চুয়াডাঙ্গা ০৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজনৈতিক কারণে বাধ্য হয়ে ১৭ বছর বিদেশে থাকতে হয়েছিল: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

Padma Sangbad
৯

দৈনিক পদ্মা সংবাদ নিজস্ব ডেস্ক:
রাজনৈতিক কারণে বাধ্য হয়ে টানা ১৭ বছর দেশের বাইরে প্রবাসে কাটাতে হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সাথে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেছেন, ধর্মের পরিচয়ে নয়, বরং বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরীর ঐতিহ্যবাহী জেএম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “আমি একজন মুসলমান। রাজনৈতিক কারণে আমাকে বাধ্য হয়ে দীর্ঘ ১৭ বছর প্রবাসে কাটাতে হয়েছে। ধর্মীয় দিক থেকে মুসলমান হিসেবে হয়তো আমি সংখ্যাগুরু, কিন্তু এই স্বাধীন সার্বভৌম দেশের ওপর একজন হিন্দু বা বৌদ্ধ কিংবা খ্রিষ্টান নাগরিকের যে সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে, আমারও ঠিক একই অধিকার রয়েছে। এই রাষ্ট্র নাগরিক হিসেবে আপনাকে যা সুবিধা দেবে, আমাকেও ঠিক তাই দেবে। রাষ্ট্র সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করবে।”
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে এ দেশের লাখ লাখ মানুষ নিজেদের জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলেন। সেই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে কেউ কারও ধর্মীয় পরিচয় সন্ধান করেনি। সবাই একসাথে যুদ্ধ করেছিলেন একটি স্বাধীন ভূখণ্ডের আশায়।
স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে দেশে গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জনগণের ভোটাধিকার ও বাকস্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনগুলোতে দেশের সর্বস্তরের মানুষ রাজপথে নেমে এসেছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, স্বৈরাচার হটাতে দেশের ছাত্র-জনতা, মা-বোন, শিশু ও যুবকেরা যে অভূতপূর্ব আন্দোলন গড়ে তুলেছিল, সেখানেও ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য ছিল না।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, স্বৈরাচারের গুলিতে যখন আন্দোলনকারীরা রাজপথে লুটিয়ে পড়েছিলেন এবং চিকিৎসকেরা তাঁদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন, তখন কেউ জানতে চায়নি গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিটি মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ নাকি খ্রিষ্টান। তাই অসাম্প্রদায়িক চেতনার এই বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষের সমান মর্যাদা রক্ষা করাই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

আপডেট : ০২:১৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

রাজনৈতিক কারণে বাধ্য হয়ে ১৭ বছর বিদেশে থাকতে হয়েছিল: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আপডেট : ০২:১৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
৯

দৈনিক পদ্মা সংবাদ নিজস্ব ডেস্ক:
রাজনৈতিক কারণে বাধ্য হয়ে টানা ১৭ বছর দেশের বাইরে প্রবাসে কাটাতে হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সাথে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেছেন, ধর্মের পরিচয়ে নয়, বরং বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরীর ঐতিহ্যবাহী জেএম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “আমি একজন মুসলমান। রাজনৈতিক কারণে আমাকে বাধ্য হয়ে দীর্ঘ ১৭ বছর প্রবাসে কাটাতে হয়েছে। ধর্মীয় দিক থেকে মুসলমান হিসেবে হয়তো আমি সংখ্যাগুরু, কিন্তু এই স্বাধীন সার্বভৌম দেশের ওপর একজন হিন্দু বা বৌদ্ধ কিংবা খ্রিষ্টান নাগরিকের যে সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে, আমারও ঠিক একই অধিকার রয়েছে। এই রাষ্ট্র নাগরিক হিসেবে আপনাকে যা সুবিধা দেবে, আমাকেও ঠিক তাই দেবে। রাষ্ট্র সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করবে।”
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে এ দেশের লাখ লাখ মানুষ নিজেদের জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলেন। সেই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে কেউ কারও ধর্মীয় পরিচয় সন্ধান করেনি। সবাই একসাথে যুদ্ধ করেছিলেন একটি স্বাধীন ভূখণ্ডের আশায়।
স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে দেশে গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জনগণের ভোটাধিকার ও বাকস্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনগুলোতে দেশের সর্বস্তরের মানুষ রাজপথে নেমে এসেছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, স্বৈরাচার হটাতে দেশের ছাত্র-জনতা, মা-বোন, শিশু ও যুবকেরা যে অভূতপূর্ব আন্দোলন গড়ে তুলেছিল, সেখানেও ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য ছিল না।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, স্বৈরাচারের গুলিতে যখন আন্দোলনকারীরা রাজপথে লুটিয়ে পড়েছিলেন এবং চিকিৎসকেরা তাঁদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন, তখন কেউ জানতে চায়নি গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিটি মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ নাকি খ্রিষ্টান। তাই অসাম্প্রদায়িক চেতনার এই বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষের সমান মর্যাদা রক্ষা করাই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য।