চুয়াডাঙ্গা ০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হজের মূল পর্ব শুরু, আরাফাতের ময়দানে ১৬ লাখের বেশি হাজি

Padma Sangbad
১১

অনলাইন ডেস্ক।।

পবিত্র হজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও আধ্যাত্মিক ধাপ আরাফাত দিবসে মঙ্গলবার (২৬ মে) সৌদি আরবের আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়েছেন ১৬ লাখের বেশি হাজি। ভোর থেকেই তারা দলে দলে এই ঐতিহাসিক প্রান্তরে উপস্থিত হয়ে দিনব্যাপী ইবাদত, দোয়া, কোরআন তেলাওয়াত ও আল্লাহর জিকিরে মশগুল থাকেন।

সৌদি প্রেস এজেন্সির বরাতে আরব নিউজ জানিয়েছে, জিলহজ মাসের ৯ তারিখ ভোর থেকেই হাজিরা আরাফাতের ময়দানে পৌঁছাতে শুরু করেন। হজের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ এই দিনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত মুসল্লিরা সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করবেন। পুরো এলাকা জুড়ে বিরাজ করছে গভীর আধ্যাত্মিক পরিবেশ ও শান্তিময় অনুভূতি।

ইসলামী ঐতিহ্যে আরাফাত দিবসকে হজের “মূল স্তম্ভ” হিসেবে গণ্য করা হয়। এই দিনটি ছাড়া হজ সম্পূর্ণ হয় না বলে ইসলামি বিধানে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হাজিরা সারাদিন আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা, দোয়া ও ইবাদতে ব্যস্ত থাকেন।

এই দিনটি ইসলামের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বিদায় হজের সময় আরাফাতের জাবালে রহমতে ঐতিহাসিক খুতবা প্রদান করেছিলেন। সেখানে তিনি ন্যায়বিচার, সাম্য, মানবাধিকার এবং জীবন ও সম্পদের মর্যাদা রক্ষার দিকনির্দেশনা দেন, যা আজও মুসলিম বিশ্বের জন্য পথনির্দেশক হিসেবে বিবেচিত।

মঙ্গলবার দুপুরে হাজিদের উদ্দেশে আরাফার খুতবা প্রদান করা হয়, যেখানে দিনের ফজিলত ও গুরুত্ব সম্পর্কে ধর্মীয় নির্দেশনা তুলে ধরা হয়। এরপর হাজিরা সুন্নাহ অনুযায়ী জোহর ও আসরের নামাজ একসঙ্গে সংক্ষিপ্তভাবে আদায় করেন।

দিনব্যাপী হাজিরা হাত তুলে দোয়া করেন, তাকবির ও তালবিয়া পাঠ করেন এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। পুরো পরিবেশটি গভীর বিনয়, আত্মসমালোচনা ও আধ্যাত্মিকতায় পরিপূর্ণ থাকে।

মূলত মক্কা থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত আরাফাতের বিস্তীর্ণ প্রান্তরে রয়েছে জাবালে রহমত বা ‘রহমতের পাহাড়’। অনেক হাজি সেখানে গিয়ে দোয়া ও ইবাদতে অংশ নেন। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, এই স্থানেই হজরত আদম (আ.) ও হজরত হাওয়া (আ.)-এর পুনর্মিলন হয়েছিল। তাই মুসলমানদের কাছে এর বিশেষ ধর্মীয় ও প্রতীকী গুরুত্ব রয়েছে।

এদিকে আরাফাতে যাওয়ার আগে হাজিরা মিনায় ‘ইয়াওমুত তারবিয়া’ পালন করেন। মূলত আরাফাতে যাওয়ার আগে মিনায় অবস্থান করে তারা হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপের জন্য শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি নেন।

চলতি বছর হাজিদের নিরাপদ যাতায়াত ও সেবা নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। পবিত্র স্থানগুলোতে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, চিকিৎসাসেবা, পরিবহন নেটওয়ার্ক ও জরুরি সহায়তা ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে মঙ্গলবার সূর্যাস্তের পর হাজিরা আরাফাত থেকে মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে তারা মাগরিব ও এশার নামাজ একসঙ্গে আদায় করবেন এবং রাতযাপন করবেন। পরদিন শয়তানকে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপের আনুষ্ঠানিকতা পালনের প্রস্তুতিও সেখানে নেয়া হবে।

আপডেট : ০৩:১০:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

হজের মূল পর্ব শুরু, আরাফাতের ময়দানে ১৬ লাখের বেশি হাজি

আপডেট : ০৩:১০:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
১১

অনলাইন ডেস্ক।।

পবিত্র হজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও আধ্যাত্মিক ধাপ আরাফাত দিবসে মঙ্গলবার (২৬ মে) সৌদি আরবের আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়েছেন ১৬ লাখের বেশি হাজি। ভোর থেকেই তারা দলে দলে এই ঐতিহাসিক প্রান্তরে উপস্থিত হয়ে দিনব্যাপী ইবাদত, দোয়া, কোরআন তেলাওয়াত ও আল্লাহর জিকিরে মশগুল থাকেন।

সৌদি প্রেস এজেন্সির বরাতে আরব নিউজ জানিয়েছে, জিলহজ মাসের ৯ তারিখ ভোর থেকেই হাজিরা আরাফাতের ময়দানে পৌঁছাতে শুরু করেন। হজের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ এই দিনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত মুসল্লিরা সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করবেন। পুরো এলাকা জুড়ে বিরাজ করছে গভীর আধ্যাত্মিক পরিবেশ ও শান্তিময় অনুভূতি।

ইসলামী ঐতিহ্যে আরাফাত দিবসকে হজের “মূল স্তম্ভ” হিসেবে গণ্য করা হয়। এই দিনটি ছাড়া হজ সম্পূর্ণ হয় না বলে ইসলামি বিধানে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হাজিরা সারাদিন আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা, দোয়া ও ইবাদতে ব্যস্ত থাকেন।

এই দিনটি ইসলামের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বিদায় হজের সময় আরাফাতের জাবালে রহমতে ঐতিহাসিক খুতবা প্রদান করেছিলেন। সেখানে তিনি ন্যায়বিচার, সাম্য, মানবাধিকার এবং জীবন ও সম্পদের মর্যাদা রক্ষার দিকনির্দেশনা দেন, যা আজও মুসলিম বিশ্বের জন্য পথনির্দেশক হিসেবে বিবেচিত।

মঙ্গলবার দুপুরে হাজিদের উদ্দেশে আরাফার খুতবা প্রদান করা হয়, যেখানে দিনের ফজিলত ও গুরুত্ব সম্পর্কে ধর্মীয় নির্দেশনা তুলে ধরা হয়। এরপর হাজিরা সুন্নাহ অনুযায়ী জোহর ও আসরের নামাজ একসঙ্গে সংক্ষিপ্তভাবে আদায় করেন।

দিনব্যাপী হাজিরা হাত তুলে দোয়া করেন, তাকবির ও তালবিয়া পাঠ করেন এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। পুরো পরিবেশটি গভীর বিনয়, আত্মসমালোচনা ও আধ্যাত্মিকতায় পরিপূর্ণ থাকে।

মূলত মক্কা থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত আরাফাতের বিস্তীর্ণ প্রান্তরে রয়েছে জাবালে রহমত বা ‘রহমতের পাহাড়’। অনেক হাজি সেখানে গিয়ে দোয়া ও ইবাদতে অংশ নেন। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, এই স্থানেই হজরত আদম (আ.) ও হজরত হাওয়া (আ.)-এর পুনর্মিলন হয়েছিল। তাই মুসলমানদের কাছে এর বিশেষ ধর্মীয় ও প্রতীকী গুরুত্ব রয়েছে।

এদিকে আরাফাতে যাওয়ার আগে হাজিরা মিনায় ‘ইয়াওমুত তারবিয়া’ পালন করেন। মূলত আরাফাতে যাওয়ার আগে মিনায় অবস্থান করে তারা হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপের জন্য শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি নেন।

চলতি বছর হাজিদের নিরাপদ যাতায়াত ও সেবা নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। পবিত্র স্থানগুলোতে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, চিকিৎসাসেবা, পরিবহন নেটওয়ার্ক ও জরুরি সহায়তা ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে মঙ্গলবার সূর্যাস্তের পর হাজিরা আরাফাত থেকে মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে তারা মাগরিব ও এশার নামাজ একসঙ্গে আদায় করবেন এবং রাতযাপন করবেন। পরদিন শয়তানকে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপের আনুষ্ঠানিকতা পালনের প্রস্তুতিও সেখানে নেয়া হবে।