চুয়াডাঙ্গা ০৪:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দর্শনার ছটেংগার মাঠে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান পুকুর পুনঃখননের নামে মাটি উত্তোলন, জড়িতদের তালিকা তৈরির নির্দেশ

Padma Sangbad
১১

দর্শনা ছটেংগার বিস্তীর্ণ কৃষি অঞ্চলে পুকুর পুনঃখননের আড়ালে বালু ও কৃষিজমির উর্বর উপরিভাগের মাটি উত্তোলনের অভিযোগে অবশেষে মাঠে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন। বুধবার দুপুর প্রায় ২টার দিকে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমীন এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহীন আলম দর্শনা থানা পুলিশের সমন্বয়ে ছটেংগার মাঠে আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় কাউকে বালি বা মাটিকাটা সংশ্লিষ্ট কাউকে পাওয়া যায়নি।
এ সময় অভিযানে বিভিন্ন স্থানে চলমান পুকুর পুনঃখননের কার্যক্রম, মাটি উত্তোলন ও পরিবহনের বিষয়গুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, পুকুর পুনঃখননের অনুমতির আড়ালে কৃষিজমির উর্বর উপরিভাগের মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন ফসলি জমির উৎপাদনক্ষমতা কমে যাচ্ছে, অন্যদিকে সৃষ্টি হচ্ছে গভীর খাদ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একসময় এই মাটি-বাণিজ্য সিন্ডিকেট আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে।
অভিযানকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, পুকুর খননের নামে কোথাও যেন কৃষিজমির উর্বর প্রথম স্তরের মাটি কেটে নেওয়া না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। যারা এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত, তাদের তালিকা প্রস্তুত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কৃষিজমি ও পরিবেশ রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহীন আলমও জানান, মাঠপর্যায়ে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চলবে। পুকুর পুনঃখননের নামে উর্বর মাটি ও বালু উত্তোলনের অভিযোগ তুলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি প্রকাশের পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে এবং গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সরেজমিনে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে উপস্থিত ছিলেন দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম, দর্শনা ভূমি অফিসের ভূমি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা।

আপডেট : ০১:১৩:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

দর্শনার ছটেংগার মাঠে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান পুকুর পুনঃখননের নামে মাটি উত্তোলন, জড়িতদের তালিকা তৈরির নির্দেশ

আপডেট : ০১:১৩:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
১১

দর্শনা ছটেংগার বিস্তীর্ণ কৃষি অঞ্চলে পুকুর পুনঃখননের আড়ালে বালু ও কৃষিজমির উর্বর উপরিভাগের মাটি উত্তোলনের অভিযোগে অবশেষে মাঠে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন। বুধবার দুপুর প্রায় ২টার দিকে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমীন এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহীন আলম দর্শনা থানা পুলিশের সমন্বয়ে ছটেংগার মাঠে আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় কাউকে বালি বা মাটিকাটা সংশ্লিষ্ট কাউকে পাওয়া যায়নি।
এ সময় অভিযানে বিভিন্ন স্থানে চলমান পুকুর পুনঃখননের কার্যক্রম, মাটি উত্তোলন ও পরিবহনের বিষয়গুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, পুকুর পুনঃখননের অনুমতির আড়ালে কৃষিজমির উর্বর উপরিভাগের মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন ফসলি জমির উৎপাদনক্ষমতা কমে যাচ্ছে, অন্যদিকে সৃষ্টি হচ্ছে গভীর খাদ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একসময় এই মাটি-বাণিজ্য সিন্ডিকেট আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে।
অভিযানকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, পুকুর খননের নামে কোথাও যেন কৃষিজমির উর্বর প্রথম স্তরের মাটি কেটে নেওয়া না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। যারা এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত, তাদের তালিকা প্রস্তুত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কৃষিজমি ও পরিবেশ রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহীন আলমও জানান, মাঠপর্যায়ে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চলবে। পুকুর পুনঃখননের নামে উর্বর মাটি ও বালু উত্তোলনের অভিযোগ তুলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি প্রকাশের পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে এবং গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সরেজমিনে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে উপস্থিত ছিলেন দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম, দর্শনা ভূমি অফিসের ভূমি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা।