May 27, 2024, 1:00 pm

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পর বন্যা এবার আঘাত হেনেছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে

অনলাইন ডেস্ক।
দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পর বন্যা এবার আঘাত হেনেছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোয়। নদীর অস্বাভাবিক জোয়ারের চাপে একের পর এক বাঁধ ভেঙে প্লাবিত খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা। হু হু করে লোকালয়ে ঢুকছে পানি। ডুবছে মাছের ঘের, আবাদি জমি ও নিম্নাঞ্চলের ঘরবাড়ি।
প্রবল বর্ষা ও অস্বাভাবিক জোয়ারের কারণে পানি বাড়ছে দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলের নদ-নদী, খাল-বিলেও। পদ্মায় পানি বৃদ্ধির কারণে ফের প্লাবিত হয়েছে রাজবাড়ীর নিম্নাঞ্চল। বৈরী আবহাওয়ার কারণে বরিশাল অভ্যন্তরীণ রুট ও দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এদিকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নদ-নদীর পানি কমার সঙ্গে বেড়েছে ভাঙন। নদীভাঙনে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন গ্রাম, পাড়া ও মহল্লা।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের গতকাল সকালের তথ্যমতে- পদ্মা, যমুনা, ধলেশ্বরী ও আত্রাই নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে পদ্মার পানি বিপৎসীমার ২৬ সেন্টিমিটার ও ধলেশ্বরীর পানি ২২ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে।
২৪ ঘণ্টায় ১০১টি পর্যবেক্ষণাধীন পানি সমতল স্টেশনের ৩৪টিতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। গঙ্গা-পদ্মার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং আজও তা অব্যাহত থাকতে পারে। অপরিবর্তিত থাকবে মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী ও ফরিদপুর জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি। দক্ষিণ-পশ্চিম ও দক্ষিণ-মধ্য উপকূলীয় এলাকায় মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে নদীগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আপার মেঘনা অববাহিকার প্রধান নদ-নদীর পানি হ্রাস পাচ্ছে। আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন বন্যার খবর- খুলনা : নদীর অস্বাভাবিক জোয়ারের পানির চাপে খুলনার পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলায় বেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বসতবাড়ি, খেতের ফসল, অসংখ্য মৎস্য ঘের তলিয়ে গেছে। বাঁধে নতুন করে ধস নামায় পাইকগাছার সোলাদানা, বেতবুনিয়া, গড়ুইখালী, কয়রার হরিণখোলা, গোবরা, ঘাটাখালী এলাকায় ভাঙন আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। সাতক্ষীরা : কপোতাক্ষ নদের জোয়ারের চাপে সাতক্ষীরা শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ ভেঙে দুটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ভেসে গেছে অসংখ্য চিংড়ি ঘের ও ছোট-বড় পুকুর
গতকাল সুন্দরবন সংলগ্ন গাবুরা ইউনিয়নের লেবুবুনিয়া রিংবাঁধের তিনটি স্থান ভেঙে যায়।
রাজবাড়ী : রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া গেজ স্টেশনে পদ্মা নদীর পানি বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অব্যাহত পানি বৃদ্ধির ফলে তৃতীয় দফায় নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়ি ও সড়কে পানি উঠতে শুরু করেছে। গতকাল গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, পদ্মার পানি বৃদ্ধির কারণে নতুন করে গোয়ালন্দ উপজেলার দুই হাজার পরিবারের প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
গাজীপুর : কালিয়াকৈরে সফিপুর থেকে বড়ইবাড়ী যাতায়াতের প্রধান সড়কের বাঁশতলী এলাকার অনেকটা অংশ বন্যার পানির স্রোতে ভেঙে খালে পরিণত হয়েছে। এতে ব্যস্ততম সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। উপজেলার প্রায় অর্ধশত গ্রামের মানুষের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
লালমনিরহাট : তিস্তার করাল গ্রাসে জেলার মানচিত্র থেকে মুছে যেতে বসেছে লালমনিরহাট সদর উপজেলার গোকুন্ডা ইউপির চর গোকুন্ডা গ্রাম। হাজারো মানুষের বসতি, গোলাভরা ধান, গোয়াল ভরা গরু, চোখ জুড়ানো ফসলের মাঠ আর পাখির কোলাহলে মুখর গ্রামটি প্রতিদিনই একটু একটু করে তিস্তার পেটে চলে যাচ্ছে। গত পাঁচ দিনের ব্যবধানে ৫০টি বসতভিটা ও কয়েকশ বিঘা আবাদি জমি তিস্তার গর্ভে হারিয়ে গেছে।

চর গোকুন্ডার কৃষক লতিফ বলেন, ভাঙন কবলিত এলাকায় ড্রেজার দিয়ে বালু তোলায় নদীভাঙন আরও তীব্র হয়েছে। এদিকে ভাঙন ঠেকাতে দুই মাস আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড ৬৭ লাখ টাকা খরচে ১৪ হাজার ৭৫০টি জিও-ব্যাগ ডাম্পিং করার কাজ হাতে নিলেও সে কাজের কোনো অগ্রগতি নেই। লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, রাজনৈতিক প্রভাবে একটি কাজ পাঁচ ভাগ করে পাঁচ ঠিকাদার করছেন। সে কারণে কাজের গতি নেই। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে জিও-ব্যাগ প্রস্তুত করে ডাম্পিং না করলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে নতুন ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজটি সম্পন্ন করা হবে।
বরিশাল : সমুদ্রে বিপৎসংকেত ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে গতকাল সকাল থেকে বরিশালের অভ্যন্তরীণ রুটের সব লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বিআইডব্লিউটিএ। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকার কথা জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরও সংবাদ :