চুয়াডাঙ্গা ০২:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নওগাঁয় পাটের ভালো ফলন ও ন্যায্য দামে চাষিদের মুখে হাসি, ফিরছে সুদিন

Padma Sangbad
৬

নওগাঁ সংবাদদাতা:

নওগাঁয় চলতি মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলন এবং বাজারে আশানুরূপ চড়া দাম পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের হতাশা কেটে সুদিন ফিরেছে। অনুক আবহাওয়া, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত এবং আঁশের মান ভালো হওয়ায় একদিকে যেমন উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে, অন্যদিকে ন্যায্য দাম পেয়ে দারুণ খুশি জেলার পাটচাষিরা।

জেলার বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে দেখা যায়, ভোরবেলা থেকেই ভ্যান, ইজিবাইক ও নছিমনসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে দেশি, তোষা ও মেস্তা জাতের পাট বিক্রির জন্য নিয়ে আসছেন চাষিরা। হাটে চাহিদার তুলনায় পাটের সরবরাহ ভালো থাকায় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দরদাম করে সন্তোষজনক দামে তা বিক্রি করছেন তারা। বর্তমানে মান ও জাতভেদে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত দরে লেনদেন হচ্ছে।

মান্দার ঐতিহ্যবাহী সতীহাটে পাট বিক্রি করতে আসা তিলকপুর ইউনিয়নের তিলকপুর গ্রামের চাষি নোমান আহমেদ জানান, পাট কাটা থেকে শুরু করে পানিতে জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো, ধোয়া ও রোদে শুকানো বেশ কষ্টসাধ্য ও শ্রমের কাজ। তবে এবার মৌসুমের শুরুতে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় নদী-নালা ও জলাশয়গুলোতে পর্যাপ্ত পানি ছিল। ফলে পাট জাগ দেওয়া নিয়ে কৃষকদের কোনো বাড়তি দুর্ভোগ পোহাতে হয়নি। যথাসময়ে জাগ দেওয়ার কারণে পাটের আঁশের উজ্জ্বল রং ও গুণগত মানও বেশ ভালো হয়েছে। বাজারে এর ভালো চাহিদা রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কিছুদিন ঘরে রেখে এই পাট বিক্রি করতে পারলে মণপ্রতি ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম পাওয়া সম্ভব হবে।

একই হাটে আত্রাই উপজেলার বান্দাইখাড়া ইউনিয়নের চকশিমলা গ্রাম থেকে আসা চাষি ওমর ফারুক বলেন, “আমি এবার ১০ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। পাট পুরোপুরি কাটার আগেই ফড়িয়া ব্যবসায়ীরা অগ্রিম ৩ হাজার ৮০০ টাকা মণ দরে ২০ মণ পাটের বুকিং দিয়ে রেখেছিলেন। আজ বাকি পাট ৪ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি করলাম। গত বছরের তুলনায় এবার মণপ্রতি অন্তত ৭০০ টাকা বেশি দাম পাচ্ছি।”

নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মনজুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় মোট ৩ হাজার ১৭০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ করা হয়েছে। এই পরিমাণ জমি থেকে প্রায় ৮ হাজার ৯১০ টন পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং চাষিরা সঠিক সময়ে পরিচর্যা করায় উৎপাদিত পাটের মান অত্যন্ত চমৎকার হয়েছে, যা কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে বড় ভূমিকা রাখছে।

আপডেট : ০১:৫০:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

নওগাঁয় পাটের ভালো ফলন ও ন্যায্য দামে চাষিদের মুখে হাসি, ফিরছে সুদিন

আপডেট : ০১:৫০:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
৬

নওগাঁ সংবাদদাতা:

নওগাঁয় চলতি মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলন এবং বাজারে আশানুরূপ চড়া দাম পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের হতাশা কেটে সুদিন ফিরেছে। অনুক আবহাওয়া, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত এবং আঁশের মান ভালো হওয়ায় একদিকে যেমন উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে, অন্যদিকে ন্যায্য দাম পেয়ে দারুণ খুশি জেলার পাটচাষিরা।

জেলার বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে দেখা যায়, ভোরবেলা থেকেই ভ্যান, ইজিবাইক ও নছিমনসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে দেশি, তোষা ও মেস্তা জাতের পাট বিক্রির জন্য নিয়ে আসছেন চাষিরা। হাটে চাহিদার তুলনায় পাটের সরবরাহ ভালো থাকায় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দরদাম করে সন্তোষজনক দামে তা বিক্রি করছেন তারা। বর্তমানে মান ও জাতভেদে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত দরে লেনদেন হচ্ছে।

মান্দার ঐতিহ্যবাহী সতীহাটে পাট বিক্রি করতে আসা তিলকপুর ইউনিয়নের তিলকপুর গ্রামের চাষি নোমান আহমেদ জানান, পাট কাটা থেকে শুরু করে পানিতে জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো, ধোয়া ও রোদে শুকানো বেশ কষ্টসাধ্য ও শ্রমের কাজ। তবে এবার মৌসুমের শুরুতে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় নদী-নালা ও জলাশয়গুলোতে পর্যাপ্ত পানি ছিল। ফলে পাট জাগ দেওয়া নিয়ে কৃষকদের কোনো বাড়তি দুর্ভোগ পোহাতে হয়নি। যথাসময়ে জাগ দেওয়ার কারণে পাটের আঁশের উজ্জ্বল রং ও গুণগত মানও বেশ ভালো হয়েছে। বাজারে এর ভালো চাহিদা রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কিছুদিন ঘরে রেখে এই পাট বিক্রি করতে পারলে মণপ্রতি ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম পাওয়া সম্ভব হবে।

একই হাটে আত্রাই উপজেলার বান্দাইখাড়া ইউনিয়নের চকশিমলা গ্রাম থেকে আসা চাষি ওমর ফারুক বলেন, “আমি এবার ১০ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। পাট পুরোপুরি কাটার আগেই ফড়িয়া ব্যবসায়ীরা অগ্রিম ৩ হাজার ৮০০ টাকা মণ দরে ২০ মণ পাটের বুকিং দিয়ে রেখেছিলেন। আজ বাকি পাট ৪ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি করলাম। গত বছরের তুলনায় এবার মণপ্রতি অন্তত ৭০০ টাকা বেশি দাম পাচ্ছি।”

নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মনজুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় মোট ৩ হাজার ১৭০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ করা হয়েছে। এই পরিমাণ জমি থেকে প্রায় ৮ হাজার ৯১০ টন পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং চাষিরা সঠিক সময়ে পরিচর্যা করায় উৎপাদিত পাটের মান অত্যন্ত চমৎকার হয়েছে, যা কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে বড় ভূমিকা রাখছে।