিকে ঝুঁকছেন। চলতি মৌসুমে শুধু শার্শা উপজেলাতেই প্রায় ৪৭ হেক্টর জমিতে আখের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে সীমান্তবর্তী পুটখালী গ্রামেই সবচেয়ে বেশি আখের চাষ হয়েছে এবং ফলনও বেশ ভালো হয়েছে।

এলাকায় চাষাবাদ হওয়া জনপ্রিয় জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘গান্ডারি’, ‘লিপস্টিক সুন্দরী’ ও ‘চায়না লাল সুন্দরী’। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখানকার অত্যন্ত সুস্বাদু ও মিষ্টি আখ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হচ্ছে। বাজারে ভালো দাম থাকায় চাষিরা দারুণ আর্থিক সচ্ছলতা পাচ্ছেন।

অভিজ্ঞ কৃষকদের হিসাব অনুযায়ী, এক বিঘা জমিতে আখ চাষ করতে সব মিলিয়ে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়। আর আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং ভালো ফলন পেলে সেখান থেকে অনায়াসেই দেড় থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব।

শুধু পুটখালী গ্রামেই শতাধিক কৃষক বর্তমানে বাণিজ্যিকভিত্তিতে আখ চাষের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। আখের মূল চাষের পাশাপাশি জমির অপচয় রোধে সাথী ফসল হিসেবে বিভিন্ন স্বল্পমেয়াদি শাকসবজিও চাষ করছেন তারা। প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এলাকার রাস্তার পাশে ভ্যানে করে আখের হালি বিক্রি করতে দেখা যায়। এছাড়া অনেক ব্যবসায়ী ভ্যানের ওপর ছোট মেশিন বসিয়ে তাজা আখের রস তৈরি করে বিক্রি করছেন। আবার রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন দূরদূরান্ত থেকে পাইকাররা সরাসরি ক্ষেতে বা বাগানে এসে পাইকারি দরে আখ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

পুটখালীর আখের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এগুলো বেশ নরম ও অতিরিক্ত মিষ্টি, যার কারণে বাজারজুড়ে এর আলাদা কদর রয়েছে। স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পর এই আখ চলে যাচ্ছে বাগেরহাট, সিলেট, ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের নানা জেলায়।

স্থানীয় সফল কৃষক আরমান হোসেন বলেন, “আখ চাষে আমাদের এলাকার অনেকেই অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন। আমাদের এই সফলতা দেখে আশপাশের অন্য কৃষকরাও নতুন করে আখ চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। এতে কৃষকের আর্থিক সচ্ছলতা বাড়ার পাশাপাশি পুটখালীতে কৃষিপণ্যের এক নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।”

নাভারন থেকে আসা মৌসুমি আখ ব্যবসায়ী আব্দুস শুকুর জানান, বাজারে মিষ্টি আখের ব্যাপক চাহিদা ও লাভ বেশি থাকায় তিনি নিয়মিত পুটখালী থেকে আখ সংগ্রহ করে বিভিন্ন বাজারে নিয়ে যান। তার মতো প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেক ব্যবসায়ী এখানে আসছেন।

এ বিষয়ে শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা বলেন, “এ অঞ্চলে মূলত গান্ডারি, ঈশ্বরদী-১৬ ও লিপস্টিক জাতের আখের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। তুলনামূলক কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় কৃষকরা এই লাভজনক চাষে অত্যন্ত আগ্রহী হয়ে উঠছেন। চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৪৭ হেক্টর জমিতে আখের আবাদ হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে মাঠপর্যায়ে চাষিদের নিয়মিত উন্নত প্রযুক্তির পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। আমাদের বিশ্বাস, আগামীতে এই অঞ্চলে আখের আবাদ আরও বহুগুণ সম্প্রসারিত হবে।”