দীর্ঘদিন পর মাঠে গোল্ডকাপ ফুটবল, গ্যালারি ছিল দর্শকে পূর্ণ
দর্শনা পৌরসভা একাদশকে ২–০ গোলে হারিয়ে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা একাদশের শুভসূচনা

দৈনিক পদ্মা সংবাদ নিজস্ব ডেস্ক।।
দীর্ঘদিন পর আবারও ফুটবলের উন্মাদনায় মুখর হয়ে উঠল চুয়াডাঙ্গার ঐতিহ্যবাহী পুরাতন স্টেডিয়াম। দর্শকের করতালি, বাদাম-ঝালমুড়ির আড্ডা আর মাঠের টানটান উত্তেজনায় জমে উঠল চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী আয়োজন।
রোববার বিকেল ৪টায় পুরাতন স্টেডিয়ামে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে সপ্তাহব্যাপী এ টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও চুয়াডাঙ্গার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয় চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা একাদশ ও দর্শনা পৌরসভা একাদশ। শুরু থেকেই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠা ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলে জয় পায় চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা একাদশ।
এই জয়ে টুর্নামেন্টে শুভ সূচনা করে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা এবং প্রথম সেমিফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে দলটি।
আজ সোমবার একই মাঠে দ্বিতীয় ম্যাচে আলমডাঙ্গা উপজেলা একাদশের মুখোমুখি হবে জীবননগর উপজেলা একাদশ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগে স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহারের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্র থেকে ইউনিয়ন এবং ইউনিয়ন থেকে গ্রাম পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামোর উন্নয়ন ও প্রতিযোগিতামূলক আয়োজন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টকে সেই বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজন চুয়াডাঙ্গায় ক্রীড়া চেতনার নতুন জাগরণ সৃষ্টি করবে এবং তরুণদের সম্ভাবনা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
খেলাধুলা তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলাবোধ, নেতৃত্বগুণ, সহনশীলতা ও দলগত চেতনা তৈরি করে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, মাদক ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনেও খেলাধুলার বড় ভূমিকা রয়েছে।
তিনি বলেন, প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বিকশিত করে তরুণদের মানবসম্পদে পরিণত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর। একটি মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্রের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বি.এম তারিক উজ জামান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য নেওয়াজ হালিমা আরুলী, পুলিশ সুপার রুহুল কবীর খান ও জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন, গীতা ও ত্রিপিটক পাঠ করা হয়। এরপর জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
পরে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিরা মাঠে নেমে দুই দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে পরিচিত হন। এরপর বলে কিক মেরে ও বেলুন উড়িয়ে সপ্তাহব্যাপী টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এ সময় নৃত্যের সঙ্গে গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের থিমসং পরিবেশন করা হয়।
টসে জিতে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা একাদশ ম্যাচের শুরু করে। প্রথমার্ধে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা। এক পর্যায়ে দলের হয়ে গোল করে শাকিল আহমেদ দলকে এগিয়ে নেন।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আবারও আক্রমণে যায় চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা। দলের হয়ে মহিবুল আরও একটি গোল করলে ব্যবধান দাঁড়ায় ২-০।
শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ২-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা একাদশ।
ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা দলের শাকিল আহমেদ।
খেলা শুরুর প্রায় এক ঘণ্টা আগে থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে ফুটবলপ্রেমী দর্শক স্টেডিয়ামে আসতে শুরু করেন। বিকেল ৪টার আগেই স্টেডিয়ামের তিনটি গ্যালারি দর্শকে পরিপূর্ণ হয়ে যায়।
গ্যালারিতে একদিকে চলেছে বাদাম ও ঝালমুড়ির আড্ডা, অন্যদিকে মাঠে চলেছে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার ফুটবল। দর্শকদের করতালি ও উচ্ছ্বাসে পুরো স্টেডিয়াম হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত।
মাগরিবের আজানের আগেই শেষ হয় উদ্বোধনী দিনের খেলা। দীর্ঘদিন পর জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টকে ঘিরে মাঠে এমন দর্শকসমাগম ও উৎসবের আবহ দেখা যায়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. হাদি জিয়া উদ্দিন, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী, আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিনুর আক্তার, জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিন, এনডিসি আলাউদ্দিন আল আজাদ, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাহাদ চৌধুরী, এএসএম আব্দুর রউফ শিপলু, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবু সাইফসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা।
এছাড়া জেলা মহিলা দলের সভাপতি রউফুন নাহার রিনা, সিনিয়র সহ-সভাপতি শেফালী খাতুন, সাধারণ সম্পাদক জাহানারা খাতুন, কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সদস্য নীলিমা ইসলাম বিশ্বাস মিলি, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম পিটু, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আনিসুর রহমান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ওহিন্দ্র কুমার মণ্ডল, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব বিপুল হাসান হ্যাজী, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন, সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনি, সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিপুল আশরাফ, জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, সদর থানা বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম, জেলা যুবদলের সভাপতি শরিফুজ্জামান সিজার, সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রশিদ ঝন্টু, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহেদ মোহাম্মদ রাজিব খান, সদর থানা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হামিদ উদ্দিন বাবু, সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মতিউর রহমান মিশর, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহজাহান খান, সাধারণ সম্পাদক মমিন মালিতা, এফএসসি ফুটবল ক্লাবের সভাপতি জুয়েল মাহমুদসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে চুয়াডাঙ্গা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও চুয়াডাঙ্গা পৌর মেয়র প্রার্থী শাহরিন হক মালিক, সিনিয়র সহ-সভাপতি রেজাউল হক জোয়াদ্দার রেজা, সাবেক কৃতি ফুটবলার মাহমুদুল হক লিটন, সারোয়ার হোসেন জোয়াদ্দার মধু, শরিফুল ইসলাম, নাজমুল হক শান্তি, সাবেক কৃতি গোলরক্ষক রবিউল ইসলাম মল্লিক, সাবেক কৃতি ফুটবলার মিজানুর রহমান মানিক, আইয়ুব হোসেন, টিপু সুলতান, শহিদুল কদর জোয়াদ্দারসহ সাবেক ও বর্তমান ক্রীড়া সংগঠকরা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া চুয়াডাঙ্গা জেলা ক্রীড়া সংস্থার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কাজী মামুনউজ্জামান আদুন, সদর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব ইমরান মহলদার রিন্টু, দামুড়হুদা উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মাহবুব বাচ্চু, জীবননগর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব শাহজাহান কবীর, আলমডাঙ্গা উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মামুনুর রশিদ মণ্ডল, চুয়াডাঙ্গা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ আশাবুল হক আশা, দপ্তর সম্পাদক সোহেল আহমেদ মালিক সুজন, রিমন মণ্ডলসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।





















