চুয়াডাঙ্গা ০৪:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর উপহারের বাড়িতে ওঠার অপেক্ষায় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সামসুল

Padma Sangbad

অনলাইন ডেস্ক।।
অন্ধ সামসুল আলম। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ওই ব্যক্তি প্রায় ৪৫ বছর ধরে সরকারি জমিতে টিনের ছাউনি দিয়ে কোনো মতে জীবন যাপন করছিলেন। সারাদিন গ্রামে গ্রামে ভিক্ষা করেই চলত তার সংসার। মাথার উপর টিনের সেই ছাউনি দিয়ে কখন সূর্যের আলো আর রাতে চাঁদের আলো ঘরে উকি মারে। স্বামী-স্ত্রী সংসারে সন্তান না থাকলেও অভাব তাদের পিছু ছাড়েনি।গত সোমবার বিকেলে বাড়ির পাশে কথা হয় সামসুল আলমের সঙ্গে। মুখে একটা পান গুজিয়ে হাসতে হাসতে বলেন, পেটের ক্ষুদা গাও করে মিটাও কিন্তু বাড়ির ক্ষুদা মিটপার পাওনা (পারি না)। শেখের বেটি হাসিনা মাও মোক দালানের ঘর বানি দিবে। উপর থেকে স্যার আসি কয়া গেছিল। আর কদিন পর নাকি হামাক ওই বাড়িত নিয়া যাবে।
শুধু সামসুল নয়। পাশের বাড়িতেই আছে আর এক অন্ধ মোকলেছুর রহমান। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১০ বছর ধরে লক্ষীরাম বাবুর জমিদার বাড়ির সরকারি জমিতে টিনের ছাউনি করে আছি। আমার আগের বাড়ি ছিল পার্শ্ববর্তী নবাবগঞ্জ উপজেলার ৩নং গোলাপগঞ্জ রঘুনাথ পুর এলাকায়। সেখানেও অন্যের জায়গায় বসবাস করেছিলাম। ইউএনও স্যার আছিল। কয়া গেয়ে হামাক থাকবার জন্য একটা বাড়ি বানাওচে।
অন্ধ মোকলেছুর আর সামসুল নয় এবার উপজেলায় ৪১৫ জন ব্যক্তিকে তাদের থাকার জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর তুলে দেওয়া হবে কয়েক দিনের মধ্যে। বিরামপুর উপজেলা প্রকল্পবাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় চার ইউনিয়নের ৪১৫টি পাকা ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। এসব ঘর উপজেলা ভূমিহীনদের মাঝে বিতরণ করা হবে। এর মধ্যে খানপুর ইউনিয়নে ৩১১টি, কাটলা ইউনিয়নে ১৭ দিওড় ইউনিয়নে ২৮টি এবং বিনাইল ইউনিয়নে ৫৯টি ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। ঘরগুলো নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৭কোটি ৯৬ লক্ষ ৫০০০ হাজার টাকা।
সরেজমিনে উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, বাজারের পাশে একটি পুকুর পাড়ে নির্মাণ করা হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন বাড়ি। বাড়িগুলোতে ব্যবহার করা হয়েছে লাল রংঙের টিন। দুই রুম বিশিষ্ট বাড়িতে রয়েছে একটি রান্নাঘর ও টয়লেট। বাড়িগুলোর নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের দিকে। তবে কাটলা ইউনিয়ন এবং জোতবানি, বিনাইল ইউনিয়নে নির্মাণ কাজ এখনো শেষ হয়নি। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তাদের নির্মাণ কাজ শেষ হবে। উপজেলা প্রকল্পবাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) কাওসার আলী বলেন, ঘরগুলো নির্মাণকাজের শুরু থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজেই উপস্থিত হয়ে দেখভাল করছেন। কাজের যেন কোনো অনিয়ম না হয় সেই দিকে সব সময় তিনি নজর রাখছেন। ঘরগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার পরিমল সরকার জানান, মুজিব জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সারাদেশের ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য সেমি পাকা ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। উপজেলায় ৪১৫টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার পাচ্ছেন ওই ঘর। খুব দ্রুতই নির্মাণ কাজ শেষ করে ঘরগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।।

আপডেট : ১০:৫৬:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ জানুয়ারী ২০২১

প্রধানমন্ত্রীর উপহারের বাড়িতে ওঠার অপেক্ষায় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সামসুল

আপডেট : ১০:৫৬:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ জানুয়ারী ২০২১

অনলাইন ডেস্ক।।
অন্ধ সামসুল আলম। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ওই ব্যক্তি প্রায় ৪৫ বছর ধরে সরকারি জমিতে টিনের ছাউনি দিয়ে কোনো মতে জীবন যাপন করছিলেন। সারাদিন গ্রামে গ্রামে ভিক্ষা করেই চলত তার সংসার। মাথার উপর টিনের সেই ছাউনি দিয়ে কখন সূর্যের আলো আর রাতে চাঁদের আলো ঘরে উকি মারে। স্বামী-স্ত্রী সংসারে সন্তান না থাকলেও অভাব তাদের পিছু ছাড়েনি।গত সোমবার বিকেলে বাড়ির পাশে কথা হয় সামসুল আলমের সঙ্গে। মুখে একটা পান গুজিয়ে হাসতে হাসতে বলেন, পেটের ক্ষুদা গাও করে মিটাও কিন্তু বাড়ির ক্ষুদা মিটপার পাওনা (পারি না)। শেখের বেটি হাসিনা মাও মোক দালানের ঘর বানি দিবে। উপর থেকে স্যার আসি কয়া গেছিল। আর কদিন পর নাকি হামাক ওই বাড়িত নিয়া যাবে।
শুধু সামসুল নয়। পাশের বাড়িতেই আছে আর এক অন্ধ মোকলেছুর রহমান। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১০ বছর ধরে লক্ষীরাম বাবুর জমিদার বাড়ির সরকারি জমিতে টিনের ছাউনি করে আছি। আমার আগের বাড়ি ছিল পার্শ্ববর্তী নবাবগঞ্জ উপজেলার ৩নং গোলাপগঞ্জ রঘুনাথ পুর এলাকায়। সেখানেও অন্যের জায়গায় বসবাস করেছিলাম। ইউএনও স্যার আছিল। কয়া গেয়ে হামাক থাকবার জন্য একটা বাড়ি বানাওচে।
অন্ধ মোকলেছুর আর সামসুল নয় এবার উপজেলায় ৪১৫ জন ব্যক্তিকে তাদের থাকার জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর তুলে দেওয়া হবে কয়েক দিনের মধ্যে। বিরামপুর উপজেলা প্রকল্পবাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় চার ইউনিয়নের ৪১৫টি পাকা ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। এসব ঘর উপজেলা ভূমিহীনদের মাঝে বিতরণ করা হবে। এর মধ্যে খানপুর ইউনিয়নে ৩১১টি, কাটলা ইউনিয়নে ১৭ দিওড় ইউনিয়নে ২৮টি এবং বিনাইল ইউনিয়নে ৫৯টি ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। ঘরগুলো নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৭কোটি ৯৬ লক্ষ ৫০০০ হাজার টাকা।
সরেজমিনে উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, বাজারের পাশে একটি পুকুর পাড়ে নির্মাণ করা হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন বাড়ি। বাড়িগুলোতে ব্যবহার করা হয়েছে লাল রংঙের টিন। দুই রুম বিশিষ্ট বাড়িতে রয়েছে একটি রান্নাঘর ও টয়লেট। বাড়িগুলোর নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের দিকে। তবে কাটলা ইউনিয়ন এবং জোতবানি, বিনাইল ইউনিয়নে নির্মাণ কাজ এখনো শেষ হয়নি। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তাদের নির্মাণ কাজ শেষ হবে। উপজেলা প্রকল্পবাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) কাওসার আলী বলেন, ঘরগুলো নির্মাণকাজের শুরু থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজেই উপস্থিত হয়ে দেখভাল করছেন। কাজের যেন কোনো অনিয়ম না হয় সেই দিকে সব সময় তিনি নজর রাখছেন। ঘরগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার পরিমল সরকার জানান, মুজিব জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সারাদেশের ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য সেমি পাকা ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। উপজেলায় ৪১৫টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার পাচ্ছেন ওই ঘর। খুব দ্রুতই নির্মাণ কাজ শেষ করে ঘরগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।।