চুয়াডাঙ্গা ০৫:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফেসবুকে অনলাইন জুয়ার আসর, অন্ধকারে তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ

Padma Sangbad
৩৭

দৈনিক পদ্মা সংবাদ ডেস্ক :
বর্তমান বিশ্বের প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে স্মার্টফোন যেন মানুষের নিত্যদিনের সঙ্গী। যোগাযোগ, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে বিনোদন—সবকিছুই এখন হাতের মুঠোয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Facebook এর মাধ্যমে পৃথিবীর এক প্রান্তের খবর মুহূর্তেই পৌঁছে যাচ্ছে অন্য প্রান্তে। ২০০৪ সালে যাত্রা শুরু করা এই প্ল্যাটফর্ম বর্তমানে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন :আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবেন প্রধানমন্ত্রী

তবে প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহারের পাশাপাশি বাড়ছে অপব্যবহারও। বিশেষ করে ফেসবুককেন্দ্রিক অনলাইন জুয়া, বেটিং অ্যাপ, লোভনীয় গেম এবং সহজে টাকা আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার ফাঁদে ফেলা হচ্ছে তরুণ সমাজকে। বিভিন্ন অসাধু চক্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে গোপনে পরিচালনা করছে অনলাইন জুয়ার আসর। আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন, ফ্রি বোনাস, স্বল্প সময়ে লাভের প্রলোভন এবং ভুয়া লোন অফারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে টেনে নেওয়া হচ্ছে ভয়ংকর আসক্তির দিকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একবার অনলাইন জুয়ার নেশায় জড়িয়ে পড়লে ধীরে ধীরে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি মানসিক অবসাদ, পারিবারিক অশান্তি ও সামাজিক অপরাধ বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হয়। অনেক তরুণ পড়াশোনা ছেড়ে রাতভর অনলাইন বেটিংয়ে আসক্ত হয়ে পড়ছে। কেউ কেউ সর্বস্ব হারিয়ে হতাশাগ্রস্ত হয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডেও জড়িয়ে পড়ছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, সন্তানরা মোবাইল ফোন ব্যবহার করলেও তারা বুঝতে পারছেন না কোন অ্যাপ বা পেজের মাধ্যমে জুয়ার জগতে প্রবেশ করছে। সামাজিক সচেতনতার অভাব এবং সহজ ইন্টারনেট সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে প্রতারক চক্র দিন দিন আরও সক্রিয় হয়ে উঠছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, অনলাইন জুয়া ও প্রতারণামূলক কার্যক্রম বন্ধে কঠোর নজরদারি এবং দ্রুত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবৈধ বেটিং ও প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন বন্ধে প্রযুক্তিগত মনিটরিং বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আগামী প্রজন্ম ভয়াবহ সামাজিক বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে। তাই তরুণ সমাজকে রক্ষায় পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন এবং সমাজের সকল স্তরের মানুষকে একসঙ্গে কাজ করার বিকল্প নেই।

আপডেট : ০৭:৫৭:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

ফেসবুকে অনলাইন জুয়ার আসর, অন্ধকারে তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ

আপডেট : ০৭:৫৭:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
৩৭

দৈনিক পদ্মা সংবাদ ডেস্ক :
বর্তমান বিশ্বের প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে স্মার্টফোন যেন মানুষের নিত্যদিনের সঙ্গী। যোগাযোগ, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে বিনোদন—সবকিছুই এখন হাতের মুঠোয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Facebook এর মাধ্যমে পৃথিবীর এক প্রান্তের খবর মুহূর্তেই পৌঁছে যাচ্ছে অন্য প্রান্তে। ২০০৪ সালে যাত্রা শুরু করা এই প্ল্যাটফর্ম বর্তমানে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন :আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবেন প্রধানমন্ত্রী

তবে প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহারের পাশাপাশি বাড়ছে অপব্যবহারও। বিশেষ করে ফেসবুককেন্দ্রিক অনলাইন জুয়া, বেটিং অ্যাপ, লোভনীয় গেম এবং সহজে টাকা আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার ফাঁদে ফেলা হচ্ছে তরুণ সমাজকে। বিভিন্ন অসাধু চক্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে গোপনে পরিচালনা করছে অনলাইন জুয়ার আসর। আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন, ফ্রি বোনাস, স্বল্প সময়ে লাভের প্রলোভন এবং ভুয়া লোন অফারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে টেনে নেওয়া হচ্ছে ভয়ংকর আসক্তির দিকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একবার অনলাইন জুয়ার নেশায় জড়িয়ে পড়লে ধীরে ধীরে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি মানসিক অবসাদ, পারিবারিক অশান্তি ও সামাজিক অপরাধ বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হয়। অনেক তরুণ পড়াশোনা ছেড়ে রাতভর অনলাইন বেটিংয়ে আসক্ত হয়ে পড়ছে। কেউ কেউ সর্বস্ব হারিয়ে হতাশাগ্রস্ত হয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডেও জড়িয়ে পড়ছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, সন্তানরা মোবাইল ফোন ব্যবহার করলেও তারা বুঝতে পারছেন না কোন অ্যাপ বা পেজের মাধ্যমে জুয়ার জগতে প্রবেশ করছে। সামাজিক সচেতনতার অভাব এবং সহজ ইন্টারনেট সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে প্রতারক চক্র দিন দিন আরও সক্রিয় হয়ে উঠছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, অনলাইন জুয়া ও প্রতারণামূলক কার্যক্রম বন্ধে কঠোর নজরদারি এবং দ্রুত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবৈধ বেটিং ও প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন বন্ধে প্রযুক্তিগত মনিটরিং বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আগামী প্রজন্ম ভয়াবহ সামাজিক বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে। তাই তরুণ সমাজকে রক্ষায় পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন এবং সমাজের সকল স্তরের মানুষকে একসঙ্গে কাজ করার বিকল্প নেই।