মণিরামপুরে একাই চার দফতরের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন ইউএনও নিশাত তামান্না

অনলাইন ডেস্ক।।
যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় একাই চারটি গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিশাত তামান্না। প্রশাসনিক দক্ষতা, মানবিক দায়িত্ববোধ ও আন্তরিকতার বিরল সমন্বয় ঘটিয়ে তিনি এখন এলাকার মানুষের আস্থার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছেন। স্থানীয়রা বলছেন, একজন নারী প্রশাসক হয়েও তিনি কঠিন বাস্তবতায় যেভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তা সত্যিই অনুকরণীয়। ইউএনও নিশাত তামান্নার মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি, কর্মনিষ্ঠা ও সাহসিকতা মণিরামপুরে প্রশাসনের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে সর্বমহলে।
জানা যায়, ৩৫তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডার নিশাত তামান্না পিরোজপুর জেলার কৃতি সন্তান। ২০০৯ সালে এইচএসসি পাসের পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক সম্পন্ন করেন। প্রশাসনিক পেশায় যাত্রা শুরুর পর তিনি বরগুনার বেতাগী, তালতলী ও সদর উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মণিরামপুরে প্রথম নারী ইউএনও হিসেবে যোগদান করেন তিনি। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনসেবার মান নিশ্চিত করতে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহন করে চলেছেন। সরকার পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ৫আগস্ট উপজেলার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়রের পদ শূন্য হলে নিশাত তামান্নার ওপর অর্পিত হয় উপজেলা পরিষদ প্রশাসক ও পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব। পাশাপাশি মশি^মনগর ইউনিয়ন পরিষদেও প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। ফলে এককভাবে বর্তমানে তিনি চারটি দায়িত্ব একযোগে পালন করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা পরিষদ প্রশাসক, পৌর প্রশাসক ও ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসক। প্রতিদিনের দায়িত্ব পালন করা ছাড়াও তাকে প্রায় সময় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, সরেজমিন বিভিন্ন কাজ পরিদর্শন ও বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বয় সভা করতে হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ইউএনও সপ্তাহের বেশিরভাগ দিন ইউনিয়ন ও পৌর কার্যালয়ে বসে সেবা দিচ্ছেন মানুষের। যাতে সাধারণ মানুষ নির্বির্ঘেন তার কাছে পৌঁছাতে পারে। শুধু অফিসের চৌহদ্দিতে সীমাবদ্ধ নন, বরং মাঠে-ময়দানে উপস্থিত থেকে সেবা নিশ্চিত করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ তিনি। উপজেলা অফিস সূত্র জানায়, দাফতরিক কাজ ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমে অগ্রণী ভূমিকা রাখছেন ইউএনও নিশাত তামান্না। এক বাকপ্রতিবন্ধী কন্যার বিয়ের উদ্যোগ, লিজ বাতিল করে খেলার মাঠ সংরক্ষণ, নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, তরুণদের নিয়ে ‘তারুণ্য উৎসব’, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং শিল্পকলা একাডেমির কার্যক্রম চালু করাসহ অসংখ্য ইতিবাচক কার্যক্রমের মাধ্যমে তিনি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন।
এসব প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইউএনও নিশাত তামান্না বলেন, নিয়মতান্ত্রিকভাবেই গুরুত্বপূর্ণ চারটি দফতরের দায়িত্ব পড়েছে আমার ওপর। আমি চেষ্টা করছি প্রতিটি দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে। যদিও এটা অনেক বড় চাপ, তবুও সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক কাজ করে যাচ্ছি। তিনি আরও বলেন,দায়িত্বের পরিধি বড় নয়, আমি কাজটাকে আন্তরিকভাবে করার চেষ্টা করি। যতদিন এখানে আছি, ততদিন জনগণের কল্যাণেই কাজ করে যাব। জনগণ সহযোগিতা করছে বলেই এত কাজ গুলো করা সম্ভব হচ্ছে। আমি জনগনের প্রতি কৃতজ্ঞ।






















