চুয়াডাঙ্গা ০৮:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চলনবিলে ঐতিহ্যবাহী বাউত উৎসব

Padma Sangbad
২১

চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি: চলনবিল অঞ্চলে শুরু হয়েছে মাছ শিকারের ঐতিহ্যবাহী বাউত উৎসব। পানি কমে যাওয়ায় এ বছর আগেই মাছ ধরার এই আয়োজন করা হয়েছে। চাটমোহর উপজেলার রামের বিল, খলিশাগাড়ি বিল, ডিকশি বিল, বিলকুড়ালিয়া, গুমানী ও চিকনাই নদী এবং চলনবিল অঞ্চলের বিভিন্ন বিলে চলছে এই উৎসব।

চলনবিল অঞ্চলের ভাষায় এই উৎসবকে বলা হয় ‘বাউত উৎসব’। সপ্তাহের প্রতি শনিবার ও মঙ্গলবার নির্দিষ্ট একটি বিলে বাউত নামে। বিভিন্ন উপজেলার শত শত মানুষ ভোর হতেই নানা যানবাহনে মাছ ধরার হরেক রকম উপকরণ নিয়ে হাজির হন বিলে। হৈ হৈ রৈ রৈ করতে করতে করতে আল্লাহ ও রাসুলের নাম নিয়ে নেমে পড়ে বিলের শীতল পানিতে।

শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত মাছ ধরার এ উৎসবে যোগ দেয়। গত শনিবার সকালে চাটমোহর উপজেলার খলিশাগাড়ি ও আফরার বিলে নামে বাউত। চাটমোহর, ভাঙ্গুড়াসহ আশপাশের উপজেলার কয়েক শত মানুষ নেমে পড়ে বিলে। আগামী এক মাস এই মাছ ধরার উৎসব চলবে বলে জানান বাউতে আসা মৎস্য শিকারীরা।

বাউতে আসা সৌখিন মৎস্য শিকারী আমীর আলী জানান, এই মাছধরা উৎসবে বোয়াল, শোল, রুই, কাতলা ছাড়াও হরেক রকম দেশী প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। প্রতি বছরই চলনবিল অঞ্চলে নদী ও বিলে কার্তিক, আগ্রহায়ণ ও পৌষ মাসে বাউত নামে।

এবার পানি দ্রুতই শুকিয়ে যাচ্ছে, তাই এখনই এই মাছধরার উৎসব শুরু হয়েছে। এদিকে বাউত উৎসবের কারণে বিলের জীববৈচিত্র্য চরমভাবে বিনষ্ট হচ্ছে। বিলের অসংখ্য ছোটমাছ মারা যাচ্ছে।

চাটমোহর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল মতিন জানান, বাউত উৎসব চলছে দীর্ঘদিন ধরেই। এতে বিলে জীববৈচিত্র্য বিনষ্ট হচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারি-বেসরকারিভাবে গণসচেতনতা বাড়ানো দরকার।

আপডেট : ০৫:০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

চলনবিলে ঐতিহ্যবাহী বাউত উৎসব

আপডেট : ০৫:০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
২১

চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি: চলনবিল অঞ্চলে শুরু হয়েছে মাছ শিকারের ঐতিহ্যবাহী বাউত উৎসব। পানি কমে যাওয়ায় এ বছর আগেই মাছ ধরার এই আয়োজন করা হয়েছে। চাটমোহর উপজেলার রামের বিল, খলিশাগাড়ি বিল, ডিকশি বিল, বিলকুড়ালিয়া, গুমানী ও চিকনাই নদী এবং চলনবিল অঞ্চলের বিভিন্ন বিলে চলছে এই উৎসব।

চলনবিল অঞ্চলের ভাষায় এই উৎসবকে বলা হয় ‘বাউত উৎসব’। সপ্তাহের প্রতি শনিবার ও মঙ্গলবার নির্দিষ্ট একটি বিলে বাউত নামে। বিভিন্ন উপজেলার শত শত মানুষ ভোর হতেই নানা যানবাহনে মাছ ধরার হরেক রকম উপকরণ নিয়ে হাজির হন বিলে। হৈ হৈ রৈ রৈ করতে করতে করতে আল্লাহ ও রাসুলের নাম নিয়ে নেমে পড়ে বিলের শীতল পানিতে।

শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত মাছ ধরার এ উৎসবে যোগ দেয়। গত শনিবার সকালে চাটমোহর উপজেলার খলিশাগাড়ি ও আফরার বিলে নামে বাউত। চাটমোহর, ভাঙ্গুড়াসহ আশপাশের উপজেলার কয়েক শত মানুষ নেমে পড়ে বিলে। আগামী এক মাস এই মাছ ধরার উৎসব চলবে বলে জানান বাউতে আসা মৎস্য শিকারীরা।

বাউতে আসা সৌখিন মৎস্য শিকারী আমীর আলী জানান, এই মাছধরা উৎসবে বোয়াল, শোল, রুই, কাতলা ছাড়াও হরেক রকম দেশী প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। প্রতি বছরই চলনবিল অঞ্চলে নদী ও বিলে কার্তিক, আগ্রহায়ণ ও পৌষ মাসে বাউত নামে।

এবার পানি দ্রুতই শুকিয়ে যাচ্ছে, তাই এখনই এই মাছধরার উৎসব শুরু হয়েছে। এদিকে বাউত উৎসবের কারণে বিলের জীববৈচিত্র্য চরমভাবে বিনষ্ট হচ্ছে। বিলের অসংখ্য ছোটমাছ মারা যাচ্ছে।

চাটমোহর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল মতিন জানান, বাউত উৎসব চলছে দীর্ঘদিন ধরেই। এতে বিলে জীববৈচিত্র্য বিনষ্ট হচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারি-বেসরকারিভাবে গণসচেতনতা বাড়ানো দরকার।