চুয়াডাঙ্গা ০৬:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কোটচাঁদপুরে অল্প খরচে অধিক লাভের সরিষার হলুদ ফুলে দুলছে কৃষকের স্বপ্ন

Padma Sangbad
১০৪

কোটচাঁদপুর সংবাদদাতা ।।

প্রকৃতিতে যেন বসন্ত লেগেছে। অথচ এখন পৌষ মাস। মাঝে মধ্যে সকাল আর বিকেল কুয়াশায় প্রতিচ্ছবি দেখা যাচ্ছে। দূর থেকে সরিষার হলুদ ফুলের আভার হাতছানি। চারদিকে যেন হলুদের সমাহার। ঠিক যেন মনে হচ্ছে রূপকথার রাজকুমারীর গায়ে হলুদ। সবাই কনেকে দলবেঁধে হলুদ দিতে এসেছেন। প্রজাপতি, মৌমাছি, হলুদিয়া-নীলরঙা পাখি, পোকামাকড়রাও এসেছে দলবেঁধে। দেখে মনে হচ্ছে এ যেন হলুদের মিলনমেলা। সরিষার হলুদ ফুলে ভরে গেছে মাঠের পর মাঠ। কৃষকের রঙিন স্বপ্ন দুলছে শিশির ভেজা সরিষার হলুদ ফুলের ডগায়। এখানকার উৎপাদিত সবজি, চাল-ডাল সরিষার সুনাম রয়েছে দেশজুড়ে। কিন্তু লাগাতার ধান-পাটসহ উৎপাদিত কৃষিপণ্যের দাম না পাওয়ায় কৃষকরা ঝুঁকছেন লাভজনক ফসল সরিষা চাষের দিকে।

গত মৌসুমে স্থানীয় বাজারগুলোতে সরিষার দাম ভালো পাওয়ায় কৃষকরা চলতি মৌসুমে সরিষা চাষে অধিক আগ্রহী হয়েছেন। বর্তমানে উপজেলার মাঠে মাঠে সরিষার হলুদ ফুল শোভা পাচ্ছে। মৌমাছিরা সরিষা ক্ষেতে ভিড় করছে মধু সংগ্রহ করতে। চলতি মৌসুমে উপজেলায় সরিষার বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা।

পৌর এলাকার সরিষা চাষী ফিরজ ও ইকরাম বলেন, কম খরচ, কম পরিশ্রম আর কম সময়ে সরিষা চাষ করা যায় বলে এটি অত্যন্ত লাভজনক ফসল। প্রতি বিঘা জমি থেকে চলতি মৌসুমে ৬-৮ মণ হারে সরিষা পাওয়া যাবে। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ সরিষা চার হাজার টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে দিগন্ত জোড়া মাঠের পর মাঠ। সরিষা ফুলের হলুদ রাজ্যে মৌমাছির গুঞ্জনে মুখর হয়ে উঠেছে মাঠ।

উপজেলার প্রতান্ত অঞ্চলের আরো বেশ কয়েক জন সরিষা চাষিদের সাথে কথা বললে তারা বলেন, সরিষা চাষের ফলে পরিবারের তেলের চাহিদা পূরণ করার পাশাপাশি সরিষা বিক্রি করে বোরো আবাদের খরচ যোগান দিতে পারবেন। এবার সরিষার ভালো ফলনের আশা করছেন তারা।

সরিষা চাষাবাদের ফলে আমন ও বোরো ধানের মাঝে উপরি ফসল পেয়ে তাদের লাভ হয়। পাশাপাশি নিজেদের সংসারে তেলের চাহিদাও পূরণ হয়।

গণ মাধ্যম কর্মী সুব্রত বলেন, বাজারে সয়াবিনসহ অন্যান্য ভোজ্য তেলের মূল্য বৃদ্ধির ফলে গত মৌসুমে সরিষার ব্যাপক চাহিদা ছিলো। এবারও সরিষার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। গাছ দেখে বোঝা যাচ্ছে ফলন ভালো হবে। সরিষা একটি লাভজনক ঝুঁকিমুক্ত ফসল। সরিষার আবাদ বৃদ্ধিতে সরকার কৃষকদের বীজ, সার ও পরামর্শ দিয়ে উদ্বুদ্ধ করছে ।

উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানাযায়, চলতি মৌসুমে ৪ শত ৮০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। গত বারের চেয়ে দ্বিগুণ পরিমাণ জমিতে উন্নত জাতের সরিষা চাষ হয়েছে। আগাম জাতের সরিষায় ফুল আসাও শুরু করেছে। তেল জাতীয় ফসল চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে চলতি মৌসুমে উপজেলার ৪৫০ জন কৃষককে কৃষি প্রণোদনার অংশ হিসেবে বিনামূল্যে উন্নত জাতের সরিষার বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে।তিনি আরো বলেন, সরিষা চাষ সম্প্রসারণের জন্য কৃষি বিভাগ অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। এছাড়াও অন্যান্য অনুষ্ঠানের আরও অনেক কৃষকের মাঝে বিতরন করা হয়েছে।

বিভিন্ন প্রশিক্ষণে সরিষা চাষের উপকারিতা কৃষকদের কাছে তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি তেলের দাম বেড়ে গেছে। এ জন্য কৃষকরা আগ্রহী হয়ে এবার বেশি পরিমাণ সরিষা চাষ করেছেন।

আপডেট : ০৭:৩৯:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৪

কোটচাঁদপুরে অল্প খরচে অধিক লাভের সরিষার হলুদ ফুলে দুলছে কৃষকের স্বপ্ন

আপডেট : ০৭:৩৯:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৪
১০৪

কোটচাঁদপুর সংবাদদাতা ।।

প্রকৃতিতে যেন বসন্ত লেগেছে। অথচ এখন পৌষ মাস। মাঝে মধ্যে সকাল আর বিকেল কুয়াশায় প্রতিচ্ছবি দেখা যাচ্ছে। দূর থেকে সরিষার হলুদ ফুলের আভার হাতছানি। চারদিকে যেন হলুদের সমাহার। ঠিক যেন মনে হচ্ছে রূপকথার রাজকুমারীর গায়ে হলুদ। সবাই কনেকে দলবেঁধে হলুদ দিতে এসেছেন। প্রজাপতি, মৌমাছি, হলুদিয়া-নীলরঙা পাখি, পোকামাকড়রাও এসেছে দলবেঁধে। দেখে মনে হচ্ছে এ যেন হলুদের মিলনমেলা। সরিষার হলুদ ফুলে ভরে গেছে মাঠের পর মাঠ। কৃষকের রঙিন স্বপ্ন দুলছে শিশির ভেজা সরিষার হলুদ ফুলের ডগায়। এখানকার উৎপাদিত সবজি, চাল-ডাল সরিষার সুনাম রয়েছে দেশজুড়ে। কিন্তু লাগাতার ধান-পাটসহ উৎপাদিত কৃষিপণ্যের দাম না পাওয়ায় কৃষকরা ঝুঁকছেন লাভজনক ফসল সরিষা চাষের দিকে।

গত মৌসুমে স্থানীয় বাজারগুলোতে সরিষার দাম ভালো পাওয়ায় কৃষকরা চলতি মৌসুমে সরিষা চাষে অধিক আগ্রহী হয়েছেন। বর্তমানে উপজেলার মাঠে মাঠে সরিষার হলুদ ফুল শোভা পাচ্ছে। মৌমাছিরা সরিষা ক্ষেতে ভিড় করছে মধু সংগ্রহ করতে। চলতি মৌসুমে উপজেলায় সরিষার বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা।

পৌর এলাকার সরিষা চাষী ফিরজ ও ইকরাম বলেন, কম খরচ, কম পরিশ্রম আর কম সময়ে সরিষা চাষ করা যায় বলে এটি অত্যন্ত লাভজনক ফসল। প্রতি বিঘা জমি থেকে চলতি মৌসুমে ৬-৮ মণ হারে সরিষা পাওয়া যাবে। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ সরিষা চার হাজার টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে দিগন্ত জোড়া মাঠের পর মাঠ। সরিষা ফুলের হলুদ রাজ্যে মৌমাছির গুঞ্জনে মুখর হয়ে উঠেছে মাঠ।

উপজেলার প্রতান্ত অঞ্চলের আরো বেশ কয়েক জন সরিষা চাষিদের সাথে কথা বললে তারা বলেন, সরিষা চাষের ফলে পরিবারের তেলের চাহিদা পূরণ করার পাশাপাশি সরিষা বিক্রি করে বোরো আবাদের খরচ যোগান দিতে পারবেন। এবার সরিষার ভালো ফলনের আশা করছেন তারা।

সরিষা চাষাবাদের ফলে আমন ও বোরো ধানের মাঝে উপরি ফসল পেয়ে তাদের লাভ হয়। পাশাপাশি নিজেদের সংসারে তেলের চাহিদাও পূরণ হয়।

গণ মাধ্যম কর্মী সুব্রত বলেন, বাজারে সয়াবিনসহ অন্যান্য ভোজ্য তেলের মূল্য বৃদ্ধির ফলে গত মৌসুমে সরিষার ব্যাপক চাহিদা ছিলো। এবারও সরিষার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। গাছ দেখে বোঝা যাচ্ছে ফলন ভালো হবে। সরিষা একটি লাভজনক ঝুঁকিমুক্ত ফসল। সরিষার আবাদ বৃদ্ধিতে সরকার কৃষকদের বীজ, সার ও পরামর্শ দিয়ে উদ্বুদ্ধ করছে ।

উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানাযায়, চলতি মৌসুমে ৪ শত ৮০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। গত বারের চেয়ে দ্বিগুণ পরিমাণ জমিতে উন্নত জাতের সরিষা চাষ হয়েছে। আগাম জাতের সরিষায় ফুল আসাও শুরু করেছে। তেল জাতীয় ফসল চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে চলতি মৌসুমে উপজেলার ৪৫০ জন কৃষককে কৃষি প্রণোদনার অংশ হিসেবে বিনামূল্যে উন্নত জাতের সরিষার বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে।তিনি আরো বলেন, সরিষা চাষ সম্প্রসারণের জন্য কৃষি বিভাগ অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। এছাড়াও অন্যান্য অনুষ্ঠানের আরও অনেক কৃষকের মাঝে বিতরন করা হয়েছে।

বিভিন্ন প্রশিক্ষণে সরিষা চাষের উপকারিতা কৃষকদের কাছে তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি তেলের দাম বেড়ে গেছে। এ জন্য কৃষকরা আগ্রহী হয়ে এবার বেশি পরিমাণ সরিষা চাষ করেছেন।