চুয়াডাঙ্গা ০৩:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২৬ বছর ধরে অবহেলায় পড়ে আছে সরকারি জিপ, হয়নি নিলাম

Padma Sangbad
১৮

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি।।

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস চত্বরে প্রায় ২৬ বছর ধরে পড়ে আছে একটি সরকারি জিপ। ২০০০ সালের দিকে নতুন গাড়ি পাওয়ার পর থেকে পুরোনো জিপটি আর ব্যবহার করা হয়নি। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও গাড়িটির নিলাম বা নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। ফলে সরকারি সম্পদটি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থেকে ক্রমেই নষ্ট হচ্ছে।

সম্প্রতি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকটি টিনের ছাউনির নিচে পড়ে রয়েছে জীর্ণ জিপটি। চারপাশে জমেছে ময়লা-আবর্জনা ও শুকনো পাতা। দীর্ঘদিন একই জায়গায় পড়ে থাকায় গাড়িটির নিচের অংশ দেবে গেছে। বিভিন্ন স্থানে মরিচা ধরে ক্ষয়ে গেছে এর কাঠামো।

গাড়িটি বর্তমানে সচল করার উপযোগী আছে কি না, বাইরে থেকে তা বোঝার উপায় নেই। সংশ্লিষ্টদের দাবি, গাড়িটি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া থেকে রক্ষা করতে টিনের ছাউনি দেওয়া হয়েছে।

অফিসের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একসময় জিপটি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ ছিল। ২০০০ সালের দিকে নতুন গাড়ি পাওয়ার পর পুরোনো জিপটি অফিস চত্বরে রেখে দেওয়া হয়। এরপর থেকে সেটি আর ব্যবহার করা হয়নি।

এত বছর ধরে পড়ে থাকলেও গাড়িটির নিলাম বা অন্য কোনো প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি হয়নি। এতে সরকারি সম্পদটির অবশিষ্ট মূল্য উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না। পাশাপাশি দীর্ঘদিন অব্যবহৃত অবস্থায় থাকায় গাড়িটি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোফাজ্জল হোসেন বলেন, গাড়িটি অনেক পুরোনো। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার সময় থেকেই এটিকে এভাবে পড়ে থাকতে দেখছেন। ঠিক কত সাল থেকে গাড়িটি সেখানে পড়ে আছে, তা তাঁর জানা নেই।

ঠাকুরগাঁও সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সভাপতি আব্দুল লতিফ বলেন, সরকারি সম্পদ দীর্ঘদিন এভাবে পড়ে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে। গাড়িটি সংরক্ষণ করা সম্ভব হলে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। আর তা সম্ভব না হলে নিয়ম অনুযায়ী নিলামের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা উচিত।

দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা সরকারি জিপটির বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হলে একদিকে যেমন সরকারি সম্পদের অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে এর নিষ্পত্তিও নিশ্চিত করা যাবে।

আপডেট : ১২:৩৯:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

২৬ বছর ধরে অবহেলায় পড়ে আছে সরকারি জিপ, হয়নি নিলাম

আপডেট : ১২:৩৯:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
১৮

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি।।

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস চত্বরে প্রায় ২৬ বছর ধরে পড়ে আছে একটি সরকারি জিপ। ২০০০ সালের দিকে নতুন গাড়ি পাওয়ার পর থেকে পুরোনো জিপটি আর ব্যবহার করা হয়নি। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও গাড়িটির নিলাম বা নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। ফলে সরকারি সম্পদটি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থেকে ক্রমেই নষ্ট হচ্ছে।

সম্প্রতি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকটি টিনের ছাউনির নিচে পড়ে রয়েছে জীর্ণ জিপটি। চারপাশে জমেছে ময়লা-আবর্জনা ও শুকনো পাতা। দীর্ঘদিন একই জায়গায় পড়ে থাকায় গাড়িটির নিচের অংশ দেবে গেছে। বিভিন্ন স্থানে মরিচা ধরে ক্ষয়ে গেছে এর কাঠামো।

গাড়িটি বর্তমানে সচল করার উপযোগী আছে কি না, বাইরে থেকে তা বোঝার উপায় নেই। সংশ্লিষ্টদের দাবি, গাড়িটি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া থেকে রক্ষা করতে টিনের ছাউনি দেওয়া হয়েছে।

অফিসের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একসময় জিপটি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ ছিল। ২০০০ সালের দিকে নতুন গাড়ি পাওয়ার পর পুরোনো জিপটি অফিস চত্বরে রেখে দেওয়া হয়। এরপর থেকে সেটি আর ব্যবহার করা হয়নি।

এত বছর ধরে পড়ে থাকলেও গাড়িটির নিলাম বা অন্য কোনো প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি হয়নি। এতে সরকারি সম্পদটির অবশিষ্ট মূল্য উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না। পাশাপাশি দীর্ঘদিন অব্যবহৃত অবস্থায় থাকায় গাড়িটি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোফাজ্জল হোসেন বলেন, গাড়িটি অনেক পুরোনো। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার সময় থেকেই এটিকে এভাবে পড়ে থাকতে দেখছেন। ঠিক কত সাল থেকে গাড়িটি সেখানে পড়ে আছে, তা তাঁর জানা নেই।

ঠাকুরগাঁও সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সভাপতি আব্দুল লতিফ বলেন, সরকারি সম্পদ দীর্ঘদিন এভাবে পড়ে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে। গাড়িটি সংরক্ষণ করা সম্ভব হলে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। আর তা সম্ভব না হলে নিয়ম অনুযায়ী নিলামের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা উচিত।

দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা সরকারি জিপটির বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হলে একদিকে যেমন সরকারি সম্পদের অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে এর নিষ্পত্তিও নিশ্চিত করা যাবে।