চুয়াডাঙ্গা ০২:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাকিস্তানি নারীর ‘হানিট্র্যাপে’ ভারতীয় নৌসেনা, গোপন তথ্য পাচার!

Padma Sangbad
৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
পাকিস্তানি এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার কাছে গোপন সামুদ্রিক তথ্য পাচারের অভিযোগে ভারতীয় নৌবাহিনীর ৩১ বছর বয়সী এক নাবিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক ‘হানিট্র্যাপের’ মাধ্যমে তাকে ফাঁসানো হয়েছিল বলে ভারতীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা পিটিআই।

আজ রোববার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্থান টাইমস ও দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

গ্রেপ্তার নাবিকের নাম প্রদীপ মুখার্জি। অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স (সিআই) শাখা গতকাল শনিবার তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটোরে ভারতীয় নৌবাহিনীর নেতৃত্ব প্রশিক্ষণকেন্দ্র আইএনএস অগ্রানি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।

পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা প্রদীপ ২০১৪ সালে ভারতীয় নৌবাহিনীতে যোগ দেন। তিনি বিশাখাপত্তনমভিত্তিক ইস্টার্ন নেভাল কমান্ডের অধীনে নাবিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গ্রেপ্তারের সময় তিনি আইএনএস অগ্রানিতে ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন কোর্সে অংশ নিচ্ছিলেন। সেখানে তিনি প্রায় এক সপ্তাহ আগে গিয়েছিলেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, কয়েক মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক নারী পাকিস্তানি গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে প্রদীপের যোগাযোগ হয়। ধীরে ধীরে ওই নারী তার সঙ্গে অনলাইন সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে সেই সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে বিশাখাপত্তনম নৌঘাঁটির কৌশলগত নৌসম্পদ, নৌবহরের চলাচল এবং ঘাঁটির কার্যক্রমের কাঠামো-সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করা হয় বলে অভিযোগ।

অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স শাখা সীমান্তপারের গুপ্তচরবৃত্তি ও সন্ত্রাসবাদ-সংশ্লিষ্ট হুমকি তদন্ত করে থাকে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রদীপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহজনক ডিজিটাল কার্যক্রম শনাক্ত হওয়ার পর তদন্ত শুরু হয়। এরপর তাকে নজরদারিতে রাখা হয়।

দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সন্দেহজনক ডিজিটাল কার্যক্রম শনাক্ত হওয়ার পর নাবিকটির ওপর নজরদারি চালানো হয়। পরে নৌবাহিনীর কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে কাউন্টার ইন্টেলিজেন্সের একটি বিশেষ দল আইএনএস অগ্রানিতে গিয়ে তাকে আটক করে। স্থানীয় পুলিশকেও তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানানো হয়।

গ্রেপ্তারের পর তাকে স্থানীয় আদালতে হাজির করা হয়। এরপর আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিজয়ওয়াড়ায় কাউন্টার ইন্টেলিজেন্সের সদর দপ্তরে নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে তদন্ত এখনো চলমান। ঠিক কী পরিমাণ ও কী ধরনের প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত তথ্য তার মাধ্যমে পাচার হয়েছে, সেই তথ্যের পরিমাণ ও প্রকৃতি নির্ধারণের চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। একই সঙ্গে ওই পাকিস্তানি গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে তার যোগাযোগ এবং এই ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রদীপের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন এবং আদালতে তা প্রমাণিত হয়নি।

আপডেট : ০১:২৩:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

পাকিস্তানি নারীর ‘হানিট্র্যাপে’ ভারতীয় নৌসেনা, গোপন তথ্য পাচার!

আপডেট : ০১:২৩:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
পাকিস্তানি এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার কাছে গোপন সামুদ্রিক তথ্য পাচারের অভিযোগে ভারতীয় নৌবাহিনীর ৩১ বছর বয়সী এক নাবিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক ‘হানিট্র্যাপের’ মাধ্যমে তাকে ফাঁসানো হয়েছিল বলে ভারতীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা পিটিআই।

আজ রোববার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্থান টাইমস ও দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

গ্রেপ্তার নাবিকের নাম প্রদীপ মুখার্জি। অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স (সিআই) শাখা গতকাল শনিবার তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটোরে ভারতীয় নৌবাহিনীর নেতৃত্ব প্রশিক্ষণকেন্দ্র আইএনএস অগ্রানি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।

পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা প্রদীপ ২০১৪ সালে ভারতীয় নৌবাহিনীতে যোগ দেন। তিনি বিশাখাপত্তনমভিত্তিক ইস্টার্ন নেভাল কমান্ডের অধীনে নাবিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গ্রেপ্তারের সময় তিনি আইএনএস অগ্রানিতে ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন কোর্সে অংশ নিচ্ছিলেন। সেখানে তিনি প্রায় এক সপ্তাহ আগে গিয়েছিলেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, কয়েক মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক নারী পাকিস্তানি গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে প্রদীপের যোগাযোগ হয়। ধীরে ধীরে ওই নারী তার সঙ্গে অনলাইন সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে সেই সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে বিশাখাপত্তনম নৌঘাঁটির কৌশলগত নৌসম্পদ, নৌবহরের চলাচল এবং ঘাঁটির কার্যক্রমের কাঠামো-সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করা হয় বলে অভিযোগ।

অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স শাখা সীমান্তপারের গুপ্তচরবৃত্তি ও সন্ত্রাসবাদ-সংশ্লিষ্ট হুমকি তদন্ত করে থাকে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রদীপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহজনক ডিজিটাল কার্যক্রম শনাক্ত হওয়ার পর তদন্ত শুরু হয়। এরপর তাকে নজরদারিতে রাখা হয়।

দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সন্দেহজনক ডিজিটাল কার্যক্রম শনাক্ত হওয়ার পর নাবিকটির ওপর নজরদারি চালানো হয়। পরে নৌবাহিনীর কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে কাউন্টার ইন্টেলিজেন্সের একটি বিশেষ দল আইএনএস অগ্রানিতে গিয়ে তাকে আটক করে। স্থানীয় পুলিশকেও তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানানো হয়।

গ্রেপ্তারের পর তাকে স্থানীয় আদালতে হাজির করা হয়। এরপর আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিজয়ওয়াড়ায় কাউন্টার ইন্টেলিজেন্সের সদর দপ্তরে নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে তদন্ত এখনো চলমান। ঠিক কী পরিমাণ ও কী ধরনের প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত তথ্য তার মাধ্যমে পাচার হয়েছে, সেই তথ্যের পরিমাণ ও প্রকৃতি নির্ধারণের চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। একই সঙ্গে ওই পাকিস্তানি গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে তার যোগাযোগ এবং এই ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রদীপের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন এবং আদালতে তা প্রমাণিত হয়নি।