বিএনপি সরকার ব্যর্থ হওয়ার জন্য আসেনি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
আজ ঝিনাইদহে সফর কালে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী বলেন “বিএনপি সরকার ব্যর্থ হওয়ার জন্য আসেনি। এই সরকার সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার, তাই আমরা ব্যর্থ হব না। বিগত ১৮ বছরে দেশের শিক্ষা, সংস্কৃতি, আইন ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ সব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা হয়েছিল। আমরা সেই ভঙ্গুর অবস্থা ও জঞ্জাল পরিষ্কার করে নতুন করে দেশকে ঢেলে সাজাচ্ছি। ঝিনাইদহ জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে বৃক্ষরোপণ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা । আমাদের হাজার বছরের পুরোনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সরকার বদ্ধপরিকর। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মাধ্যমে পুরাকীর্তি নিদর্শন পুনরুদ্ধারে খনন কাজ শুরু হয়েছে এবং জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রসহ দেশব্যাপী পাবলিক লাইব্রেরিগুলো সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”অশালীন যাত্রাপালা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বর্জনের আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে অশালীন নৃত্য বা অঙ্গভঙ্গির কোনো সম্পর্ক নেই। বিগত দিনের অশ্লীল যাত্রা বাদ দিয়ে জীবনমুখী ও ঐতিহ্যভিত্তিক লোকসংস্কৃতি চালুর ব্যাপারে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিলুপ্তপ্রায় ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়া, পুঁথিসাহিত্য, খনার বচন, লালন গীতি ও জারি-সারির পাণ্ডুলিপি অনুসন্ধান ও সংরক্ষণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলার সাংস্কৃতিক কর্মীদের সাথে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশীষ বিন হাছান, জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ মজিদ, জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান লিটন এবং অঙ্কুর নাট্য একাডেমির পরিচালক নাজিমুদ্দিন জুলিয়াস।

“তরুণদের বুক পকেটে মাদকের বিষ নয়, থাকবে সম্ভাবনাময় স্বপ্নের বাংলাদেশ”
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাধুহাটি ইউনিয়নে এক ব্যতিক্রমী ও বর্ণাঢ্য মাদকবিরোধী ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। ২৬ জুন শুক্রবার সকালে স্থানীয় মানবিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘তারুণ্যের অগ্রযাত্রা’র উদ্যোগে এই সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ডাকবাংলা আব্দুর রউফ ডিগ্রি কলেজ মাঠ থেকে শুরু হওয়া ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ম্যারাথনে ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের দেড় শতাধিক মাদকবিরোধী মানসিকতার তরুণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। দৌড়টি বদরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজে গিয়ে শেষ হয়।শুক্রবার সকালে ডাকবাংলা আব্দুর রউফ ডিগ্রি কলেজ মাঠে বেলুন উড়িয়ে এই বিশাল ম্যারাথনের উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মহাব্বত হোসেন টিপু।উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধান অতিথি অধ্যাপক মহাব্বত হোসেন টিপু বলেন, “মাদক কেবল একটি জীবনকে ধ্বংস করে না, একটি পরিবার ও সমাজকে পঙ্গু করে দেয়। আজ সাধুহাটির তরুণরা যেভাবে মাদকের বিরুদ্ধে রাজপথে দৌড়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। সুস্থ সমাজ গড়তে হলে তরুণদের মাঠমুখী করতে হবে, খেলার মাঠে ফেরাতে হবে। শিক্ষা ও সংস্কৃতির আলোই পারে সমাজ থেকে মাদকের অন্ধকার দূর করতে।”অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক নবচিত্র পত্রিকার সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলাউদ্দীন আজাদ। এ সময় সাবেক প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দীন আলা, পুলিশ কর্মকর্তা অশিল কুমার এবং বংকিরা পুলিশ ক্যাম্পের এএসআই আব্দুল মালেক, পল্লী চিকিৎসক ফজলুর রহমান, সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশিদসহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধক আলাউদ্দীন আজাদ বলেন, “শিক্ষাঙ্গন ও সমাজকে মাদক মুক্ত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তরুণ সমাজ যদি আজ সচেতন না হয়, তবে আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। ‘তারুণ্যের অগ্রযাত্রা’র এই মহতী উদ্যোগকে আমি সাধুবাদ জানাই এবং প্রতিটি অভিভাবককে তাদের সন্তানের প্রতি আরও নজর রাখার আহ্বান জানাই।”সাধুহাটি ইউনিয়নের তরুণদের হৃদস্পন্দন এবং ‘তারুণ্যের অগ্রযাত্রা’ সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা সাকিব মোহাম্মদ আল হাসান মিজু’র পৃষ্ঠপোষকতায় ইউনিয়ন পর্যায়ে এই ব্যতিক্রমী আয়োজনটি সম্পন্ন হয়।মাদকের কুফল ও তরুণদের দায়িত্ব নিয়ে এক বিশেষ বার্তায় সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা ও তরুণ তুর্কি সাকিব মোহাম্মদ আল হাসান মিজু বলেন, “আমরা আমাদের যুবসমাজকে মাদকের মরণনেশায় হারিয়ে যেতে দিতে পারি না। তরুণদের বুক পকেটে মাদকের বিষ নয়, থাকবে সম্ভাবনাময় স্বপ্নের বাংলাদেশ। আজকের এই ৫ কিলোমিটারের ম্যারাথন শুধু একটা দৌড় নয়, এটা মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের প্রথম যুদ্ধ। সাধুহাটি ইউনিয়নের একটা তরুণও যেন মাদকের দিকে পা না বাড়ায়, সেই লক্ষ্যেই আমাদের এই পথচলা। ‘তারুণ্যের অগ্রযাত্রা’ তরুণদের সুস্থ ও মাদকভুক্ত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সবসময় মাঠে থাকবে।”
ম্যারাথন দৌড় শেষে প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে আকর্ষণীয় সব পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অংশগ্রহণকারী দেড় শতাধিক দৌড়বিদের প্রত্যেককে সচেতনতামূলক উপহার ও সম্মাননা প্রদান করা হয়। ব্যতিক্রমী এই আয়োজনটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে প্রশংসিত হয়েছে।



















