চুয়াডাঙ্গা ১২:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আবারও দৌলতদিয়া ঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস পদ্মায়, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন যাত্রীরা

Padma Sangbad

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"addons":1,"transform":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

২৪

দৈনিক পদ্মা সংবাদ।
রাজবাড়ী, ৫ জুন: রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে ফেরিতে ওঠার আগে বাসের সব যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়ায় এ যাত্রায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দৌলতদিয়ার ৭ নম্বর ফেরিঘাটে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী এসবি পরিবহনের একটি বাস ফেরি ‘করবী’-তে ওঠার সময় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন ভেঙে সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘাটে পৌঁছানোর পর নিয়ম অনুসারে বাসের সব যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে ফেরিতে ওঠার সময় বাসটির ব্রেক বিকল হয়ে গেলে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান এবং মুহূর্তের মধ্যেই বাসটি নদীতে তলিয়ে যায়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, র‌্যাব, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এবং ডুবুরি দলের সদস্যরা। উদ্ধারকারীরা পানির নিচে বাসটির অবস্থান শনাক্ত করে রশি দিয়ে বেঁধে রাখেন। পরে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাস উদ্ধারের কার্যক্রম শুরু করে।
নদীতে পড়ে যাওয়া বাসের চালক, হেলপার ও সুপারভাইজারকে স্থানীয়দের সহায়তায় জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। আহতদের গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন থেকে নদীতে পড়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো যাত্রী হতাহত বা নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। কোনো যাত্রীর স্বজনও নিখোঁজের অভিযোগ নিয়ে প্রশাসনের কাছে আসেননি।
উল্লেখ্য, গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে একই ধরনের দুর্ঘটনায় একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে ডুবে গিয়ে ২৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল। ওই দুর্ঘটনার পর ফেরিতে ওঠার আগে সব যাত্রীকে বাস থেকে নামিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা জারি করা হয়। শুক্রবারের ঘটনায় সেই নির্দেশনা কার্যকর থাকায় সম্ভাব্য ভয়াবহ ট্র্যাজেডি থেকে রক্ষা পেয়েছেন যাত্রীরা।
এ ঘটনায় ফেরিঘাটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যানবাহনের যান্ত্রিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং ফেরিতে ওঠানামার প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়রা ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে আরও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

আপডেট : ০১:২১:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

আবারও দৌলতদিয়া ঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস পদ্মায়, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন যাত্রীরা

আপডেট : ০১:২১:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
২৪

দৈনিক পদ্মা সংবাদ।
রাজবাড়ী, ৫ জুন: রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে ফেরিতে ওঠার আগে বাসের সব যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়ায় এ যাত্রায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দৌলতদিয়ার ৭ নম্বর ফেরিঘাটে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী এসবি পরিবহনের একটি বাস ফেরি ‘করবী’-তে ওঠার সময় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন ভেঙে সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘাটে পৌঁছানোর পর নিয়ম অনুসারে বাসের সব যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে ফেরিতে ওঠার সময় বাসটির ব্রেক বিকল হয়ে গেলে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান এবং মুহূর্তের মধ্যেই বাসটি নদীতে তলিয়ে যায়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, র‌্যাব, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এবং ডুবুরি দলের সদস্যরা। উদ্ধারকারীরা পানির নিচে বাসটির অবস্থান শনাক্ত করে রশি দিয়ে বেঁধে রাখেন। পরে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাস উদ্ধারের কার্যক্রম শুরু করে।
নদীতে পড়ে যাওয়া বাসের চালক, হেলপার ও সুপারভাইজারকে স্থানীয়দের সহায়তায় জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। আহতদের গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন থেকে নদীতে পড়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো যাত্রী হতাহত বা নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। কোনো যাত্রীর স্বজনও নিখোঁজের অভিযোগ নিয়ে প্রশাসনের কাছে আসেননি।
উল্লেখ্য, গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে একই ধরনের দুর্ঘটনায় একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে ডুবে গিয়ে ২৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল। ওই দুর্ঘটনার পর ফেরিতে ওঠার আগে সব যাত্রীকে বাস থেকে নামিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা জারি করা হয়। শুক্রবারের ঘটনায় সেই নির্দেশনা কার্যকর থাকায় সম্ভাব্য ভয়াবহ ট্র্যাজেডি থেকে রক্ষা পেয়েছেন যাত্রীরা।
এ ঘটনায় ফেরিঘাটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যানবাহনের যান্ত্রিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং ফেরিতে ওঠানামার প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়রা ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে আরও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।