গরুর ঘাস কাটা নিয়ে রাতে টর্চলাইট জ্বালিয়ে সংঘর্ষ, ইউপি চেয়ারম্যানসহ আহত ১৫

দৈনিক পদ্মা সংবাদ নিজস্ব ডেস্ক:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ক্ষেত থেকে গরুর ঘাস কাটা নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রাতের আঁধারে টর্চলাইটের আলো জ্বালিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে চালানো এ সংঘর্ষে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যানসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে সরাইল-নাসিরনগর আঞ্চলিক সড়কের বড্ডাপাড়া এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকালে বড্ডাপাড়া গ্রামের ইকিন আলীর ছেলে আলমগীর নিজ এলাকার একটি জমি থেকে গরুর জন্য ঘাস কাটতে যান। এ নিয়ে একই গ্রামের জাহের মিয়ার ছেলে ফারুক ও হুমায়ুনের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ফারুক ও হুমায়ুন উত্তেজিত হয়ে আলমগীরকে মারধর করেন। ঘটনাটি গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়।
উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্থানীয় মুরুব্বি ও গ্রাম্য সর্দাররা বিষয়টি মীমাংসার উদ্দেশ্যে সালিশ বৈঠকে বসেন। কিন্তু সালিশ চলাকালে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সরাইল-নাসিরনগর আঞ্চলিক সড়কে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। অন্ধকারের মধ্যে টর্চলাইটের আলো ফেলে বেশ কিছুক্ষণ ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে, যা পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে সরাইল সদর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বারসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সরাইল-আশুগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম জানান, “ঘাস কাটার তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে এই অপ্রীতিকর সংঘর্ষ ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিশৃঙ্খলা এড়াতে এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং ঘটনার বিষয়ে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”




















