পরিবার শিশুর সবচেয়ে বড় শিক্ষা কেন্দ্র

রাশিদা-য়ে আশরার,কবি ও সাহিত্য সম্পাদক দৈনিক পদ্মা সংবাদ।
মানুষ হয়ে জন্ম গ্রহণ করলে মানুষ হয় না তাকে
অর্জন করতে হয় নিজের শ্রেষ্ঠত্ব দিয়ে। শিশুর মানবিক গুণাবলী বা বৈশিষ্টের অধিকারী করে বড় করে তুলতে হলে প্রথমে প্রয়োজন উন্নত ও উন্মুক্ত পরিবেশ।
শিশুরা কাদা মাটির মতো, যেমন ভাবে গড়ে তোলা হয় সেভাবে গড়ে ওঠে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। মা শিশুর প্রথম শিক্ষক কারণ জন্ম থেকে তাঁর সংস্পর্শে, মায়ের সঙ্গে শিশুর নাড়ির যোগ রক্তের সম্পর্ক ও হাতে খড়ি,
তার সঙ্গেই বসবাস- উঠাবসা চলাফেরা অনুপ্রেরণার উৎস! একজন সুস্থ মনের অধিকারী মা ই পারেন শুধু উত্তম সন্তান উপহার দিতে! শিশু শৈশব পেরিয়ে কৈশোর তারুণ্যের সময় গুলো বিভিন্ন ভাবে প্রভাবিত হয় যার কারণে তখন শিশুদের প্রতিটি বিষয়ে লক্ষ রাখা প্রয়োজন, কোথায় যাচ্ছে কার সঙ্গে মিশছে, সেইসঙ্গে বন্ধুত্ব সুলভ আচরণ গড়ে তোলা প্রয়োজন। পরিবারের মধ্যে সদ্ভাব বজায় থাকলে মমত্ববোধ জন্ম
নেয়,ভালো-মন্দ দায়িত্ব কর্তব্য বুঝতে শেখে।অপরাধের অন্ধ জগত ও নেশার কবল থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখতে শেখে।
শিশুকে প্রথমে হাতে একটি মোবাইল ফোন তুলে দিয়ে ভিডিও গেমসে অভ্যস্ত না করে প্রাকৃতিক পরিবেশে
বড় করে তোলা দরকার। হাতে মোবাইল ফোন, কম্পিউটার ল্যাপটপ না দিয়ে বড় কাগজ পেন্সিল তুলে দেওয়া দরকার যাতে করে মনের মাধুরী মিশিয়ে আপনার রঙে রাঙিয়ে নিজস্ব জগৎ কে জাগিয়ে তুলতে শেখে।যুগ উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে পাল্টেছে মানুষের জীবনযাপন ও চিন্তা ধারা-বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে মানুষ যান্ত্রিক,অনেক বেশি নিষ্ঠুর স্বার্থপর, তুচ্ছ কারণে শত্রুতা মূলক বড় বড় অপরাধ বোধের জন্ম দেয়, কাজেই মানুষের প্রতি মানুষের বিশ্বাস হারিয়ে যাচ্ছে দিন দিন। এখন পশুর চেয়েও মানুষকেই মানুষের বেশি ভয় কারণ তার স্বরূপ চেনা দায়!ঘরে ঘরে ইন্টারনেট সহজলভ্য হাওয়াই শিশুরা ভয়ানক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে তাই শৈশব কৈশোর কাল থেকেই বিশেষ ভাবে সজাগ দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন।
পরিবার শিশুর প্রথম শিক্ষা কেন্দ্র-আজ যারা শিশু আগামীতে তারা এ দেশের নেতৃত্ব দানকারী তাই শিশুর জীবন যাপন মানোন্নয়নে পরিবার কে আরো বেশি যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন। প্রথম ১০ বছর শুধুমাত্র পড়াশোনার প্রতি বেশি বোঝা মাথায় না চাপিয়ে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার প্রক্রিয়া হিসাবে কিছু পদক্ষেপ, গ্রহণ করা যেতে পারে যেমন মুসলিম হলে নামায, রোযা, কোরআন শিক্ষা লাভ করতে সচেষ্ট হওয়া প্রয়োজন কারণ আদর্শ ভাবে জীবন গঠন করতে কোরআন পরিপূর্ণ ও সঠিক পথের দিক নির্দেশক
যা সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত; একদিন সবাইকে সেদিকেই প্রত্যাবর্তন করতে হবে! এছাড়া পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, ছবি আঁকা ভালো বই পড়া সৃজনশীলতার বলয়ে বড় করা প্রয়োজন তাহলে মনের প্রসারতা ও মননশীলতা বৃদ্ধি পায়।
অউন্নত ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ শিশুর মেধা বিকাশ জীবন যাপনের মান উন্নয়নে বাধাগ্রস্ত করে। শহরের ছেলে মেয়েরা তাদের শৈশবকে প্রায় হারিয়েই ফেলেছে ইন্টারনেটের বদৌলতে ভিডিও গেমস ও বিভিন্ন প্রকার যোগাযোগ মাধ্যমে। বাংলাদেশে শিশুতোষ অনুষ্ঠান গুলো তেমন একটা হয় না, চলচ্চিত্র, নাটক, বিনোদন মূলক অনুষ্ঠান গুলো বেশি বেশি প্রচার হলে বা দেখানো হলে তা থেকে তারা অনেক শিক্ষা লাভ করতে পারে। তাছাড়া ভ্রমণ, শিক্ষামূলক জায়গাগুলো পরিদর্শন করালেও বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে সাধারণ জ্ঞান লাভ করে এবং জ্ঞানের পরিধি উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পায়, যা শুধুমাত্র বই পড়ে বা পুঁথিগত বিদ্যার মাধ্যমে সম্ভব নয় । মানুষ সামাজিক জীব সমাজবদ্ধ ভাবে বসবাস করতে পছন্দ করে, শৈশব থেকেই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে সম্যক জ্ঞান অর্জন করতে সক্ষম হয়,সৌহার্দ্য সম্প্রীতি গড়ে ওঠে। কোন ব্যাপারে শিশুকে ছোট করে দেখলে- অতিরিক্ত শাসন করলে ভয় পেতে থাকে আর ভয় পেতে থাকলে তার পৃথিবীর ছোট হয়ে যায়!
সঠিক দিক নির্দেশনা না পেলে শিশু মানসিক দিক থেকে দুর্বল চিত্তের হয়ে বড় হয়ে ওঠে,যা জাতি ও সমাজের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। আসুন শিশুর উন্নত জীবনযাপনের লক্ষ্যে আরো বেশি যত্নশীল হয়ে উঠি তাহলেই উন্নত দেশ গঠন সম্ভব হবে বংশ পরম্পরায়,তাতে করে পরিবার, সমাজ ও দেশ উপকৃত হবে- উন্নত দেশ গঠন সম্ভব হবে। কারণ আজকের শিশু আমাদের আগামী দিনের ভবিষ্যৎ-আপন আলোয় বেড়ে উঠুক প্রতিটি শিশু, নিরাপদে বেড়ে উঠুক নিজ আঙিনায়,জয় হোক বিবেক মনুষ্যত্বের- জয় হোক বিশ্ব মানবতার।
২০২২

















