চুয়াডাঙ্গা ১০:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৬৪ দিনে ২৫৯ প্রাণহানি: বৃষ্টি, পাহাড়ধস ও হড়পা বানে বিপর্যস্ত হিমাচল রাজ্যজুড়ে এখনও বন্ধ ১৫০ সড়ক, ক্ষয়ক্ষতি ছাড়িয়েছে ১২০০ কোটি টাকা

Padma Sangbad
১৮

অনলাইন নিউজ ডেস্ক।
ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় পার্বত্য রাজ্য হিমাচল প্রদেশে এবারের বর্ষা মৌসুমে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে প্রকৃতি। টানা বৃষ্টি, পাহাড়ধস, হড়পা বান এবং সড়ক দুর্ঘটনায় গত ৬৪ দিনে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২৫৯ জন। একই সময়ে আহত হয়েছেন আরও ৪৬৮ জন। দুর্যোগের প্রভাব কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই নতুন করে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
স্টেট ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টারের (এসইওসি) তথ্য অনুযায়ী, ৩০ জুন থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজ্যটিতে বর্ষাজনিত বিভিন্ন ঘটনায় ১০৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পাহাড়ধসে প্রাণ হারিয়েছেন ১৮ জন। প্রবল পানির স্রোতে ভেসে যাওয়া ও পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে ১৩ জনের। এ ছাড়া গাছ উপড়ে পড়া এবং পাহাড় থেকে গড়িয়ে আসা পাথরের নিচে চাপা পড়ে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
তবে বর্ষাকালীন দুর্যোগের পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনাও প্রাণহানির বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ৬৪ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৫৩ জন।
জেলাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে শিমলা ও সিরমৌর জেলায়। উভয় জেলাতেই ১৯ জন করে মারা গেছেন।
বিধ্বস্ত অবকাঠামো, বাড়ছে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ
প্রাকৃতিক দুর্যোগে শুধু প্রাণহানিই নয়, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে হিমাচলের ঘরবাড়ি, সড়ক, বিদ্যুৎব্যবস্থা ও অন্যান্য অবকাঠামো। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে ৩৪টি বাড়ি, আর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরও ৪৫১টি।
দুর্যোগে প্রাণ হারিয়েছে প্রায় ৪৫০টি গবাদিপশু। সরকারি ও বেসরকারি খাত মিলিয়ে মোট সম্পত্তির ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১২০০ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে এসইওসি।
এদিকে ভূমিধস ও প্রবল বৃষ্টির কারণে রাজ্যের যোগাযোগব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বর্তমানে হিমাচলজুড়ে ১৫০টি সড়ক বন্ধ রয়েছে।
সবচেয়ে বেশি সড়ক বন্ধ রয়েছে মন্ডী জেলায়—৭৮টি। এরপর শিমলায় ৩০টি সড়ক বন্ধ রয়েছে। ফলে প্রত্যন্ত ও পাহাড়ি এলাকার মানুষের স্বাভাবিক যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে।
বিদ্যুৎব্যবস্থায় বড় ধাক্কা
প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহেও। রাজ্যজুড়ে ৩৭৪টি বিদ্যুৎ ট্রান্সফর্মার বিকল হয়ে গেছে। এর মধ্যে মন্ডীতে ১২৮টি, শিমলায় ৮৪টি এবং কুলুতে ৮১টি ট্রান্সফর্মার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিদ্যুৎ ও সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিক এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে কাজ করতে হচ্ছে।
সামনেও ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা
এর মধ্যেই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে নতুন আবহাওয়া সতর্কতা জারি করেছে শিমলার আবহাওয়া দফতর। পূর্বাভাস অনুযায়ী, চম্বা, কাংড়া, মন্ডী, বিলাসপুর ও সিরমৌর জেলায় আগামী ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে।
ফলে নতুন করে পাহাড়ধস, হড়পা বান এবং সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে।
হিমাচল প্রদেশের চলমান পরিস্থিতি আবারও দেখিয়ে দিচ্ছে, পাহাড়ি অঞ্চলে অতিবৃষ্টির সঙ্গে অবকাঠামোগত ঝুঁকি কতটা দ্রুত বড় ধরনের মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকটে রূপ নিতে পারে। আগামী কয়েক দিনের আবহাওয়া পরিস্থিতিই এখন নির্ধারণ করবে দুর্যোগের মাত্রা আরও বাড়বে, নাকি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে শুরু করবে রাজ্যটি।
উৎস ও সময়সীমা আরও স্পষ্ট করুন
প্রতিবেদনের ভাষা আরও নিরপেক্ষ করুন
শিরোনামে মূল তথ্য আরও সংক্ষিপ্ত করুন

আপডেট : ০৫:১৭:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৬৪ দিনে ২৫৯ প্রাণহানি: বৃষ্টি, পাহাড়ধস ও হড়পা বানে বিপর্যস্ত হিমাচল রাজ্যজুড়ে এখনও বন্ধ ১৫০ সড়ক, ক্ষয়ক্ষতি ছাড়িয়েছে ১২০০ কোটি টাকা

আপডেট : ০৫:১৭:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৮

অনলাইন নিউজ ডেস্ক।
ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় পার্বত্য রাজ্য হিমাচল প্রদেশে এবারের বর্ষা মৌসুমে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে প্রকৃতি। টানা বৃষ্টি, পাহাড়ধস, হড়পা বান এবং সড়ক দুর্ঘটনায় গত ৬৪ দিনে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২৫৯ জন। একই সময়ে আহত হয়েছেন আরও ৪৬৮ জন। দুর্যোগের প্রভাব কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই নতুন করে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
স্টেট ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টারের (এসইওসি) তথ্য অনুযায়ী, ৩০ জুন থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজ্যটিতে বর্ষাজনিত বিভিন্ন ঘটনায় ১০৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পাহাড়ধসে প্রাণ হারিয়েছেন ১৮ জন। প্রবল পানির স্রোতে ভেসে যাওয়া ও পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে ১৩ জনের। এ ছাড়া গাছ উপড়ে পড়া এবং পাহাড় থেকে গড়িয়ে আসা পাথরের নিচে চাপা পড়ে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
তবে বর্ষাকালীন দুর্যোগের পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনাও প্রাণহানির বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ৬৪ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৫৩ জন।
জেলাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে শিমলা ও সিরমৌর জেলায়। উভয় জেলাতেই ১৯ জন করে মারা গেছেন।
বিধ্বস্ত অবকাঠামো, বাড়ছে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ
প্রাকৃতিক দুর্যোগে শুধু প্রাণহানিই নয়, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে হিমাচলের ঘরবাড়ি, সড়ক, বিদ্যুৎব্যবস্থা ও অন্যান্য অবকাঠামো। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে ৩৪টি বাড়ি, আর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরও ৪৫১টি।
দুর্যোগে প্রাণ হারিয়েছে প্রায় ৪৫০টি গবাদিপশু। সরকারি ও বেসরকারি খাত মিলিয়ে মোট সম্পত্তির ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১২০০ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে এসইওসি।
এদিকে ভূমিধস ও প্রবল বৃষ্টির কারণে রাজ্যের যোগাযোগব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বর্তমানে হিমাচলজুড়ে ১৫০টি সড়ক বন্ধ রয়েছে।
সবচেয়ে বেশি সড়ক বন্ধ রয়েছে মন্ডী জেলায়—৭৮টি। এরপর শিমলায় ৩০টি সড়ক বন্ধ রয়েছে। ফলে প্রত্যন্ত ও পাহাড়ি এলাকার মানুষের স্বাভাবিক যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে।
বিদ্যুৎব্যবস্থায় বড় ধাক্কা
প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহেও। রাজ্যজুড়ে ৩৭৪টি বিদ্যুৎ ট্রান্সফর্মার বিকল হয়ে গেছে। এর মধ্যে মন্ডীতে ১২৮টি, শিমলায় ৮৪টি এবং কুলুতে ৮১টি ট্রান্সফর্মার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিদ্যুৎ ও সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিক এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে কাজ করতে হচ্ছে।
সামনেও ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা
এর মধ্যেই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে নতুন আবহাওয়া সতর্কতা জারি করেছে শিমলার আবহাওয়া দফতর। পূর্বাভাস অনুযায়ী, চম্বা, কাংড়া, মন্ডী, বিলাসপুর ও সিরমৌর জেলায় আগামী ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে।
ফলে নতুন করে পাহাড়ধস, হড়পা বান এবং সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে।
হিমাচল প্রদেশের চলমান পরিস্থিতি আবারও দেখিয়ে দিচ্ছে, পাহাড়ি অঞ্চলে অতিবৃষ্টির সঙ্গে অবকাঠামোগত ঝুঁকি কতটা দ্রুত বড় ধরনের মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকটে রূপ নিতে পারে। আগামী কয়েক দিনের আবহাওয়া পরিস্থিতিই এখন নির্ধারণ করবে দুর্যোগের মাত্রা আরও বাড়বে, নাকি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে শুরু করবে রাজ্যটি।
উৎস ও সময়সীমা আরও স্পষ্ট করুন
প্রতিবেদনের ভাষা আরও নিরপেক্ষ করুন
শিরোনামে মূল তথ্য আরও সংক্ষিপ্ত করুন