চুয়াডাঙ্গা ০৪:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভোটার নয়, দেশের প্রতিটি মানুষের প্রতিই সরকারের দায়বদ্ধতা রয়েছে: সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী

Padma Sangbad

দৈনিক পদ্মা সংবাদ নিজস্ব ডেস্ক।।
১২ ফেব্রুয়ারির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি সরকার গঠন করেছে উল্লেখ করে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, সরকার শুধু যারা ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে তাদের কাছে দায়বদ্ধ নয়; দেশের প্রতিটি নাগরিকের প্রতিই সরকারের দায়িত্ব রয়েছে। মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছে।

রোববার সকাল ১১টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে পরিচিতি ও মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার।

মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে সরকারের একটি নির্বাচনী ইশতেহার ছিল। দেশের সাধারণ মানুষ সেই ইশতেহারের প্রতি আস্থা ও সমর্থন জানিয়েছে। এখন সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দায়িত্ব সরকারের। খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো কর্মসূচির পাশাপাশি জনকল্যাণে আরও বড় ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও প্রাচীন। সোমপুর বিহার, ময়নামতির বিভিন্ন শিলালিপি ও প্রত্ননিদর্শন আমাদের হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষ্য বহন করে। এই সমৃদ্ধ ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে।

নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সমাজে নারীরা নানা ধরনের বৈষম্য ও অবহেলার শিকার হয়েছেন। বর্তমান সরকার নারীদের স্বাবলম্বী ও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতে কাজ করছে। দেশের নারীদের ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় এনে তাদের জীবনমান উন্নয়নের একটি বৃহৎ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কৃষি ও অর্থনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সম্পদ ও উর্বর কৃষিজমির দিক থেকে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি দেশ। বিপুল কৃষিজমি থাকা সত্ত্বেও দেশের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করতে হয়। কৃষকরা যদি আধুনিক ও পরিকল্পিত পদ্ধতিতে উৎপাদন বাড়াতে পারেন, তাহলে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে বাংলাদেশকে আরও স্বনির্ভর করা সম্ভব।

মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের দক্ষ শ্রমিকরা বিদেশে গিয়ে কঠোর পরিশ্রম করে অর্থ উপার্জন করছেন। দেশে যদি দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা যায় এবং তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব হয়, তাহলে দেশের অর্থনীতির ভিত আরও শক্তিশালী হবে।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংরক্ষিত মহিলা আসন-৫-এর সংসদ সদস্য নেওয়াজ হালিমা আরুলী বলেন, মাদকাসক্তি বর্তমানে সমাজের জন্য একটি ভয়াবহ সমস্যা। অনেক ক্ষেত্রে এর সূচনা হয় বিড়ি বা সিগারেটের মতো ক্ষতিকর অভ্যাস থেকে। তাই স্কুল পর্যায় থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, নারী নির্যাতনসহ সমাজে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে সরকারি সব দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। চুয়াডাঙ্গা জেলা তার দায়িত্বের আওতায় রয়েছে। ব্যস্ততার কারণে সবসময় সময় দেওয়া সম্ভব না হলেও তিনি নিয়মিত চুয়াডাঙ্গায় আসবেন এবং জেলার সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করবেন।

জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে জনবল সংকট রয়েছে। যেসব দপ্তরে শূন্য পদ রয়েছে এবং যেখানে জনবল প্রয়োজন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তা লিখিতভাবে জানাতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষা, মৎস্য ও স্বাস্থ্য খাতে জনবল ও চিকিৎসক সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি চুয়াডাঙ্গার উন্নয়নে সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

পুলিশ সুপার রুহুল কবীর খান বলেন, চুয়াডাঙ্গায় প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় রয়েছে। জেলার যেকোনো সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্টরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে জেলা পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে।

মাদক মামলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাদক উদ্ধারের পরিমাণ ও মামলার ধরন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে এবং আটক ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

সভায় আরও বক্তব্য দেন সিভিল সার্জন ডা. হাদি জিয়া উদ্দিন আহমেদ, ৫৮ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল রফিকুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আনিসুর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র, আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিনুর আক্তার, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিন, জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি, পাবলিক প্রসিকিউটর মারুফ সরোয়ার বাবু, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন, সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনি, জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম, সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হুসাইন মালিকসহ সংশ্লিষ্টরা।

মতবিনিময় সভায় জেলার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয় তুলে ধরেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা। বিশেষ করে সিজিএম কোর্ট ভবনের সংকট, হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট, অডিটোরিয়ামসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়। মন্ত্রী মনোযোগ দিয়ে এসব বিষয় শোনেন এবং সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ৬ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল নাজমুল হাসান, এনএসআইয়ের যুগ্ম পরিচালক সামসুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আব্দুর রশিদ, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী মুকুল কুমার মৈত্র, নেজারত ডেপুটি কালেক্টর আলাউদ্দিন আল আজাদ, সহকারী কমিশনার ফাহাদ চৌধুরী, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নুরুল ইসলাম, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাহাবুদ্দিন, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফরহাদুর রেজা, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান, দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক কামরুজ্জামান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অহীন্দ্র কুমার মণ্ডল, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান, জেলা তথ্য কর্মকর্তা শিল্পী মণ্ডল, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম পিটু, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ মিল্টনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান, বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ।

মতবিনিময় সভা শেষে বেলা ২টার দিকে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী জেলা শিল্পকলা একাডেমি কার্যালয় পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি শিল্পকলা একাডেমির কর্মকর্তা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।।

আপডেট : ০৩:৪৯:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভোটার নয়, দেশের প্রতিটি মানুষের প্রতিই সরকারের দায়বদ্ধতা রয়েছে: সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী

আপডেট : ০৩:৪৯:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দৈনিক পদ্মা সংবাদ নিজস্ব ডেস্ক।।
১২ ফেব্রুয়ারির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি সরকার গঠন করেছে উল্লেখ করে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, সরকার শুধু যারা ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে তাদের কাছে দায়বদ্ধ নয়; দেশের প্রতিটি নাগরিকের প্রতিই সরকারের দায়িত্ব রয়েছে। মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছে।

রোববার সকাল ১১টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে পরিচিতি ও মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার।

মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে সরকারের একটি নির্বাচনী ইশতেহার ছিল। দেশের সাধারণ মানুষ সেই ইশতেহারের প্রতি আস্থা ও সমর্থন জানিয়েছে। এখন সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দায়িত্ব সরকারের। খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো কর্মসূচির পাশাপাশি জনকল্যাণে আরও বড় ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও প্রাচীন। সোমপুর বিহার, ময়নামতির বিভিন্ন শিলালিপি ও প্রত্ননিদর্শন আমাদের হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষ্য বহন করে। এই সমৃদ্ধ ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে।

নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সমাজে নারীরা নানা ধরনের বৈষম্য ও অবহেলার শিকার হয়েছেন। বর্তমান সরকার নারীদের স্বাবলম্বী ও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতে কাজ করছে। দেশের নারীদের ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় এনে তাদের জীবনমান উন্নয়নের একটি বৃহৎ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কৃষি ও অর্থনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সম্পদ ও উর্বর কৃষিজমির দিক থেকে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি দেশ। বিপুল কৃষিজমি থাকা সত্ত্বেও দেশের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করতে হয়। কৃষকরা যদি আধুনিক ও পরিকল্পিত পদ্ধতিতে উৎপাদন বাড়াতে পারেন, তাহলে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে বাংলাদেশকে আরও স্বনির্ভর করা সম্ভব।

মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের দক্ষ শ্রমিকরা বিদেশে গিয়ে কঠোর পরিশ্রম করে অর্থ উপার্জন করছেন। দেশে যদি দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা যায় এবং তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব হয়, তাহলে দেশের অর্থনীতির ভিত আরও শক্তিশালী হবে।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংরক্ষিত মহিলা আসন-৫-এর সংসদ সদস্য নেওয়াজ হালিমা আরুলী বলেন, মাদকাসক্তি বর্তমানে সমাজের জন্য একটি ভয়াবহ সমস্যা। অনেক ক্ষেত্রে এর সূচনা হয় বিড়ি বা সিগারেটের মতো ক্ষতিকর অভ্যাস থেকে। তাই স্কুল পর্যায় থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, নারী নির্যাতনসহ সমাজে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে সরকারি সব দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। চুয়াডাঙ্গা জেলা তার দায়িত্বের আওতায় রয়েছে। ব্যস্ততার কারণে সবসময় সময় দেওয়া সম্ভব না হলেও তিনি নিয়মিত চুয়াডাঙ্গায় আসবেন এবং জেলার সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করবেন।

জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে জনবল সংকট রয়েছে। যেসব দপ্তরে শূন্য পদ রয়েছে এবং যেখানে জনবল প্রয়োজন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তা লিখিতভাবে জানাতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষা, মৎস্য ও স্বাস্থ্য খাতে জনবল ও চিকিৎসক সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি চুয়াডাঙ্গার উন্নয়নে সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

পুলিশ সুপার রুহুল কবীর খান বলেন, চুয়াডাঙ্গায় প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় রয়েছে। জেলার যেকোনো সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্টরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে জেলা পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে।

মাদক মামলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাদক উদ্ধারের পরিমাণ ও মামলার ধরন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে এবং আটক ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

সভায় আরও বক্তব্য দেন সিভিল সার্জন ডা. হাদি জিয়া উদ্দিন আহমেদ, ৫৮ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল রফিকুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আনিসুর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র, আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিনুর আক্তার, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিন, জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি, পাবলিক প্রসিকিউটর মারুফ সরোয়ার বাবু, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন, সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনি, জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম, সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হুসাইন মালিকসহ সংশ্লিষ্টরা।

মতবিনিময় সভায় জেলার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয় তুলে ধরেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা। বিশেষ করে সিজিএম কোর্ট ভবনের সংকট, হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট, অডিটোরিয়ামসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়। মন্ত্রী মনোযোগ দিয়ে এসব বিষয় শোনেন এবং সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ৬ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল নাজমুল হাসান, এনএসআইয়ের যুগ্ম পরিচালক সামসুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আব্দুর রশিদ, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী মুকুল কুমার মৈত্র, নেজারত ডেপুটি কালেক্টর আলাউদ্দিন আল আজাদ, সহকারী কমিশনার ফাহাদ চৌধুরী, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নুরুল ইসলাম, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাহাবুদ্দিন, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফরহাদুর রেজা, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান, দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক কামরুজ্জামান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অহীন্দ্র কুমার মণ্ডল, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান, জেলা তথ্য কর্মকর্তা শিল্পী মণ্ডল, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম পিটু, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ মিল্টনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান, বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ।

মতবিনিময় সভা শেষে বেলা ২টার দিকে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী জেলা শিল্পকলা একাডেমি কার্যালয় পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি শিল্পকলা একাডেমির কর্মকর্তা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।।