কেশবপুরে দাখিল পরীক্ষার্থী অর্ধেকের বেশি ফেল

এবারের এসএসসি, ভোকেশনাল ও দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে কেশবপুরে দাখিল পরীক্ষার্থী অর্ধেকের বেশি ফেল করেছে। এছাড়া, একটি মাদ্রাসার সব পরীক্ষার্থী ফেল করে নজির গড়েছে। সেই তুলনায় এসএসসি ও এসএসসি ভোকেশনাল পরীক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল করেছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় কেশবপুর উপজেলার একশ’ ২৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে তিন হাজার একশ’ ১৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। তাদের মধ্যে এসএসসি পরীক্ষায় ৬৪টি স্কুল থেকে এক হাজার আটশ’ ৮৮ জন, এসএসসি ভোকেশনাল পরীক্ষায় দশটি স্কুল থেকে চারশ’ নয় জন ও দাখিল পরীক্ষায় ৫১টি মাদ্রাসা থেকে আটশ’ ১৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়।
বৃহস্পতিবার ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী দাখিল পরীক্ষায় আটশ’ ১৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে চারশ’ ৫৮ জন ফেল করেছে। পাশ করেছে তিনশ’ ৬০ জন। পাশের হার ৪৪ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছে মাদ্রাসার ৫ জন শিক্ষার্থী।
এদিকে, এসএসসি পরীক্ষায় এক হাজার ৮শ’ ৮৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ হাজার ৩শ’ ৮৫ জন পাশ করেছে। পাশের হার ৭৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছে ২৭টি স্কুলের ১শ’ ৫৯ জন শিক্ষার্থী। সর্বোচ্চ ৪৮ জন জিপিএ ৫ পেয়েছে কেশবপুর সরকারি পাইলট উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এছাড়াও সাগরদাঁড়ি এমএম ইনস্টিটিউশনের ১৪ জন, প্রতাপপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১৩ জন, কেশবপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ১৩ জন, ভরতভায়না মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ জন, সুফলাকাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ জন, মূলগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৭ জন, মঙ্গলকোট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬ জন, ভান্ডারখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬ জন, নারায়ণপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৫ জন, মঙ্গলকোট আদর্শ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ৪ জন ও গড়ভাঙ্গা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ৩ জন শিক্ষার্থী জিপিএ ৫ পেয়েছে।
এসএসসি ভোকেশনাল পরীক্ষায় ৪শ’ ৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ৩শ’ ১ জন। পাশের হার ৭৩ দশমিক ৫৯ শতাংশ। ৫টি স্কুলের ১২ জন শিক্ষার্থী জিপিএ ৫ পেয়েছে। তাদের মধ্যে হাসানপুর মুক্তিযোদ্ধা কারিগরি স্কুলের সর্বোচ্চ ৬ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।
অপর দিকে দাখিল পরীক্ষায় বেগমপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১১ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে শতভাগ ফেল করেছে। পাশাপাশি বকুলতলা বাজার মহিলা দাখিল মাদ্রাসা থেকে তিনজন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে শতভাগ পাশ করেছে। এসএসসি ভোকেশনাল পরীক্ষায় সাগরদাঁড়ি এমএম ইনস্টিটিউশন থেকে ৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে শতভাগ ফেল করেছে।
এছাড়া এসএসসি পরীক্ষায় বাউশলা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে সাতজন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে শতভাগ পাশ করেছে।
এদিকে দাখিল পরীক্ষায় অর্ধেকের বেশি পরীক্ষার্থী ফেল করায় অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা এ ফল বিপর্যয়ের জন্য মাদ্রাসা সুপারদের সাথে শিক্ষকদের সম্বয়হীনতার কারণে শ্রেণিকক্ষে ঠিকমত পাঠদান না হওয়াকে দায়ি করছেন।
গড়ভাঙ্গা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার অভিভাবক সদস্য জামাল উদ্দিন বলেন, তাদের সুপার সপ্তায় একদিন মাদ্রাসায় আসেন। তার সাথে শিক্ষকদের সমন্বয় নেই। এই উপজেলার ৫১টি মাদ্রাসার ছেলে-মেয়েরা এবার দাখিল পরীক্ষা দিয়েছে। ওই ৫১টি মাদ্রাসায় প্রায় ৮শ’ শিক্ষক রয়েছে। প্রত্যেক শিক্ষক একজন করে পরীক্ষার্থীর দায়িত্ব নিলে ৮শ’ পরীক্ষার্থী পাশ করার কথা।
বুড়িহাটি মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আব্দুল খালেক বলেন, শুধু কেশবপুরে ফল বিপর্যয় হয়নি। সারা দেশে একই অবস্থা। অন্যবার নির্দিষ্ট কিছু নম্বর গ্রেস দেওয়ার জন্য মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের নির্দেশনা থাকতো। এবার কোন নম্বর গ্রেস না দেওয়ায় এই ফল বিপর্যয়।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শেখ ফিরোজ আহমেদ বলেন, দাখিল পরীক্ষা কেন্দ্রে এবার নজরদারি কড়াকড়ি করায় যে সব শিক্ষার্থী ভালো লেখাপড়া করেছে শুধু তারাই পাশ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। দাখিল পরীক্ষায় ফল বিপর্যয়ের কারণে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে পরামর্শ করে দ্রুত মাদ্রাসা সুপারদের নিয়ে একটি সভা করা হবে।

















