চুয়াডাঙ্গা ১০:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং দুর্ঘটনা: গাফিলতি, সমন্বয়হীনতা ও ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থাপনাই দায়ী

Padma Sangbad
৭৫

কুমিল্লা সংবাদদাতা।।
কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ২১ মার্চ রাত ২টা ৫৫ মিনিটে চুয়াডাঙ্গা থেকে লক্ষ্মীপুরগামী ‘মামুন স্পেশাল’ বাস এবং চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি মেইল ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১২ জন নিহত ও অন্তত ২৪ জন গুরুতর আহত হন। নিহতদের মধ্যে তিনজন শিশু রয়েছে।

ঘটনার তদন্তে উঠে এসেছে একাধিক অবহেলা ও অনিয়মের চিত্র। গেটম্যানদের দায়িত্ব অর্থের বিনিময়ে অন্যদের কাছে হস্তান্তর, নির্ধারিত সময়ে গেট ব্যারিয়ার না ফেলা এবং তদারকি কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীনতা দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

জানা যায়, দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই গেটম্যান ঘটনাস্থলে না থেকে গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। তাদের পরিবর্তে দায়িত্ব নেওয়া নাজমুল ও কাউসার হোসেন দায়িত্ব পালনের সময় ঘুমিয়ে পড়েন। ফলে ট্রেন আসার আগে গেট বন্ধ করা হয়নি।

এছাড়া অবকাঠামোগত দুর্বলতাও দুর্ঘটনাকে আরও ভয়াবহ করে তোলে। রেলক্রসিংয়ের অ্যালার্ম ও আইপি ফোন দীর্ঘদিন ধরে অচল ছিল। পাশাপাশি সড়ক ও জনপথ বিভাগের একটি স্থাপনার কারণে চালকের ট্রেন দেখার দৃষ্টিসীমাও বাধাগ্রস্ত হয়।

তদন্তে আরও উল্লেখ করা হয়, বাসচালকের বেপরোয়া গতি এবং ট্রেনচালক ও সহকারী চালকদের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতিও দুর্ঘটনার পেছনে ভূমিকা রাখে।

রেলওয়ে ও জেলা প্রশাসনের পৃথক তদন্ত প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট গেটম্যান, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, বাসচালক এবং ট্রেন সংশ্লিষ্টদের অবহেলা ও সমন্বয়হীনতাকে দায়ী করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর তদারকি, প্রযুক্তি সচল রাখা এবং দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

আপডেট : ১১:৪৫:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং দুর্ঘটনা: গাফিলতি, সমন্বয়হীনতা ও ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থাপনাই দায়ী

আপডেট : ১১:৪৫:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
৭৫

কুমিল্লা সংবাদদাতা।।
কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ২১ মার্চ রাত ২টা ৫৫ মিনিটে চুয়াডাঙ্গা থেকে লক্ষ্মীপুরগামী ‘মামুন স্পেশাল’ বাস এবং চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি মেইল ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১২ জন নিহত ও অন্তত ২৪ জন গুরুতর আহত হন। নিহতদের মধ্যে তিনজন শিশু রয়েছে।

ঘটনার তদন্তে উঠে এসেছে একাধিক অবহেলা ও অনিয়মের চিত্র। গেটম্যানদের দায়িত্ব অর্থের বিনিময়ে অন্যদের কাছে হস্তান্তর, নির্ধারিত সময়ে গেট ব্যারিয়ার না ফেলা এবং তদারকি কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীনতা দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

জানা যায়, দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই গেটম্যান ঘটনাস্থলে না থেকে গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। তাদের পরিবর্তে দায়িত্ব নেওয়া নাজমুল ও কাউসার হোসেন দায়িত্ব পালনের সময় ঘুমিয়ে পড়েন। ফলে ট্রেন আসার আগে গেট বন্ধ করা হয়নি।

এছাড়া অবকাঠামোগত দুর্বলতাও দুর্ঘটনাকে আরও ভয়াবহ করে তোলে। রেলক্রসিংয়ের অ্যালার্ম ও আইপি ফোন দীর্ঘদিন ধরে অচল ছিল। পাশাপাশি সড়ক ও জনপথ বিভাগের একটি স্থাপনার কারণে চালকের ট্রেন দেখার দৃষ্টিসীমাও বাধাগ্রস্ত হয়।

তদন্তে আরও উল্লেখ করা হয়, বাসচালকের বেপরোয়া গতি এবং ট্রেনচালক ও সহকারী চালকদের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতিও দুর্ঘটনার পেছনে ভূমিকা রাখে।

রেলওয়ে ও জেলা প্রশাসনের পৃথক তদন্ত প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট গেটম্যান, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, বাসচালক এবং ট্রেন সংশ্লিষ্টদের অবহেলা ও সমন্বয়হীনতাকে দায়ী করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর তদারকি, প্রযুক্তি সচল রাখা এবং দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে।