চুয়াডাঙ্গা ০৭:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তেল নিয়ে তেলেসমাতি

Padma Sangbad
১০১

ইউক্রেন নিয়ে সংকট শুরুর পর থেকে তেলের দাম কেবল বাড়ছেই। দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ, কিন্তু তাতে খুব একটা লাভ হচ্ছে না। এর মধ্যে আবার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তেল নিয়ে চলছে তেলেসমাতি কাণ্ড।

কুমিল্লার বাজারে ‘তেল নেই’ গুজব

কুমিল্লার বাজারে ‘সয়াবিন তেল নেই’ ছড়িয়ে পড়া কথাটি সম্পূর্ণ গুজব ও ভিত্তিহীন। তবে দাম আগের তুলনায় বেড়েছে বলে দাবি করেছেন জেলার ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা। তাদের দাবি, একটি মহল তেল সংকটের গুজব ছড়িয়ে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে। সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করার পাঁয়তারা চলছে।

বুধবার (২ মার্চ) সন্ধ্যায় কুমিল্লা নগরীর রাজগঞ্জ, চকবাজার, রাণীর বাজার, বাদশা মিয়াবাজার ও টমছম ব্রিজের বাজার ঘুরে এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের ভাষ্য, গত এক সপ্তাহ ধরে তেলের দাম বেড়েছে। তবে বাজার থেকে ‘সয়াবিন তেল উধাও’ এটি সম্পূর্ণ গুজব।

নগরীর রাজগঞ্জ বাজারের রনি স্টোরের মালিক শামিম আহমেদ বলেন, ‘তেলের লিটার প্রতি ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে লিটার প্রতি ১৬০ টাকা ছিল। সপ্তাহের ব্যবধানে লিটার প্রতি ২০ টাকা বেড়েছে।’

রাজগঞ্জ বাজার থেকে তেল কিনেছেন ক্যাবল ব্যবসায়ী আখতার হোসেন। বলেন, ‘তেলের দাম আগের তুলনায় বেড়েছে এটা সত্যি। তবে সব দোকানেই তেল আছে।’

ভ্যানচালক আফজল খান বলেন, ‘হগল দোহানো তেল আছে। দামডা বেশি। আধজের (আধা লিটার) তেল কিনছি ৯০ টেকা দিয়া। দামডা না কমলে আর তেল কিনতাম পারতাম না।’

বেশি দামে বিক্রি করায় দোকান সিলগালা

রাজশাহীতে বোতলে লেখা নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সয়াবিন তেল বিক্রি করায় নগরীর কয়েকটি মুদিদোকানকে জরিমানা ও একটি দোকান সাময়িকভাবে সিলগালা করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

বুধবার (২ মার্চ) সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত নগরীর উপশহর নিউমার্কেট, ঘোষপাড়া, লক্ষ্মীপুর ও সাগরপাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বিকেলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. হাসান আল মারুফ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ভোক্তা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সয়াবিন তেল বিক্রি করায় রাজশাহী মহানগরীর উপশহর নিউমার্কেট এলাকায় মেসার্স এস আলম ট্রেডার্স দোকানটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। বোতলের গায়ে লেখা মূল্য ঘষে তুলে বেশি দামে বিক্রি করায় ঘোষপাড়া মোড় এলাকায় রাম স্টোরকে আট হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

খোলা সয়াবিনে মেশানো হচ্ছে বোতলের তেল

হিলিতে খোলা সয়াবিনে মেশানো হচ্ছে বোতলের তেল দিনাজপুরের হিলিতে বেশি লাভের আশায় খোলা সয়াবিনের সঙ্গে বোতলজাত সয়াবিন তেল মিশিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। তারা বলছেন, বাজারে খোলা সয়াবিন তেলের দাম বেশি। তাই তারা বোতলের তেল মিশিয়ে বিক্রি করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হিলি বাজারে পাঁচ লিটার সয়াবিন ৮০০, তিন লিটার ৫১০, দুই লিটার ৩৪০ আর এক লিটার ১৭০ টাকায় বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি করা হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকায়।

সজিব হোসেন নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘এক লিটার খোলা সয়াবিন তেল ১৮৫ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।’

রফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, পাঁচ লিটার সয়াবিনে থাকে সাড়ে চার কেজি তেল। বোতলে বিক্রি না করে খোলা সয়াবিন মিশিয়ে বিক্রি করলে ২৫ টাকা বেশি লাভ হবে।

আপডেট : ০১:০৮:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ মার্চ ২০২২

তেল নিয়ে তেলেসমাতি

আপডেট : ০১:০৮:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ মার্চ ২০২২
১০১

ইউক্রেন নিয়ে সংকট শুরুর পর থেকে তেলের দাম কেবল বাড়ছেই। দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ, কিন্তু তাতে খুব একটা লাভ হচ্ছে না। এর মধ্যে আবার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তেল নিয়ে চলছে তেলেসমাতি কাণ্ড।

কুমিল্লার বাজারে ‘তেল নেই’ গুজব

কুমিল্লার বাজারে ‘সয়াবিন তেল নেই’ ছড়িয়ে পড়া কথাটি সম্পূর্ণ গুজব ও ভিত্তিহীন। তবে দাম আগের তুলনায় বেড়েছে বলে দাবি করেছেন জেলার ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা। তাদের দাবি, একটি মহল তেল সংকটের গুজব ছড়িয়ে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে। সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করার পাঁয়তারা চলছে।

বুধবার (২ মার্চ) সন্ধ্যায় কুমিল্লা নগরীর রাজগঞ্জ, চকবাজার, রাণীর বাজার, বাদশা মিয়াবাজার ও টমছম ব্রিজের বাজার ঘুরে এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের ভাষ্য, গত এক সপ্তাহ ধরে তেলের দাম বেড়েছে। তবে বাজার থেকে ‘সয়াবিন তেল উধাও’ এটি সম্পূর্ণ গুজব।

নগরীর রাজগঞ্জ বাজারের রনি স্টোরের মালিক শামিম আহমেদ বলেন, ‘তেলের লিটার প্রতি ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে লিটার প্রতি ১৬০ টাকা ছিল। সপ্তাহের ব্যবধানে লিটার প্রতি ২০ টাকা বেড়েছে।’

রাজগঞ্জ বাজার থেকে তেল কিনেছেন ক্যাবল ব্যবসায়ী আখতার হোসেন। বলেন, ‘তেলের দাম আগের তুলনায় বেড়েছে এটা সত্যি। তবে সব দোকানেই তেল আছে।’

ভ্যানচালক আফজল খান বলেন, ‘হগল দোহানো তেল আছে। দামডা বেশি। আধজের (আধা লিটার) তেল কিনছি ৯০ টেকা দিয়া। দামডা না কমলে আর তেল কিনতাম পারতাম না।’

বেশি দামে বিক্রি করায় দোকান সিলগালা

রাজশাহীতে বোতলে লেখা নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সয়াবিন তেল বিক্রি করায় নগরীর কয়েকটি মুদিদোকানকে জরিমানা ও একটি দোকান সাময়িকভাবে সিলগালা করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

বুধবার (২ মার্চ) সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত নগরীর উপশহর নিউমার্কেট, ঘোষপাড়া, লক্ষ্মীপুর ও সাগরপাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বিকেলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. হাসান আল মারুফ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ভোক্তা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সয়াবিন তেল বিক্রি করায় রাজশাহী মহানগরীর উপশহর নিউমার্কেট এলাকায় মেসার্স এস আলম ট্রেডার্স দোকানটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। বোতলের গায়ে লেখা মূল্য ঘষে তুলে বেশি দামে বিক্রি করায় ঘোষপাড়া মোড় এলাকায় রাম স্টোরকে আট হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

খোলা সয়াবিনে মেশানো হচ্ছে বোতলের তেল

হিলিতে খোলা সয়াবিনে মেশানো হচ্ছে বোতলের তেল দিনাজপুরের হিলিতে বেশি লাভের আশায় খোলা সয়াবিনের সঙ্গে বোতলজাত সয়াবিন তেল মিশিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। তারা বলছেন, বাজারে খোলা সয়াবিন তেলের দাম বেশি। তাই তারা বোতলের তেল মিশিয়ে বিক্রি করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হিলি বাজারে পাঁচ লিটার সয়াবিন ৮০০, তিন লিটার ৫১০, দুই লিটার ৩৪০ আর এক লিটার ১৭০ টাকায় বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি করা হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকায়।

সজিব হোসেন নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘এক লিটার খোলা সয়াবিন তেল ১৮৫ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।’

রফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, পাঁচ লিটার সয়াবিনে থাকে সাড়ে চার কেজি তেল। বোতলে বিক্রি না করে খোলা সয়াবিন মিশিয়ে বিক্রি করলে ২৫ টাকা বেশি লাভ হবে।