উপলব্ধির পাতা থেকে।।সাম্প্রতিক চলমান ঘটনাপ্রবাহ জীবন- মৃত্যু!

রাশিদা-য়ে আশরার,কবি ও সাহিত্য সম্পাদক দৈনিক পদ্মা সংবাদ।
“জন্মিলে মরিতে হয়” আর একথা অবধারিত সত্য
এবং চিরন্তন…তাই “জন্ম হোক যথা তথা কর্ম হোক ভালো।”
মানুষ তার কর্ম দ্বারা বেঁচে থাকতে পারে যুগ যুগ অনন্ত কাল ইতিহাসের পাতায় ও মানুষের অন্তরে। সবাই যে বড় কিছু করতে পারে তা নয়, কেউ ধ্বনি- কেউ দরিদ্র, সফলতা ব্যর্থতা, সুস্থতা- অসুস্থতা সব সৃষ্টিকর্তার দান।
যিনি আমাদের পালনকর্তা তাঁর ইচ্ছা ছাড়া আমরা কিছুই করতে পারি না। এমনকি তাঁর ইবাদত করতে ও আমরা সক্ষম নই। আমরা চেষ্টা করতে পারি সাধনা, প্রচেষ্টা ও অধ্যাবসায়, একনিষ্ঠতা ও ভাগ্য দ্বারা আমরা আমাদের উদ্দেশ্যে সফল হতে পারি।
পালনকর্তা মানুষ কে কাজ করার সক্ষমতা দান করেই প্রেরণ করেছেন। উদাহরণ স্বরূপ একটি শিশু যখন জন্মগ্রহণ করে তখন সে কিছুই পারেনা ধীরে ধীরে সবকিছু শিখে যায়, সময়ের সাথে সাথে সবকিছু তার অর্জিত হয়। আর এর পিছনে পিতা মাতার অবদান, শিক্ষক পারিপার্শ্বিকতা- পরিবেশ আর সর্বোপরি মহান আল্লাহর রহমত যিনি দুনিয়া আখিরাতের মালিক তাঁর কৃপা। এভাবেই আমরা আমাদের ভাগ্য, কর্ম চেষ্টা- প্রচেষ্টা দ্বারা প্রবাহিত হয়ে জীবন ধারণে সক্ষম হই বংশ পরম্পরায়।
মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব। সৃষ্টিকর্তা মানব দেহ গঠন করেছেন সুনিপুণভাবে- শ্রেষ্ঠত্ব দিয়ে, অঙ্গ পতঙ্গ প্রতিটি জিনিস দিয়ে সুবিন্যস্ত করেছেন। দেখার জন্য চোখ শোনার জন্য কান, জানা- বোঝার ও উপলব্ধি করার জন্য দান করেছেন মন অন্তর, হৃদয়াঙ্গম করার জন্য হৃদয় দিয়ে মানুষ কে পরিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ করেছেন! দান করেছন খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা শিক্ষার মত মৌলিক বিষয়, সংসার পিতা- মাতা সন্তান। পরিচয় দিয়েছেন নিজেরও রাসূল (সঃ) সম্পর্কে কুরআন মাজীদ এবং সুরা ইখলাস এর মাধ্যমে! আর একজন পরিপূর্ণ মানুষ হিসাবে জন্মগ্রহণ করার নিশ্চয় একটি কারণ রয়েছে। প্রতিটি আত্মা তার নিজ নিজ ধর্মকর্ম পালন করবে সেটাই তো স্বাভাবিক। সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছাই মানুষ, পৃথিবীর আকাশ- বাতাস, জীবজন্তু পৃথিবীর সকল কিছু সৃষ্টি হয়েছে তা নিশ্চয়ই মানুষের কল্যাণের জন্য। তবুও কেন আমরা তাঁর শুকরিয়া আদায় করবো না?
সৃষ্টিকর্তা পৃথিবী যেমন তিনি ৭ দিনে সৃষ্টি করেছেন জানা যায়, তেমনই সভ্যতার ক্রমবিকাশ একদিনে হয়নি দিনে দিনে আদিম যুগ থেকে ক্রমবর্ধমান ধারায় আজ উন্নতির- উৎকর্ষের মানুষ অবস্থান করছে। সৃষ্টিকর্তার অশেষ দান- জীবন মৃত্যু ছাড়া এহেন কাজ নেই মানুষ করতে সক্ষম নয়। যদি কেউ মনে করে তিনি শুধু বলেন হও তখনই সবকিছু সংগঠিত হয়ে যায় কিন্তু তবুও কেন পৃথিবী ৭-দিনে সৃষ্টি করলেন? উদাহরণ স্বরূপঃ ধরুন একটি শিশু প্রথম শ্রেণীতে অবতীর্ণ হলো কিন্তু দশম শ্রেণি অর্থাৎ এসএসসি পাস করতে সে কি সক্ষম? ধীরে ধীরে অর্জন করতে হয় তার আরও -৯ টি ক্লাস অতিক্রম করতে হয় ক্রমান্বয়ে। তেমনি আমরা অনুধাবন করতে পারি বিরাট মানব শিশুর ক্ষেত্রেও। কারণ আমরা মানুষ জাতি আল্লাহ তায়ালার নিকট তেমনি। যিনি সাত আসমানের উপরে থেকে সামান্য পিপীলিকা পায়ের আওয়াজ শুনতে পান ও তার চলা অবলোকন করতে পারেন, তেমনি দেখতে পান আমাদের ঘরের দরজা বন্ধ করে করা পাপকে ও।
বর্তমান সময়ে মানুষের মানবতা মনুষত্ব এতটাই ভূলুণ্ঠিত ও অন্ধকারে নিমজ্জিত তা “আইয়্যামে জাহেলিয়া”বা অন্ধকার যুগকেও হার মানায়। কারন মানুষ জেনে বুঝে যখন পাপ করে তখন হয়ে যায় ক্ষমার অযোগ্য এবং গর্হিত অপরাধ। জ্ঞান- বিজ্ঞান, শিল্প-সাহিত্য, সৃষ্টি- সৃজনশীলতার প্রেক্ষাপটে মানুষ এখন সভ্যতার স্বর্ণযুগে এসেও নিজেদের স্থান- অবস্থান কর্ম সম্পর্কে সচেতন নয়। বরং দিন দিন আরও বেশি অধঃপতনের সম্মুখে অবস্থান করছে,মানুষের দ্বারা সৃষ্ট হচ্ছে জঘন্যতম অপরাধ যা পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট!
সাম্প্রতিক চলমান ঘটনা প্রবাহ বিবেককে নাড়া দেয়
চরমভাবে… দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা চাঞ্চল্যকর রহস্য জনক
রোমহর্ষক ঘটনা অন্ধকার যুগ কেও হার মানায়!
ফাহাদ হত্যা মামলা যা আজও বিচারাধীন- তিনি যেভাবে গণপিটুনির শিকার হন তা ভাবলেও
গা শিউরে ওঠে! তেমনই আরেকটি ঘটনা মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত হত্যা; আগুনে পুড়িয়ে তাকে যেভাবে হত্যা করা হয় তা মাদ্রাসা নামক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে মানুষের বিশ্বাস উঠে যায়! স্কুলে ভর্তি করতে যেয়ে একটি মা পর্দার আড়ালে থেকেও নিরাপদ নয়; তাকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয় যাচাই-বাছাই না করে শুধুমাত্র সন্দেহের কারণে! চলন্ত বাস থেকে ফেলে দেয়া হয় যাত্রীকে, সেইসঙ্গে চলন্ত বাসে গণধর্ষণ…প্রেমিকের সামনে প্রেমিকাকে ধর্ষণ! আরো নানা অপকর্ম চুরি-ছিনতাই এরকম হাজারো অপরাধ মা
এই ছোট্ট পরিসরে উল্লেখ করা সম্ভব নয় আর তা অপরিহার্য নয় কারণ আমরা সকলেই কমবেশি বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে অবহিত।
এই যদি হয় মানুষরূপী শ্রেষ্ঠ মানুষের আচরণ তাহলে কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় আমাদের জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্প সাহিত্য ও পৃষ্ঠপোষকতার মান? মানুষ হিসাবে জন্মগ্রহণ করে কি আমাদের জীবন বৃথা নয়?
আজ কোথাও নিরাপদ নই আমরা- সবসময় একটা ভয় ভীতির র মধ্যে অবস্থান করছি, কোথাও সুখ- শান্তির ছোঁয়া নেই- স্বার্থপরতা ও অস্থিরতায় ভরা গোটা সমাজ। জীব জন্তুকে তবুও আমরা সামনে থেকে দেখলে বুঝতে পারি কে কতটা আক্রমণ করতে পারে তা থেকে সতর্ক হতে পারি। কিন্তু মানুষ এমনই যে যার দেখলে বোঝা যায় না তার মধ্যে কি চলছে? সে কতটা আক্রমনাত্মক-এই মুহূর্তে কি করতে চলেছে আর সে কতটা ভয়ঙ্কর!
মানুষ সামাজিক জীব মিলেমিশে বাস করাই যাদের প্রয়োজন। কারণ একজন অপরজনের উপর নির্ভরশীল, অথচ মানুষকে দেখেই এখন মানুষের সবচেয়ে বেশি ভয়। জিন ভূত প্রেত, এমনকি জীবজন্তু
আজ বিলুপ্ত প্রায় মানুষের ভয়ঙ্কর রূপ ও পদচারণা
এ বিশ্বকে পাপের সাম্রাজ্য ও নাপাক করে তুলছে।
ছোট্ট একটা জীবন পাপের বোঝা মাথায় করে ভারী করে তুলছে অনন্তকালের জীবনের হিসাব নিকাশ।
আসল নিজেকে জানি নিজের অস্তিত্ব সম্পর্কে করণীয় কাজ সম্পর্কে বিবেক বোধ কে জাগিয়ে তুলি।
ক্ষমা- দোয়ায় ও প্রার্থনায় নিজেদেরকে উন্নত করি।
সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত পবিত্র আল-কোরআন ও আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের হাদিস সম্পর্কে অবগত হয়ে যথাযথভাবে নিজেদের জীবন ও সন্তানদের জীবন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আরো সচেষ্ট হই, যত্নবান হই আর তাতেই মুক্তি।
ইনশাআল্লাহ।






















