সাতক্ষীরায় বাড়ছে পুষ্টিকর পানিফলের চাষ, বাম্পার ফলনে লাভবান কৃষকরা

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
অধিক ফলন, কম উৎপাদন খরচ এবং কর্মসংস্থানের দারুণ এক বিকল্প হিসেবে সাতক্ষীরার কৃষকদের মাঝে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে পুষ্টিকর ও সুস্বাদু ‘পানিফল’ চাষ। জেলার দেবহাটা ও কলারোয়া উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকার মাঠজুড়ে এখন সবুজ পাতার সমারোহে দৃশ্যমান হচ্ছে পানিফলের ক্ষেত। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখানকার উৎপাদিত ফল দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হচ্ছে।
সাতক্ষীরা-কালিগঞ্জ সড়কের দুপাশে, স্থানীয় হাটবাজারের ফুটপাতে কিংবা সরাসরি ক্ষেত থেকে তুলে মহাসড়কের ধারে পসরা সাজিয়ে পানিফল বিক্রি করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা। বর্তমানে প্রতি কেজি পানিফল পাইকারি ও খুচরা বাজারে ৩০ থেকে ৫৫ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে। ফলটির স্থানীয় উৎপাদন ভালো হওয়ায় এটি কৃষকদের কাছে একটি লাভজনক মৌসুমি ফসলে পরিণত হয়েছে।
কৃষকদের মতে, পানিফল চাষের জন্য ডোবা, খানা কিংবা মৎস্য ঘেরের মতো জলাবদ্ধ স্থান অত্যন্ত উপযোগী। সামান্য লবণাক্ত ও মিষ্টি—উভয় প্রকার পানিতেই এটি ভালো জন্মে। পানিফল চাষে অতিরিক্ত কোনো প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয় না এবং এতে সার ও কীটনাশকের ব্যবহারও নামমাত্র লাগে। কলারোয়া উপজেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় ২০ হেক্টর জমিতে পানিফলের আবাদ হয়েছে। প্রতি বিঘা জমিতে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ হলেও ফল বিক্রি করে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে ‘পানি সিংড়া’ নামে পরিচিত এ ফলের আবাদ কলারোয়ার গোপিনাথপুর, তেলকাড়া, গোয়ালচাতর, কুশোডাঙ্গা, মুরারিকাটি ও কেড়াগাছিসহ বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। কলারোয়ার ফল স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, যশোর, মানিকগঞ্জ ও বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে।
অন্যদিকে দেবহাটা উপজেলার সখিপুর, গাজিরহাট, কামটা, কোঁড়া, দেবহাটা সদর, পারুলিয়া, কুলিয়া ও বহেরা এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে পানিফলের চাষ হয়েছে। মৌসুমী এই ব্যবসা বহু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে। ব্যবসায়ীরা মৌসুমের শুরুতে চাষিদের মাঝে অগ্রিম অর্থ বিনিয়োগ করেন এবং পরবর্তীতে বাজারদর অনুযায়ী ফসল সংগ্রহ করেন।
দেবহাটা উপজেলা কৃষি অফিসার শওকত ওসমান জানান, পানিফল চাষকে প্রথাগতভাবে প্রধান কৃষি খাতের অন্তর্ভুক্ত ধরা না হলেও এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম। গত বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে এর আবাদ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষি অধিদপ্তর থেকে চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।
এদিকে কলারোয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এস এম এনামুল হক জানান, পানিফলের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। এর চাষের মাধ্যমে একদিকে যেমন জলাবদ্ধ ও পতিত জমির সঠিক ব্যবহার হচ্ছে, অন্যদিকে কৃষকদের আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
























