চুয়াডাঙ্গা ১১:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাশির সিরাপের বোতলের ওপর চলল রোড রোলার, বালুরঘাটে প্রায় ২ লাখ বোতল ধ্বংস মাদকবিরোধী অভিযানে বড় বার্তা প্রশাসনের, নেশার কারবারিদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির হুঁশিয়ারি

Padma Sangbad

দৈনিক পদ্মা সংবাদ | আন্তর্জাতিক ডেস্ক।
বালুরঘাট: মাদকবিরোধী অভিযানে বড়সড় পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাটে অভিযানে বাজেয়াপ্ত বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ ধ্বংস করা হয়েছে। প্রায় ২ লাখ বোতলের ওপর রোড রোলার চালিয়ে সেগুলো নষ্ট করা হয়।
বুধবার জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এই কর্মসূচিকে ঘিরে প্রশাসনিক মহলে ছিল বিশেষ তৎপরতা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে মাদক ও নেশার বেআইনি কারবারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের বার্তা দেওয়া হয়।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ কাশির সিরাপসহ বিভিন্ন নেশাজাতীয় সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সেগুলোর একটি বড় অংশ নিয়ম মেনে ধ্বংস করা হয়েছে।
সীমান্তপথে পাচার ঠেকাতে বাড়ছে নজরদারি
দক্ষিণ দিনাজপুরের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সীমান্তপথে অবৈধ সামগ্রী পাচারের বিষয়টি প্রশাসনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি জোরদার করার পাশাপাশি পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রশাসনের দাবি, ধারাবাহিক অভিযানের ফলে একাধিক ক্ষেত্রে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে বেআইনি কারবারের সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
যুবসমাজকে নেশামুক্ত রাখার বার্তা
কর্মসূচিতে নেশার ভয়াবহ প্রভাব থেকে তরুণ প্রজন্মকে দূরে রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নেশার কারবারের বিরুদ্ধে অভিযান শুধু উদ্ধার ও ধ্বংসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর নেপথ্যে থাকা চক্র শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, নেশার অবৈধ কারবার কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। যুবসমাজকে নেশার কবল থেকে দূরে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে প্রশাসন
বালুরঘাটে বিপুল পরিমাণ কাশির সিরাপ ধ্বংসের ঘটনাকে মাদকবিরোধী অভিযানের একটি প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। রোড রোলার দিয়ে একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক বোতল ধ্বংসের মাধ্যমে নেশার বেআইনি কারবারের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান প্রকাশ পেয়েছে।
প্রশাসনের বার্তা, মাদক পাচার ও অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যেও সচেতনতা তৈরি করা হবে।
সাধারণ মানুষের সহযোগিতার আহ্বান
নেশামুক্ত সমাজ গড়তে শুধু পুলিশ ও প্রশাসনের অভিযান যথেষ্ট নয়—পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করছে প্রশাসন।
বালুরঘাটের এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে আরও কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা—নেশার অবৈধ কারবার বন্ধ করতে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং সীমান্তপথে পাচার রুখতে নজরদারি আরও শক্তিশালী করা হবে।

আপডেট : ১০:৪০:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কাশির সিরাপের বোতলের ওপর চলল রোড রোলার, বালুরঘাটে প্রায় ২ লাখ বোতল ধ্বংস মাদকবিরোধী অভিযানে বড় বার্তা প্রশাসনের, নেশার কারবারিদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির হুঁশিয়ারি

আপডেট : ১০:৪০:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দৈনিক পদ্মা সংবাদ | আন্তর্জাতিক ডেস্ক।
বালুরঘাট: মাদকবিরোধী অভিযানে বড়সড় পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাটে অভিযানে বাজেয়াপ্ত বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ ধ্বংস করা হয়েছে। প্রায় ২ লাখ বোতলের ওপর রোড রোলার চালিয়ে সেগুলো নষ্ট করা হয়।
বুধবার জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এই কর্মসূচিকে ঘিরে প্রশাসনিক মহলে ছিল বিশেষ তৎপরতা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে মাদক ও নেশার বেআইনি কারবারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের বার্তা দেওয়া হয়।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ কাশির সিরাপসহ বিভিন্ন নেশাজাতীয় সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সেগুলোর একটি বড় অংশ নিয়ম মেনে ধ্বংস করা হয়েছে।
সীমান্তপথে পাচার ঠেকাতে বাড়ছে নজরদারি
দক্ষিণ দিনাজপুরের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সীমান্তপথে অবৈধ সামগ্রী পাচারের বিষয়টি প্রশাসনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি জোরদার করার পাশাপাশি পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রশাসনের দাবি, ধারাবাহিক অভিযানের ফলে একাধিক ক্ষেত্রে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে বেআইনি কারবারের সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
যুবসমাজকে নেশামুক্ত রাখার বার্তা
কর্মসূচিতে নেশার ভয়াবহ প্রভাব থেকে তরুণ প্রজন্মকে দূরে রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নেশার কারবারের বিরুদ্ধে অভিযান শুধু উদ্ধার ও ধ্বংসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর নেপথ্যে থাকা চক্র শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, নেশার অবৈধ কারবার কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। যুবসমাজকে নেশার কবল থেকে দূরে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে প্রশাসন
বালুরঘাটে বিপুল পরিমাণ কাশির সিরাপ ধ্বংসের ঘটনাকে মাদকবিরোধী অভিযানের একটি প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। রোড রোলার দিয়ে একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক বোতল ধ্বংসের মাধ্যমে নেশার বেআইনি কারবারের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান প্রকাশ পেয়েছে।
প্রশাসনের বার্তা, মাদক পাচার ও অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যেও সচেতনতা তৈরি করা হবে।
সাধারণ মানুষের সহযোগিতার আহ্বান
নেশামুক্ত সমাজ গড়তে শুধু পুলিশ ও প্রশাসনের অভিযান যথেষ্ট নয়—পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করছে প্রশাসন।
বালুরঘাটের এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে আরও কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা—নেশার অবৈধ কারবার বন্ধ করতে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং সীমান্তপথে পাচার রুখতে নজরদারি আরও শক্তিশালী করা হবে।