চুয়াডাঙ্গা ০৯:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এক পায়ে লিখে এইচএসসি’র বিজ্ঞান বিভাগ থেকে আবারও জিপিএ-৫ পেলো ঝিকরগাছার তামান্না

Padma Sangbad
১৭৬

আরিফুজ্জামান আরিফ।।এক পায়ে লিখে এবারও এইচএসসি’র বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপি-৫ পেয়েছে ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়ার তামান্না আক্তার নুরা।

এর আগেও পি.ই.সি, জেএসসি ও এসএসসি’তে জিপিএ-৫ পেয়েছিলো। এই দিয়ে চারটি বোর্ড পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হলো তামান্না।

অদম্যমেধাবী তামান্না’র এক পা-ই সম্বল। জন্ম থেকেই তার দুটি হাত ও একটি পা নেই। জীবনযুদ্ধে জয়ী হওয়ার লক্ষ্যে নানান প্রতিবন্ধকতা জয় করে সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জন করেছে তামান্না।

রোববার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২ টায় এইচএসসি-২০২১ এর ফলাফল ঘোষণা করলে তামান্না জিপিএ-৫ পায়। সে যশোর শিক্ষাবোর্ডের অধীনে বাঁকড়া কেন্দ্রে পরীক্ষা দিয়েছিলো।

তামান্নার গ্রামের বাড়ি যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামে। বাবার নাম রওশন আলী। ময়ের নাম খাদিজা পারভীন শিল্পী। বাবা স্থানীয় ছোট পোদাউলিয়া দাখিল মাদ্রাসার (নন এমপিও) বিএসসির শিক্ষক। মা গৃহিণী, তিনি বাড়ির কাজ দেখাশোনা করেন। তিন সন্তানের মধ্যে সেই সবার বড়।

তামান্না স্বপ্ন দেখছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়ে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার। কিন্তু পরিবারের আর্থিক অনটনে সেটি এখন স্তিমিত হয়ে যাওয়ার উপক্রম। স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখতে ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নিকট একটি চিঠিও লিখেছিলেন।

বাঁকড়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ সামছুর রহমান বলেন, ‘তামান্না আমাদের কলেজের শিক্ষার্থী। তার মেধার প্রশংসা আমাদের কলেজ শিক্ষকরা প্রায় করে। তামান্না জন্মপ্রতিবন্ধী হয়েও নানান প্রতিবন্ধকতা জয় করেছে, দেখিয়ে দিয়েছে সমাজকে। শুধু পড়াশোনা না, তামান্না ভালো ছবিও আঁকেন। এমনকি কম্পিউটার প্রযুক্তিতেও সে দক্ষ। জন্ম থেকেই তার দুটি হাত ও একটা পা নেই। অথচ একটা পা দিয়েই তামান্নার যুদ্ধ থেমে নেই। আমি আশারাখি সে ভবিষ্যতে অনেক ভালো কিছু করবে।তবে এখন সবচেয়ে বেশি দরকার সরকারের সহযোগিতা।

আপডেট : ০৭:৫৭:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২২

এক পায়ে লিখে এইচএসসি’র বিজ্ঞান বিভাগ থেকে আবারও জিপিএ-৫ পেলো ঝিকরগাছার তামান্না

আপডেট : ০৭:৫৭:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২২
১৭৬

আরিফুজ্জামান আরিফ।।এক পায়ে লিখে এবারও এইচএসসি’র বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপি-৫ পেয়েছে ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়ার তামান্না আক্তার নুরা।

এর আগেও পি.ই.সি, জেএসসি ও এসএসসি’তে জিপিএ-৫ পেয়েছিলো। এই দিয়ে চারটি বোর্ড পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হলো তামান্না।

অদম্যমেধাবী তামান্না’র এক পা-ই সম্বল। জন্ম থেকেই তার দুটি হাত ও একটি পা নেই। জীবনযুদ্ধে জয়ী হওয়ার লক্ষ্যে নানান প্রতিবন্ধকতা জয় করে সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জন করেছে তামান্না।

রোববার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২ টায় এইচএসসি-২০২১ এর ফলাফল ঘোষণা করলে তামান্না জিপিএ-৫ পায়। সে যশোর শিক্ষাবোর্ডের অধীনে বাঁকড়া কেন্দ্রে পরীক্ষা দিয়েছিলো।

তামান্নার গ্রামের বাড়ি যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামে। বাবার নাম রওশন আলী। ময়ের নাম খাদিজা পারভীন শিল্পী। বাবা স্থানীয় ছোট পোদাউলিয়া দাখিল মাদ্রাসার (নন এমপিও) বিএসসির শিক্ষক। মা গৃহিণী, তিনি বাড়ির কাজ দেখাশোনা করেন। তিন সন্তানের মধ্যে সেই সবার বড়।

তামান্না স্বপ্ন দেখছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়ে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার। কিন্তু পরিবারের আর্থিক অনটনে সেটি এখন স্তিমিত হয়ে যাওয়ার উপক্রম। স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখতে ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নিকট একটি চিঠিও লিখেছিলেন।

বাঁকড়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ সামছুর রহমান বলেন, ‘তামান্না আমাদের কলেজের শিক্ষার্থী। তার মেধার প্রশংসা আমাদের কলেজ শিক্ষকরা প্রায় করে। তামান্না জন্মপ্রতিবন্ধী হয়েও নানান প্রতিবন্ধকতা জয় করেছে, দেখিয়ে দিয়েছে সমাজকে। শুধু পড়াশোনা না, তামান্না ভালো ছবিও আঁকেন। এমনকি কম্পিউটার প্রযুক্তিতেও সে দক্ষ। জন্ম থেকেই তার দুটি হাত ও একটা পা নেই। অথচ একটা পা দিয়েই তামান্নার যুদ্ধ থেমে নেই। আমি আশারাখি সে ভবিষ্যতে অনেক ভালো কিছু করবে।তবে এখন সবচেয়ে বেশি দরকার সরকারের সহযোগিতা।