চুয়াডাঙ্গা ০৯:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আজ বিশ্বকবির ১৬৫ তম জন্মবার্ষিকী শিলাইদহের কুঠিবাড়ীতে ৩দিন ব্যাপী জন্মজয়ন্তী উৎসব

Padma Sangbad
২৬

কুষ্টিয়া সংবাদদাতা।।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫ তম জন্মবার্ষিকীতে আজ শিলাইদহের কুঠিবাড়ীতে তিনদিন ব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্ধোধন। ২৫শে বৈশাখ বিশ্বকবির ১৬৫ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শিলাইদহের ঠাকুর বাড়িতে আজ শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে তিনদিন ব্যাপী আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও গ্রামীন মেলা।

জানা যায়, পৈত্রিক জন্মস্থান জোড়াসাঁকো থেকে স্বপরিবারে এখানে এসে কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনের অনেক মুল্যবান সময় কাটিয়েছেন তাঁর স্মৃতিধন্য শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে। এখানে বসেই গীতাঞ্জলী অনুবাদ করে পেয়েছেন বিশ্বকবির খ্যাতি। তিনি রচনা করেছেন নৌকা ডুবিসহ কালজয়ী সব কাব্যগ্রন্থ, ডাকপিওনসহ ছোট গল্প, নাটক ও উপন্যাস।

৮ মে জাতীয়ভাবে কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উদযাপন হচ্ছে কুষ্টিয়ার শিলাইদহের রবীন্দ্র কুঠিবাড়িতে। পরিপাটি করে সাজানো হয়েছে বাড়ির আঙিনা থেকে শুরু করে প্রতিটি প্রান্তর। রঙের আঁচরে অপরুপ হয়ে উঠছে কুঠিবাড়ি। ঝেড়ে,মুছে,পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে কবির ব্যবহৃত আসবাবপত্র থেকে শুরু করে সব স্মৃতিচিহৃ। আঙিনায় বাঁশ,কাঠ,ত্রিপল দিয়ে চলছে মঞ্চ ও দর্শনার্থীদের বসার স্থান।

কুঠিবাড়ীর মিউজিয়ামের গাইড শাহজাহান জানালেন, পালকি, শয়ন খাট, আলমিরাসহ সকল কিছু পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। এই কয়দিন তাদের ছিল না কোন ফুরসুত।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ জন্ম গ্রহন করেন। বংশ পরম্পরায় জমিদার হয়েও প্রজাদের ভালোবাসতেন মন প্রাণ দিয়ে। তাই পচিশে বৈশাখ কবির জন্ম উৎসবে মুখরিত হয়ে ওঠে কুমারখালীর শিলাইদহের স্মৃতি বিজড়িত কুঠিবাড়ী। এরই মধ্যে উৎসবের রঙ্গ ছড়িয়ে পড়েছে সব খানে। নতুন করে সাজানো হয়েছে ঠাকুর বাড়ির আঙ্গিনা, কবির স্মৃতি চিহ্ন ও রবীন্দ্র মঞ্চও। আসতে শুরু করেছেন কবীর ভক্ত অনুরাগীরা। বৈশাখের বর্ণিল এই উৎসবকে সামনে রেখে কুঠিবাড়িতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুুতি।

একদিকে বাঁশ, কাঠ দিয়ে চলছে মঞ্চ তৈরি অন্যদিকে রং তুলির শেষ আঁচড়ে কুঠিবাড়ী হয়ে উঠছে ঝকঝকে তকতকে। ঠাকুর বাড়িতে বসবে তিন দিনের আয়োজন। রং বেরঙের বাহারি পণ্য দিয়ে দোকান সাজাতে ব্যস্ত দোকানীরা। সেদিন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের গান পরিবেশন করবেন দেশ ও দেশের বাইরে থেকে আসা শিল্পী ও রবীন্দ্র সংগীতের দল। অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে সংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন চলবে গ্রামীণ মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। উৎসবের তিন দিনই উন্মুক্ত থাকবে ঠাকুরের কুঠি বাড়ি। মঞ্চে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে তুলে। ধরা হবে কবির কর্মময় জীবনী। গবেষক ভক্ত অনুরাগীদের মিলন মেলায় পরিনত হবে ঠাকুর বাড়ি, আশা আয়োজকদের। এ ব্যাপারে কুঠিবাড়ীর কাষ্টোডিয়ান মোঃ আল আমিন জানান, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সহযোগিতায় ও কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের আয়োজনে তিনদিন ব্যাপী অনুষ্ঠানে থাকছে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মেলা। আয়োজন সফল করতে ইতোমধ্যে সবধরণের প্রস্তুুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

উদ্ধোধনী দিনে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সবিচ কানিজ মাওলার সভাপতিত্বে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য ও কর্মময় জীবন নিয়ে স্বারক বক্তব্য রাখবেন অধ্যাপক ড. ওয়াকিল আহমেদ, পলিসি ও স্ট্রাটেজী, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় উপদেষ্টা ডাঃ জাহেদ উর রহমান, কুষ্টিয়া-১- আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ, সাব্কে সংসদ সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখবেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ তৌহিদ বীন হাসান।

আলোচনা সভা শেষে জেলা শিল্পকলা একাডেমীর উদ্যোগে কবি গরুর লেখা রবীন্দ্র সংগীত, কবিতা পাঠসহ মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

উৎসবকুঠিবাড়ীজন্মজয়ন্তীজন্মবার্ষিকীবিশ্বকবিরবীন্দ্র জয়ন্তীশিলাইদহ

Share
Tweet
Share
Pin
Share
0Shares

শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে রবীন্দ্রনাথের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন শুরু
কুষ্টিয়া অফিস 59 ২৫শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ · রাত ১১:৪৪ image_print

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কুষ্টিয়ার শিলাইদহ কুঠিবাড়ি-তে তিনদিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করা হয়েছে।
আজ শুক্রবার বিকেলে কুঠিবাড়ির মূলমঞ্চে আয়োজিত অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য আফজাল হোসেন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন, কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক তৌহিদ-বিন-হাসান, কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, “রবীন্দ্র কুঠিবাড়িকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এ বিষয়ে সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ চলছে। কুঠিবাড়ি বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক অনন্য অংশ।”
তিনি আরও বলেন, “প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতাধীন দেশের গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থানগুলোকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার কাজ করছে। শিলাইদহ কুঠিবাড়িও সেই পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত।”
তিনি আরও বলেন, রবীন্দ্রনাথ ও বাংলা সাহিত্য একে অপরে পরিপূরক। বাংলা সাহিত্যে তাঁর স্থান অনন্য, অসাধারন। বাংলা সাহিত্যের সব কটি ধারা তার লেখনীতে সমৃদ্ধ। বাংলা সাহিত্যে একমাত্র রবীন্দ্রনাথেরই একটি নিজস্ব অধ্যায় রয়েছে। যে অধ্যায় বাংলা সাহিত্যকে দিয়েছে এক মহান উচ্চতা। রবীন্দ্রনাথ বাংলার কবি, বাঙালির কবি। তারও অধিক তিনি ছিলেন বিশ্বচরাচরের কবি ; বিশ্বকবি।
পরে বিশ্বকবি রচিত জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। তিনদিনব্যাপী এই আয়োজনকে ঘিরে কুঠিবাড়ি প্রাঙ্গণে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। দেশ-বিদেশ থেকে আগত রবীন্দ্রপ্রেমী, সংস্কৃতিকর্মী ও দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এবং জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এ উৎসবে রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, রবীন্দ্রসংগীত, কবিতা আবৃত্তি, নৃত্য পরিবেশনা ও আলোচনা সভা। জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের শিল্পীরা এতে অংশ নিচ্ছেন।
উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কয়েকস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পুরো এলাকা জুড়ে দায়িত্ব পালন করছেন।
উল্লেখ্য, জমিদারি দেখাশোনার জন্য ১৮৯১ সালে প্রথম শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে আসেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এরপর বারবার তিনি এই কুঠিবাড়িতে ফিরে আসেন। পদ্মা নদীর পাড়ঘেঁষা নিভৃত এই পরিবেশে বসেই তিনি রচনা করেন অসংখ্য কালজয়ী সাহিত্যকর্ম। এখানকার অনুপ্রেরণায় রচিত গীতাঞ্জলি কাব্যের জন্যই তিনি নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন। এছাড়াও তিনি এখানে বসেই রচনা করেন বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতসহ বহু অমর সৃষ্টি। আজও কুঠিবাড়িতে সংরক্ষিত রয়েছে কবিগুরুর ব্যবহৃত নানা স্মৃতিচিহ্ন।

আপডেট : ১১:৪৬:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

আজ বিশ্বকবির ১৬৫ তম জন্মবার্ষিকী শিলাইদহের কুঠিবাড়ীতে ৩দিন ব্যাপী জন্মজয়ন্তী উৎসব

আপডেট : ১১:৪৬:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬
২৬

কুষ্টিয়া সংবাদদাতা।।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫ তম জন্মবার্ষিকীতে আজ শিলাইদহের কুঠিবাড়ীতে তিনদিন ব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্ধোধন। ২৫শে বৈশাখ বিশ্বকবির ১৬৫ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শিলাইদহের ঠাকুর বাড়িতে আজ শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে তিনদিন ব্যাপী আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও গ্রামীন মেলা।

জানা যায়, পৈত্রিক জন্মস্থান জোড়াসাঁকো থেকে স্বপরিবারে এখানে এসে কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনের অনেক মুল্যবান সময় কাটিয়েছেন তাঁর স্মৃতিধন্য শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে। এখানে বসেই গীতাঞ্জলী অনুবাদ করে পেয়েছেন বিশ্বকবির খ্যাতি। তিনি রচনা করেছেন নৌকা ডুবিসহ কালজয়ী সব কাব্যগ্রন্থ, ডাকপিওনসহ ছোট গল্প, নাটক ও উপন্যাস।

৮ মে জাতীয়ভাবে কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উদযাপন হচ্ছে কুষ্টিয়ার শিলাইদহের রবীন্দ্র কুঠিবাড়িতে। পরিপাটি করে সাজানো হয়েছে বাড়ির আঙিনা থেকে শুরু করে প্রতিটি প্রান্তর। রঙের আঁচরে অপরুপ হয়ে উঠছে কুঠিবাড়ি। ঝেড়ে,মুছে,পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে কবির ব্যবহৃত আসবাবপত্র থেকে শুরু করে সব স্মৃতিচিহৃ। আঙিনায় বাঁশ,কাঠ,ত্রিপল দিয়ে চলছে মঞ্চ ও দর্শনার্থীদের বসার স্থান।

কুঠিবাড়ীর মিউজিয়ামের গাইড শাহজাহান জানালেন, পালকি, শয়ন খাট, আলমিরাসহ সকল কিছু পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। এই কয়দিন তাদের ছিল না কোন ফুরসুত।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ জন্ম গ্রহন করেন। বংশ পরম্পরায় জমিদার হয়েও প্রজাদের ভালোবাসতেন মন প্রাণ দিয়ে। তাই পচিশে বৈশাখ কবির জন্ম উৎসবে মুখরিত হয়ে ওঠে কুমারখালীর শিলাইদহের স্মৃতি বিজড়িত কুঠিবাড়ী। এরই মধ্যে উৎসবের রঙ্গ ছড়িয়ে পড়েছে সব খানে। নতুন করে সাজানো হয়েছে ঠাকুর বাড়ির আঙ্গিনা, কবির স্মৃতি চিহ্ন ও রবীন্দ্র মঞ্চও। আসতে শুরু করেছেন কবীর ভক্ত অনুরাগীরা। বৈশাখের বর্ণিল এই উৎসবকে সামনে রেখে কুঠিবাড়িতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুুতি।

একদিকে বাঁশ, কাঠ দিয়ে চলছে মঞ্চ তৈরি অন্যদিকে রং তুলির শেষ আঁচড়ে কুঠিবাড়ী হয়ে উঠছে ঝকঝকে তকতকে। ঠাকুর বাড়িতে বসবে তিন দিনের আয়োজন। রং বেরঙের বাহারি পণ্য দিয়ে দোকান সাজাতে ব্যস্ত দোকানীরা। সেদিন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের গান পরিবেশন করবেন দেশ ও দেশের বাইরে থেকে আসা শিল্পী ও রবীন্দ্র সংগীতের দল। অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে সংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন চলবে গ্রামীণ মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। উৎসবের তিন দিনই উন্মুক্ত থাকবে ঠাকুরের কুঠি বাড়ি। মঞ্চে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে তুলে। ধরা হবে কবির কর্মময় জীবনী। গবেষক ভক্ত অনুরাগীদের মিলন মেলায় পরিনত হবে ঠাকুর বাড়ি, আশা আয়োজকদের। এ ব্যাপারে কুঠিবাড়ীর কাষ্টোডিয়ান মোঃ আল আমিন জানান, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সহযোগিতায় ও কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের আয়োজনে তিনদিন ব্যাপী অনুষ্ঠানে থাকছে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মেলা। আয়োজন সফল করতে ইতোমধ্যে সবধরণের প্রস্তুুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

উদ্ধোধনী দিনে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সবিচ কানিজ মাওলার সভাপতিত্বে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য ও কর্মময় জীবন নিয়ে স্বারক বক্তব্য রাখবেন অধ্যাপক ড. ওয়াকিল আহমেদ, পলিসি ও স্ট্রাটেজী, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় উপদেষ্টা ডাঃ জাহেদ উর রহমান, কুষ্টিয়া-১- আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ, সাব্কে সংসদ সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখবেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ তৌহিদ বীন হাসান।

আলোচনা সভা শেষে জেলা শিল্পকলা একাডেমীর উদ্যোগে কবি গরুর লেখা রবীন্দ্র সংগীত, কবিতা পাঠসহ মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

উৎসবকুঠিবাড়ীজন্মজয়ন্তীজন্মবার্ষিকীবিশ্বকবিরবীন্দ্র জয়ন্তীশিলাইদহ

Share
Tweet
Share
Pin
Share
0Shares

শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে রবীন্দ্রনাথের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন শুরু
কুষ্টিয়া অফিস 59 ২৫শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ · রাত ১১:৪৪ image_print

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কুষ্টিয়ার শিলাইদহ কুঠিবাড়ি-তে তিনদিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করা হয়েছে।
আজ শুক্রবার বিকেলে কুঠিবাড়ির মূলমঞ্চে আয়োজিত অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য আফজাল হোসেন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন, কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক তৌহিদ-বিন-হাসান, কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, “রবীন্দ্র কুঠিবাড়িকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এ বিষয়ে সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ চলছে। কুঠিবাড়ি বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক অনন্য অংশ।”
তিনি আরও বলেন, “প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতাধীন দেশের গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থানগুলোকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার কাজ করছে। শিলাইদহ কুঠিবাড়িও সেই পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত।”
তিনি আরও বলেন, রবীন্দ্রনাথ ও বাংলা সাহিত্য একে অপরে পরিপূরক। বাংলা সাহিত্যে তাঁর স্থান অনন্য, অসাধারন। বাংলা সাহিত্যের সব কটি ধারা তার লেখনীতে সমৃদ্ধ। বাংলা সাহিত্যে একমাত্র রবীন্দ্রনাথেরই একটি নিজস্ব অধ্যায় রয়েছে। যে অধ্যায় বাংলা সাহিত্যকে দিয়েছে এক মহান উচ্চতা। রবীন্দ্রনাথ বাংলার কবি, বাঙালির কবি। তারও অধিক তিনি ছিলেন বিশ্বচরাচরের কবি ; বিশ্বকবি।
পরে বিশ্বকবি রচিত জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। তিনদিনব্যাপী এই আয়োজনকে ঘিরে কুঠিবাড়ি প্রাঙ্গণে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। দেশ-বিদেশ থেকে আগত রবীন্দ্রপ্রেমী, সংস্কৃতিকর্মী ও দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এবং জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এ উৎসবে রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, রবীন্দ্রসংগীত, কবিতা আবৃত্তি, নৃত্য পরিবেশনা ও আলোচনা সভা। জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের শিল্পীরা এতে অংশ নিচ্ছেন।
উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কয়েকস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পুরো এলাকা জুড়ে দায়িত্ব পালন করছেন।
উল্লেখ্য, জমিদারি দেখাশোনার জন্য ১৮৯১ সালে প্রথম শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে আসেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এরপর বারবার তিনি এই কুঠিবাড়িতে ফিরে আসেন। পদ্মা নদীর পাড়ঘেঁষা নিভৃত এই পরিবেশে বসেই তিনি রচনা করেন অসংখ্য কালজয়ী সাহিত্যকর্ম। এখানকার অনুপ্রেরণায় রচিত গীতাঞ্জলি কাব্যের জন্যই তিনি নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন। এছাড়াও তিনি এখানে বসেই রচনা করেন বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতসহ বহু অমর সৃষ্টি। আজও কুঠিবাড়িতে সংরক্ষিত রয়েছে কবিগুরুর ব্যবহৃত নানা স্মৃতিচিহ্ন।