চুয়াডাঙ্গা ০৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিকাশ-নগদ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও হচ্ছে লাখ লাখ টাকা, সাধারণ মানুষের ক্ষতির দায়ভার কার?

Padma Sangbad
৪৩

ডিজিটাল লেনদেনে প্রতারণা রোধে কার্যকর নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি, গ্রাহকের অর্থের সুরক্ষায় জবাবদিহি চায় জনগণ

দৈনিক পদ্মা সংবাদ | বিশেষ প্রতিবেদন।

বাংলাদেশে ডিজিটাল আর্থিক লেনদেনের পরিধি দিন দিন বাড়ছে। বিকাশ, নগদ, রকেটসহ বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস এবং ব্যাংকের অ্যাপ ব্যবহার করে মানুষ এখন ঘরে বসেই টাকা পাঠাচ্ছেন, বিল পরিশোধ করছেন, কেনাকাটা করছেন এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন করছেন। কিন্তু প্রযুক্তিনির্ভর এই সুবিধার পাশাপাশি বাড়ছে সাইবার প্রতারণা, অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং, ভুয়া ফোনকল, প্রতারণামূলক লিংক এবং ওটিপি বা পিন হাতিয়ে নেওয়ার মতো অপরাধের ঝুঁকি।
অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন প্রতারণার কৌশলে সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ বিকাশ, নগদ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। কারও সঞ্চয়ের টাকা, কারও ব্যবসার মূলধন, আবার কারও পরিবারের চিকিৎসা কিংবা জরুরি প্রয়োজনে জমানো অর্থ মুহূর্তেই হারিয়ে যাচ্ছে। এতে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি চরম মানসিক ও সামাজিক দুর্ভোগে পড়ছেন ভুক্তভোগীরা।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, অনেক ক্ষেত্রে প্রতারণার শিকার হওয়ার পর গ্রাহকরা দ্রুত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেও প্রত্যাশিত সমাধান পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন। কেউ অভিযোগ জানানোর পর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেন, কেউ আবার অর্থ ফেরত পাওয়ার অনিশ্চয়তায় হতাশ হয়ে পড়েন।
দায়ভার কার?
সাধারণ মানুষের মনে এখন বড় প্রশ্ন।ডিজিটাল লেনদেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কার? শুধু গ্রাহককে সচেতন থাকার পরামর্শ দিলেই কি দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়?
নিঃসন্দেহে গ্রাহকের নিজের পিন, পাসওয়ার্ড ও ওটিপি গোপন রাখা জরুরি। কিন্তু একই সঙ্গে ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রতিষ্ঠান, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে।
আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে গ্রাহকের অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত করা, দ্রুত অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত করা এবং প্রতারণার অভিযোগের কার্যকর তদন্ত নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রয়োজন আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার
ডিজিটাল লেনদেনকে আরও নিরাপদ করতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে,
১. একাধিক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা: শুধু পিন বা পাসওয়ার্ডের ওপর নির্ভর না করে ঝুঁকিপূর্ণ লেনদেনে অতিরিক্ত পরিচয় যাচাইয়ের ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন।
২. ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও বায়োমেট্রিক যাচাই: সমর্থিত ডিভাইসে বায়োমেট্রিক পরিচয় যাচাইয়ের ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। তবে এটি যেন একমাত্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা না হয়।
৩. সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্তকরণ: গ্রাহকের স্বাভাবিক লেনদেনের ধরন থেকে অস্বাভাবিক কোনো লেনদেন হলে তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা এবং প্রয়োজনে সাময়িক যাচাইয়ের ব্যবস্থা থাকতে হবে।
৪. বড় অঙ্কের লেনদেনে অতিরিক্ত যাচাই: নির্দিষ্ট সীমার বেশি অর্থ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তা যাচাই চালু করা যেতে পারে।
৫. দ্রুত অ্যাকাউন্ট ব্লক করার সুবিধা: প্রতারণার শিকার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রাহক যেন সহজে হটলাইন বা অ্যাপের মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে বন্ধ করতে পারেন, সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
৬. ২৪ ঘণ্টার অভিযোগ গ্রহণ ব্যবস্থা: প্রতিটি ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠানে কার্যকর অভিযোগ নিষ্পত্তি বিভাগ থাকতে হবে।
৭. প্রতারণার অর্থের লেনদেন অনুসরণ: যে অ্যাকাউন্টে প্রতারণার অর্থ স্থানান্তরিত হচ্ছে, আইনসম্মত প্রক্রিয়ায় দ্রুত তা শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা
ডিজিটাল আর্থিক খাতে গ্রাহকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যকর তদারকি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (BFIU), আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাইবার অপরাধ বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
প্রতারণার অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত, অর্থের গতিপথ অনুসরণ, অপরাধীদের শনাক্তকরণ এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে গ্রাহকের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত করা জরুরি।
ভুক্তভোগীদের করণীয়
ডিজিটাল প্রতারণা থেকে বাঁচতে সাধারণ গ্রাহকদেরও সতর্ক থাকতে হবে।
কাউকে নিজের পিন, ওটিপি বা পাসওয়ার্ড জানানো যাবে না।
অপরিচিত ব্যক্তির পাঠানো লিংকে প্রবেশ করে আর্থিক তথ্য দেওয়া যাবে না।
ফোনে পরিচয় দিয়ে কেউ ব্যাংক বা বিকাশের কর্মকর্তা দাবি করলেও গোপন তথ্য দেওয়া যাবে না।
প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের হটলাইনে যোগাযোগ করে অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত করতে হবে।
লেনদেনের এসএমএস, নম্বর, সময় ও অন্যান্য প্রমাণ সংরক্ষণ করে প্রয়োজনীয় কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানাতে হবে।
সাধারণ মানুষের অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে কে?
ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশের পথে আর্থিক লেনদেনের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন অবশ্যই ইতিবাচক। কিন্তু প্রযুক্তির সুবিধা যদি সাধারণ মানুষের সঞ্চয়কে ঝুঁকির মুখে ফেলে, তাহলে সেই ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে।
একজন সাধারণ মানুষ সারাজীবনের পরিশ্রমে যে অর্থ সঞ্চয় করেন, সেই অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। প্রতারণার শিকার হওয়ার পর গ্রাহককে একা অসহায় অবস্থায় ফেলে রাখা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
আমরা মনে করি, ব্যাংক, বিকাশ, নগদসহ সব আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে গ্রাহকের অর্থের নিরাপত্তায় আরও আধুনিক প্রযুক্তি, স্বচ্ছ অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
প্রশ্ন একটাই।সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নেবে কবে?
জনগণ শুধু ডিজিটাল লেনদেনের সুবিধা চায় না, চায় তাদের কষ্টার্জিত অর্থের নিশ্চয়তা, নিরাপত্তা এবং প্রতারণার শিকার হলে ন্যায়সংগত প্রতিকার।
দৈনিক পদ্মা সংবাদ-এর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

আপডেট : ০১:০৪:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

বিকাশ-নগদ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও হচ্ছে লাখ লাখ টাকা, সাধারণ মানুষের ক্ষতির দায়ভার কার?

আপডেট : ০১:০৪:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
৪৩

ডিজিটাল লেনদেনে প্রতারণা রোধে কার্যকর নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি, গ্রাহকের অর্থের সুরক্ষায় জবাবদিহি চায় জনগণ

দৈনিক পদ্মা সংবাদ | বিশেষ প্রতিবেদন।

বাংলাদেশে ডিজিটাল আর্থিক লেনদেনের পরিধি দিন দিন বাড়ছে। বিকাশ, নগদ, রকেটসহ বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস এবং ব্যাংকের অ্যাপ ব্যবহার করে মানুষ এখন ঘরে বসেই টাকা পাঠাচ্ছেন, বিল পরিশোধ করছেন, কেনাকাটা করছেন এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন করছেন। কিন্তু প্রযুক্তিনির্ভর এই সুবিধার পাশাপাশি বাড়ছে সাইবার প্রতারণা, অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং, ভুয়া ফোনকল, প্রতারণামূলক লিংক এবং ওটিপি বা পিন হাতিয়ে নেওয়ার মতো অপরাধের ঝুঁকি।
অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন প্রতারণার কৌশলে সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ বিকাশ, নগদ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। কারও সঞ্চয়ের টাকা, কারও ব্যবসার মূলধন, আবার কারও পরিবারের চিকিৎসা কিংবা জরুরি প্রয়োজনে জমানো অর্থ মুহূর্তেই হারিয়ে যাচ্ছে। এতে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি চরম মানসিক ও সামাজিক দুর্ভোগে পড়ছেন ভুক্তভোগীরা।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, অনেক ক্ষেত্রে প্রতারণার শিকার হওয়ার পর গ্রাহকরা দ্রুত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেও প্রত্যাশিত সমাধান পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন। কেউ অভিযোগ জানানোর পর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেন, কেউ আবার অর্থ ফেরত পাওয়ার অনিশ্চয়তায় হতাশ হয়ে পড়েন।
দায়ভার কার?
সাধারণ মানুষের মনে এখন বড় প্রশ্ন।ডিজিটাল লেনদেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কার? শুধু গ্রাহককে সচেতন থাকার পরামর্শ দিলেই কি দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়?
নিঃসন্দেহে গ্রাহকের নিজের পিন, পাসওয়ার্ড ও ওটিপি গোপন রাখা জরুরি। কিন্তু একই সঙ্গে ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রতিষ্ঠান, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে।
আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে গ্রাহকের অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত করা, দ্রুত অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত করা এবং প্রতারণার অভিযোগের কার্যকর তদন্ত নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রয়োজন আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার
ডিজিটাল লেনদেনকে আরও নিরাপদ করতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে,
১. একাধিক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা: শুধু পিন বা পাসওয়ার্ডের ওপর নির্ভর না করে ঝুঁকিপূর্ণ লেনদেনে অতিরিক্ত পরিচয় যাচাইয়ের ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন।
২. ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও বায়োমেট্রিক যাচাই: সমর্থিত ডিভাইসে বায়োমেট্রিক পরিচয় যাচাইয়ের ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। তবে এটি যেন একমাত্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা না হয়।
৩. সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্তকরণ: গ্রাহকের স্বাভাবিক লেনদেনের ধরন থেকে অস্বাভাবিক কোনো লেনদেন হলে তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা এবং প্রয়োজনে সাময়িক যাচাইয়ের ব্যবস্থা থাকতে হবে।
৪. বড় অঙ্কের লেনদেনে অতিরিক্ত যাচাই: নির্দিষ্ট সীমার বেশি অর্থ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তা যাচাই চালু করা যেতে পারে।
৫. দ্রুত অ্যাকাউন্ট ব্লক করার সুবিধা: প্রতারণার শিকার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রাহক যেন সহজে হটলাইন বা অ্যাপের মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে বন্ধ করতে পারেন, সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
৬. ২৪ ঘণ্টার অভিযোগ গ্রহণ ব্যবস্থা: প্রতিটি ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠানে কার্যকর অভিযোগ নিষ্পত্তি বিভাগ থাকতে হবে।
৭. প্রতারণার অর্থের লেনদেন অনুসরণ: যে অ্যাকাউন্টে প্রতারণার অর্থ স্থানান্তরিত হচ্ছে, আইনসম্মত প্রক্রিয়ায় দ্রুত তা শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা
ডিজিটাল আর্থিক খাতে গ্রাহকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যকর তদারকি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (BFIU), আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাইবার অপরাধ বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
প্রতারণার অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত, অর্থের গতিপথ অনুসরণ, অপরাধীদের শনাক্তকরণ এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে গ্রাহকের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত করা জরুরি।
ভুক্তভোগীদের করণীয়
ডিজিটাল প্রতারণা থেকে বাঁচতে সাধারণ গ্রাহকদেরও সতর্ক থাকতে হবে।
কাউকে নিজের পিন, ওটিপি বা পাসওয়ার্ড জানানো যাবে না।
অপরিচিত ব্যক্তির পাঠানো লিংকে প্রবেশ করে আর্থিক তথ্য দেওয়া যাবে না।
ফোনে পরিচয় দিয়ে কেউ ব্যাংক বা বিকাশের কর্মকর্তা দাবি করলেও গোপন তথ্য দেওয়া যাবে না।
প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের হটলাইনে যোগাযোগ করে অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত করতে হবে।
লেনদেনের এসএমএস, নম্বর, সময় ও অন্যান্য প্রমাণ সংরক্ষণ করে প্রয়োজনীয় কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানাতে হবে।
সাধারণ মানুষের অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে কে?
ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশের পথে আর্থিক লেনদেনের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন অবশ্যই ইতিবাচক। কিন্তু প্রযুক্তির সুবিধা যদি সাধারণ মানুষের সঞ্চয়কে ঝুঁকির মুখে ফেলে, তাহলে সেই ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে।
একজন সাধারণ মানুষ সারাজীবনের পরিশ্রমে যে অর্থ সঞ্চয় করেন, সেই অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। প্রতারণার শিকার হওয়ার পর গ্রাহককে একা অসহায় অবস্থায় ফেলে রাখা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
আমরা মনে করি, ব্যাংক, বিকাশ, নগদসহ সব আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে গ্রাহকের অর্থের নিরাপত্তায় আরও আধুনিক প্রযুক্তি, স্বচ্ছ অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
প্রশ্ন একটাই।সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নেবে কবে?
জনগণ শুধু ডিজিটাল লেনদেনের সুবিধা চায় না, চায় তাদের কষ্টার্জিত অর্থের নিশ্চয়তা, নিরাপত্তা এবং প্রতারণার শিকার হলে ন্যায়সংগত প্রতিকার।
দৈনিক পদ্মা সংবাদ-এর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।