চুয়াডাঙ্গা ০৯:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যে কারণে ৪৩ তলা থেকে লাফ দিয়েছিলেন প্রকৌশলী

Padma Sangbad
১০৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।

ভারতের নোয়ডায় একটি বহুতল ভবনের ৪৩ তলা থেকে লাফ দিয়ে ২৮ বছর বয়সী এক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের মৃত্যু হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, পারিবারিক বিরোধ, সন্তানের চিকিৎসার বিপুল খরচ, ভরণপোষণের অর্থ এবং ঋণের চাপে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ওই হয়েই আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহত সাম্ভব জৈন হরিয়ানার মানেসরের বাসিন্দা ছিলেন এবং গুরুগ্রামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করতেন।

গত শনিবার নোয়ডার সেক্টর-৯৪ এলাকার সুপারনোভা স্পিরা ভবন থেকে তিনি নিচে পড়ে মারা যান। ঘটনার আগে তিনি ওই ভবনে এক দিনের জন্য একটি কক্ষ ভাড়া নিয়েছিলেন।

পুলিশের তথ্যমতে, মৃত্যুর কয়েক দিন আগে বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজের মানসিক অবস্থার কথা জানিয়েছিলেন সাম্ভব। বাবার সঙ্গে তার কথোপকথনে ঋণ পরিশোধ নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টিও উঠে এসেছে। পরে পুলিশ তার মোবাইল ফোন জব্দ করে শেষ দিকের চ্যাট ও কল রেকর্ড পরীক্ষা করছে।

পুলিশ জানায়, সম্ভাব একটি ভিডিও রেকর্ড করেছিলেন। সেখানে তিনি ঋণের কারণে মানসিক চাপে থাকার কথা বলেন এবং নিজের সিদ্ধান্তের জন্য নিজেকেই দায়ী করেন। তিনি অন্য কাউকে দায়ী করেননি।

ঘটনার পর তার মোবাইল ফোন জব্দ করেছে পুলিশ। শেষ সময়ের কথোপকথন, কল রেকর্ডসহ বিভিন্ন তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি ভবন ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজও পরীক্ষা করা হচ্ছে।

পুলিশ কর্মকর্তা সুমনেশ কুমার জানান, পারিবারিক পরিস্থিতি, ছেলের শারীরিক অবস্থা, বাড়তে থাকা ঋণ এবং দাম্পত্য কলহ—সব মিলিয়ে সম্ভাব মানসিক চাপে ছিলেন।

স্ত্রীকে ভরণপোষণ হিসেবে এক কোটি রুপি দেওয়ার দাবি উঠলেও শেষ পর্যন্ত আদালতের মাধ্যমে ১৫ লাখ রুপি নির্ধারিত হয়। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ রুপি তিনি পরিশোধ করেছিলেন। এ ছাড়া তাদের সন্তান সময়ের আগেই জন্ম নেয়। শিশুটির চিকিৎসায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ রুপির বেশি খরচ হয়েছিল। এ ব্যয় মেটাতে তিনি ধার করেছিলেন।

পুলিশ আরও জানায়, সম্ভের ওজন ছিল প্রায় ১৪০ কেজি। নিজের শারীরিক গঠন নিয়ে তার মধ্যে অস্বস্তি ও স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগও ছিল।

ঘটনাটি তদন্ত করছে পুলিশ। এ ঘটনায় কারও প্ররোচনা বা অন্য কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আপডেট : ০৪:৩৮:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

যে কারণে ৪৩ তলা থেকে লাফ দিয়েছিলেন প্রকৌশলী

আপডেট : ০৪:৩৮:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
১০৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।

ভারতের নোয়ডায় একটি বহুতল ভবনের ৪৩ তলা থেকে লাফ দিয়ে ২৮ বছর বয়সী এক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের মৃত্যু হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, পারিবারিক বিরোধ, সন্তানের চিকিৎসার বিপুল খরচ, ভরণপোষণের অর্থ এবং ঋণের চাপে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ওই হয়েই আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহত সাম্ভব জৈন হরিয়ানার মানেসরের বাসিন্দা ছিলেন এবং গুরুগ্রামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করতেন।

গত শনিবার নোয়ডার সেক্টর-৯৪ এলাকার সুপারনোভা স্পিরা ভবন থেকে তিনি নিচে পড়ে মারা যান। ঘটনার আগে তিনি ওই ভবনে এক দিনের জন্য একটি কক্ষ ভাড়া নিয়েছিলেন।

পুলিশের তথ্যমতে, মৃত্যুর কয়েক দিন আগে বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজের মানসিক অবস্থার কথা জানিয়েছিলেন সাম্ভব। বাবার সঙ্গে তার কথোপকথনে ঋণ পরিশোধ নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টিও উঠে এসেছে। পরে পুলিশ তার মোবাইল ফোন জব্দ করে শেষ দিকের চ্যাট ও কল রেকর্ড পরীক্ষা করছে।

পুলিশ জানায়, সম্ভাব একটি ভিডিও রেকর্ড করেছিলেন। সেখানে তিনি ঋণের কারণে মানসিক চাপে থাকার কথা বলেন এবং নিজের সিদ্ধান্তের জন্য নিজেকেই দায়ী করেন। তিনি অন্য কাউকে দায়ী করেননি।

ঘটনার পর তার মোবাইল ফোন জব্দ করেছে পুলিশ। শেষ সময়ের কথোপকথন, কল রেকর্ডসহ বিভিন্ন তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি ভবন ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজও পরীক্ষা করা হচ্ছে।

পুলিশ কর্মকর্তা সুমনেশ কুমার জানান, পারিবারিক পরিস্থিতি, ছেলের শারীরিক অবস্থা, বাড়তে থাকা ঋণ এবং দাম্পত্য কলহ—সব মিলিয়ে সম্ভাব মানসিক চাপে ছিলেন।

স্ত্রীকে ভরণপোষণ হিসেবে এক কোটি রুপি দেওয়ার দাবি উঠলেও শেষ পর্যন্ত আদালতের মাধ্যমে ১৫ লাখ রুপি নির্ধারিত হয়। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ রুপি তিনি পরিশোধ করেছিলেন। এ ছাড়া তাদের সন্তান সময়ের আগেই জন্ম নেয়। শিশুটির চিকিৎসায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ রুপির বেশি খরচ হয়েছিল। এ ব্যয় মেটাতে তিনি ধার করেছিলেন।

পুলিশ আরও জানায়, সম্ভের ওজন ছিল প্রায় ১৪০ কেজি। নিজের শারীরিক গঠন নিয়ে তার মধ্যে অস্বস্তি ও স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগও ছিল।

ঘটনাটি তদন্ত করছে পুলিশ। এ ঘটনায় কারও প্ররোচনা বা অন্য কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।